রাণীনগরে বছর পার না হতেই বয়তুল্লাহ সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কে বড় রকমের ধস

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :
নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া নামক স্থানে নির্মিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডেপুটি স্পিকার মরহুম বয়তুল্লাহ নামে সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়কের বড় ধরণের ধসের কারণে রাতে-আধাঁরে গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে। সেতুটির নির্মানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা না হলেও শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার কারণে এই জনপদের বসবাসকারী প্রায় লক্ষাধীক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবন যাত্রার মনোন্নয়নের লক্ষ্যে চার দশকের প্রাণের দাবি এই সেতুটি সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলাবাসীর নিবিড় বন্ধনের এই সেতুটির দুই ধারের সংযোগ সড়কের এইচবিবি এবং মাটির কাজ মানসম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে পানি জমে থাকায় ধীরে ধীরে মাটি ধসে মারাতœক গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নজরদারির অভাবে যে কোন সময় সড়কের মাটি ধসে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে এলাকা ধারণা করছে।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর নওগাঁ -৬ (রাণীনগর-আত্রাই ) আসনের আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসাবে মো: ইসরাফিল আলম নির্বচিত হওয়ার পরে তার নির্বচনী ওয়াদা মোতাবেক রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিনে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীর মহনায় জামালগঞ্জ- বান্দাইখাড়া নামক স্থানে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ’র নামে সেতু নির্মাণ করা হয়। শুরু থেকেই  নির্মাণ কাজের ক্রটির অভিযোগ উঠলেও শেষ মহুর্তে সংযোগ সড়ক দুটি দায়সারভাবে কাজ করায় বছর পার না হতেই সংযোগ সড়কের বড় রকমের ধস নামে।
রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে নওগাঁর সড়ক ও জনপদ বিভাগ হতে স্থানান্তরিত ১৭৫ মিটার আরসিসি গাডার ব্রিজের নির্মাণ প্রকল্পটি জিওবি তহবিলে আর্থিক সহযোগিতায় উপজেলা প্রকৌশলীর বাস্তবায়নে গত ১৬ জুলাই ২০১২ তারিখে দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার মহল্লার এস এন্ড এম জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো: সোহেল  সোহেল দরপত্রের শর্ত মোতাবেক জামালগঞ্জ-বান্দাইখাড়া নামক স্থানে আত্রাই নদীর উপরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ সেতু নির্মাণের কাজ পেলে ১০ সেপ্টম্বর ১০১২ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কার্য আদেশ দিলে যথা সময়ে সেতুটি নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: ইসরাফিল আলম জাঁকজমকপূর্ণ আনুুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের শুভ উদ্বোধন করেন। স্থানীয় উৎসাহী জনতা সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই আনন্দ চিত্তে সেতুর ওপর দিয়ে হালকা যানবাহনে চড়ে পায়ে হেঁটে চলাচল শুরু করে।
রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো: সাইদুর রহমান মিঞা জানান, সেতুটির সংযোগ সড়কের দুই পাশে অতিরিক্ত উঁচু হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানিতে মাটিগুলো সড়ে যাচ্ছে। যার কারণে ব্রিজের মুখে সংযোগ সড়কে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খুব শীর্ঘই এর সংস্কার কাজ করা হবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *