ই-সেবার মাধ্যমে চৌগাছার ১৮টি গ্রামীন পোষ্ট অফিসের চিত্র বদলে গেছে

ইয়াকুব আলী,যশোর থেকে ॥

ই-সেবার মাধ্যমে যশোরের চৌগাছা উপজেলার ১৮টি গ্রামিন পোষ্ট অফিসের সার্বিক চিত্র বদলে গেছে। প্রতিটি ডাকঘরের অবকাঠামো,জনবল ও উন্নয়নসহ একজন উদ্যোক্তা ও ১জন টেকনেশিয়ান,৪টি কম্পিউটার,২টি প্রিন্টিার ও ইন্টার ব্যবহারের জন্য মডেম দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়,১৯৭৭ সালে চৌগাছা উপজেলা গঠন হবার পর শহরে ১টি প্রধান ডাকঘর স্থাপন করা হয়। আর এই ডাকঘরের অধীনে চিঠিপত্র,মানিওর্ডার,টেলিগ্রাম ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ মাধ্যম গ্রাম-গজ্ঞের মানুষের সাথে  যোগাযোগ ও লেনদেন এগিয়ে নিতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৬টি ও মহেশপুর উপজেলার ২টি জললি,যাদবপুরসহ সর্বমোট ১৮ টি গ্রামীন পোস্ট অফিস স্থাপন করা হয়। শুরুতেই প্রতিটি পোস্ট অফিসে ১জন পোস্ট মাস্টার ও ১জন পিয়ন নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে এসব গ্রামীন পোস্ট অফিসগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। কালের বিবর্তনে ওইসব পোস্ট অফিসের কার্যক্রম একেবারেই ভেঙ্গে পড়ে। তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা গেছে এক দশক আগে বেশীরভাগ পোস্ট থেকে চিঠি পত্র পেতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ সময় লাগতো। এমনও দেখাগেছে চাকুরীর ভাইভা কার্ড,নিয়োগ পত্র যথাসময়ে না পাওয়ায় অনেকে চাকুরী পেয়েও যোগদান করতে পারেনি। পোস্ট মাস্টাররা ২শ থেকে ৩শত টাকা মাইনে পেলেও তা আবার ঠিকমত পেতেন না। অনেকে বতন না পেয়ে চাকুরী ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। অবহেলিত সেই সকল পুরাতন মান্ধাতা আমলের গ্রামীন পোস্টগুলো বর্তমান আওয়ামীলীগের সরকার ক্ষমতায় আসার পর নানামূখী উদ্যোগ গ্রহন করে।এরফলে দিন দিন গ্রামীন ডাকঘরগুলোর অবকাঠামো,জনবলসহ সার্বিক উন্নয়ন ও চিত্র বদলাতে শুরু করে। বর্তমানে পোস্ট অফিসে এখন চাকুরী পাওয়া যেন সোনার হরিন।
খোঁজনিয়ে দেখা গেছে,বর্তমানে চৌগাছা প্রধান অফিসে পোস্ট মাস্টারসহ ১৬জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছে। এই প্রধান পোস্ট অফিস আগের মত চিঠিপত্র লেদ কমলেও সরকারী চিঠিপত্র,পার্সেল,স্কুল,কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্যাদি ও খাতাপত্র অন্যান্য কার্যক্রম বেড়েছে। প্রতিদিন নগত সার্ভিসং গ্রাহক নগত আর্থিক লেনদেন হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া সার্বক্ষনিক সাধারন মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ই-সেন্টার কেন্দ্র চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে চালু করা হয়েছে। অনুরুপভাবে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ও মহেশপুর উপজেলার জললি ও যাদবপুর মিলে মোট ১৮ টি গ্রামীন ডাকঘরে ই-সেবা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ডাকঘরে ৪ জন করে নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন,নতুন জনবল নিয়োগ এবং ই-সেবা নিশ্চিত করতে একজন উদ্যোক্তা ও ১জন টেকনেশিয়ান,৪টি কম্পিউটার,২টি প্রিন্টিার ও স্কিনার মেশিন এবং ইন্টার ব্যবহারের জন্য মডেম দেয়া হয়েছে। ফলে উপজেলা ডাকঘরসহ গ্রামীন ডাকঘরগুলোর চিত্র বদলে গেছে। ঘরে বসেই গ্রামগজ্ঞের মানুষ সেবা পাচ্ছে। এখন আর শহরে ছুটে যেতে হচ্ছে না তাদের। হাকিমপুর ইউনিয়নের পোস্ট মাস্টার মাহানাজ পারভিন জানান, এরআগে এই পোস্ট অফিসে ১জন পোস্ট মাস্টার ও ১জন পিয়ন ছিল। তারা ঠিকমত বেতন না পাওয়ায় শেষমষে চাকুরী ছেড়ে দেয়। বর্তমান সরকারের আমলে গ্রামিন ডাকঘরের আমুল পরিবর্তন হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৪টি কম্পিউটার,২টি প্রিন্টিার ও স্কিনার মেশিন এবং ইন্টার ব্যবহারের জন্য মডেম দেয়া হয়েছে।
উপজেলা পোস্ট মাস্টার সুফল চন্দ্র বিশ^াস জানান, সরকারী চিঠিপত্র,পার্সেল,স্কুল,কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্যাদি ও খাতাপত্র অন্যান্য কার্যক্রম বেড়েছে। প্রতিদিন নগত সার্ভিসং গ্রাহক নগত আর্থিক লেনদেন হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস পারভিন জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রামীন ডাকঘরে চিত্র বদলে দিতে নানামূখী উদ্যোগ নেয়। জনগনের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে ডাকবিভাগ। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে সার্বক্ষনিক সাধারন মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে প্রধান ডাকঘরসহ গ্রামীন ১৮টি ডাকঘরেই ই-সেন্টার চালু করা হয়েছে।

1 comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.