ভৈরবে খেলাঘরের কৃতী শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে আলোচকরা “আমি” নয়, সব সময় “আমরা” এই ভাবনায় নিজেকে ভাবতে হবে

রাজীবুল হাসান, ভৈরব প্রতিনিধি ॥
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গতকাল শুক্রবার রাতে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন কাকলি খেলাঘর আসর আয়োজিত ২৯৮ জন কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান করা হয় ।
অনুষ্ঠানে ভৈরবের জিল্লর রহমান পৌর মিলনায়তনে কাকলি খেলাঘর আসরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলির সদস্য ও ভৈরব রফিকুল ইসলাম মহিলা অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দেশবরেণ্য নাট্যজন, নাট্যসারথি আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক ও খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলির সদস্য ডা: এ.কিউ.এম.সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল ফারাহ্ পলাশ, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ, পৌরসভার মেয়র এডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, সমাজকর্মী কানিজ ফাতেমা রউফ, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মো: রফিকুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষানুরাগী মির্জা মো: সুলায়মান, লেখক, নাট্যাকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গীতালি হাসান, ডা: মো: হাবিবুর রহমান।

এ সময় আলোচকরা বলেন, যে মানুষের মাঝে দেশ প্রেম নেই, নেই মানব প্রেম-সে প্রকৃত মানুষ নয়। কারণ দেশ ও মানব প্রেমই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে ফুটিয়ে তুলে। তাই আজকের মেধাবীদের দেশ ও মানব প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

ডা: এ.কিউ.এম.সিরাজুল ইসলাম বলেন, এদেশ রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীম উদ্দিন আর লালনের। এদেশ ত্রিশ লাখ হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান শহীদের রক্তে অর্জিত। এদেশ পৃথিবীর সকল দেশের রাণী। আমাদের অপার সম্ভবনাময় মানব সম্পদ আছে। আছে প্রাকৃতিক সম্পদ। আছে শক্তি-সাহস আর মেধা। সব সম্ভবনাকে কাজে লাগিয়ে একদিন আমরা অবশ্যই সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেবো, আমরাও পারি। যেমনি করে ১৯৭১ সালে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিয়ে আমরা গোটা দুনিয়াকে অবাক করে দিয়েছিলাম।

নাট্যসারথি আতাউর রহমান বক্তবে বলেন ,সারাদেশে অব্যাহতভাবে শিশু হত্যা, শিশু ধর্ষণ এবং নারীর উপর সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় আলোচকরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। লজ্জা ও আতংক প্রকাশ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়। তাঁরা এসব বন্ধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন। কামনা করেন দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপদ জীবন যাপনসহ ন্যূন্যতম মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদের কাছে দাবি করেন, কেবল পড়াশোনার চাপ নয়-শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধূলাসহ সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রতিও যেনো লক্ষ্য রাখা হয়। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে যেনো তাঁরা নিজ সন্তানদের সহায়তা করেন।
কাকলি খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নাট্যকার-নির্দেশক গোবিন্দ বাগচী, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি ভৈরব শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফারুক, কৃতী শিক্ষার্থী রাইনান সেলিম অভিক, ইশরাত জাহান নিপু প্রমূখ।

আলোচনা শেষে ২০১৫ সালে ভৈরব উপজেলা থেকে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৯৮জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এর আগে গোবিন্দ বাগচী রচিত ও নির্দেশিত নাটিক “ ইতিহাস কথা বলে” মঞ্চস্থ হয় কাকলি খেলাঘরের শিশু-কিশোর অভিনেতাদের অংশ গ্রহণে। নাটিকটিতে ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয় থেকে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। নাটকটির প্রেক্ষপট ও অভিনেতা কুশিলবদের উপস্থপনায় উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ ও আবেগ তাড়িত করে তুলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *