শ্রীবরদীতে ১০ টাকার চাল বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতি

মো.মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, শ্রীবরদী  (শেরপুর) প্রতিনিধি
ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মধ্য দিয়ে শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের পোড়াগর বাজারে হত দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত হত দরিদ্ররা ১০ টাকা কেজি দরের চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে লাভবান হচ্ছে ইউপি সদস্য, ডিলার ও বিতরণ তদারকি কর্মকর্তা। ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য।
জানাগেছে, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির আওতায় সারাদেশ ব্যাপি ক্ষুধা নিরুদ্দেশের স্লোগান নিয়ে সেপ্টেম্বর মাস থেকে হত দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ কর্মসুচি গ্রহণ করে। এর আওতায় শ্রীবরদী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিপরীতে প্রতি ইউনিয়নে ২ জন করে ২০ জন ডিলার নিয়োগ করে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাতিহাটি ইউনিয়নের পোড়াগর বাজারের ডিলার ৫ শত ৫০ কার্ডের মধ্যে শুরুতেই নিজের ইচ্ছানুযায়ী তার নিজ ওয়ার্ড ষাইট কাকড়ায় ৩ শত ১৫ টি কার্ড করে। এসকল কার্ড ধারি অনেকেই তার আতœীয় স্বজন ও নিজস্ব লোক। এ তালিকানুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে চাল উত্তোলন করে পোড়াগর বাজারে না নিয়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে সিংহভাগ চাল কলোবাজারে বিক্রি করে। এব্যাপারে ওই ইউনিয়নের বাসিন্ধা মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানসহ কয়েক জন বাদী হয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়। এ প্রেক্ষিতে অক্টোবর মাসে নিয়ম অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে তালিকা সংশোধন করে নতুন তালিকা করে তালিকানুযায়ী নতুন কার্ড দেওয়ার নির্দেশ দেয় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা। কিন্তু এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তালিকা প্রনোয়ন ও বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করে এবং সুবিধা ভোগিদের হাতে কার্ড পৌঁছে না দিয়ে নিজেদের হাতে রাখে। অক্টোবর মাসে কার্ডধারিদের কার্ড না দিয়ে তালিকানুযায়ী কিছু চাল দিয়ে আবারো সিংহ ভাগ কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে। আর অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ডিলার সিদ্দিক ও ইউপি সদস্য সাত্তারের উপর। এনিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি সিদ্দিক ডিলারের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবে বলে জানায়। কিন্তু খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে হোসাইন অদৃশ্য কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পুনরায় নভেম্বর মাসের চাল উত্তোলনের ডি.ও প্রদান করে। ডিলার সিদ্দিকুর রহমান ১০ নভেম্বর গোদাম থেকে ৩০ কেজির ৩ শত বস্তা চাল উত্তোলন করে শুক্রবার থেকে চাল বিতরণ শুরু করে। শনিবারে সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, তালিকাভুক্তরা চাল নিতে আসলে তাদের হাতে কার্ড না থাকায় বিতরণ তদারকি কর্মকর্তা লিয়াকত আলী ও ডিলার চাল না দিয়ে তাদেরকে ফেরত দেয়। চাল না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিলার ও তদারককারি কর্মকর্তা বলেন, পোড়াগর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর সাত্তারের নিটক ২৩টি কার্ড আছে। তিনি না আসলে চাল বিতরণ করা যাবে না। শালমারা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান তালিকানুযায়ী তার ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণ না করে ৬১ জনকে চিহ্নিত করে ডিলারকে চাল দিতে বললে ডিলার কার্ড ছাড়াই চাল বিতরণ করে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ওই ইউপি সদস্য জানায় আমি এখনো ৮ টি কার্ড হাতে পাই নাই। জানকিখিলা গ্রামের জনৈক ব্যক্তি জানায় সকাল বেলা একই ব্যক্তি এক সঙ্গে ৪/৫ টি টিপ সই দিয়ে ৪/৫ টি বস্তা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি প্রতিবাদ করলে ডিলার ও তার লোকজন ভয়ভীতি দেখায়। আরো জানাযায়, বাতিলকৃত তালিকায় সুবিধাভোগিদের নতুন তালিকায় নাম না থাকলেও এরকম ৫ জনকে ডিলার ও তদারকি কর্মকর্তা চাল দিয়েছে। এর মধ্যে হজুরা বেগমের কার্ড খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কার্ড জব্দ করতে সক্ষম হলেও চাল জব্দ করতে পারে নাই। এভাবেই চলছে পোড়াগর বাজারের ১০ টাকার চালের দোকানে ডিলার, তদারককারি কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যদের যোগ সাজসে চাল বিতরণে অনিয়ম এবং দুর্নীতির মহোৎসব। এব্যারে তদারককারি কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, লোকজন চিহ্নিত করার দায়ীত্ব আমার না। ইউপি সদস্যরা লোকজন চিহ্নিত করে দিলে আমি চাল বিতরণ করব। ডিলার ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা চাল বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতির সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেন নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *