কুড়িগ্রামে প্রশিক্ষণ নিয়ে কোয়েল পাখির খামার, স্বাবলম্বী ৫ যুবক

মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদ্য বিলুপ্ত সাহেবগঞ্জ ছিটমহল ও দক্ষিন পাথরডুবি গ্রামের ৫ যুবক বেকারত্বের অভিশাপ দূর করে স্বাবলম্বী হতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে কোয়েল পাখির খামার গড়ে। রাজধানীরর বাংলা কলেজ থেকে প্রাণি বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে সেলিম হোসেন এবং ভূরুঙ্গামারী ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করা ফারুক হোসেন বাবু তাদের নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কোয়েল পাখির খামার।
খামারি সেলিম এবং বাবু জানান, তাদের খামারে রয়েছে ২৮০০ কোয়েল। এর মধ্যে সেলিমের খামারে রয়েছে দুই হাজার এবং বাবুর খামারে ৮শ’ কোয়েল পাখি। এ ছাড়া বিলুপ্ত সাহেবগঞ্জ ছিটমহলের বাসিন্দা আবুল কালাম এর খামারে ২২০০ কয়েল, সাইদুর রহমান বাদশা এর খামারে ১০০০ কয়েল এবং শওকত আলীর খামারে ১০০০ কয়ল পাখি নিয়ে বেকারত্ব ঘোচাতে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কোয়েল পাখির খামার। তাদের খামারে রয়েছে চার হাজার কোয়েল পাখি। ফারুক হোসেন বাবু জানান, তিনি লেখাপড়া শেষ করে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে লালমনিরহাট যুব উন্নয়ন কেন্দ্র হতে পাখি ও গবাদি পশু পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে গড়ে তোলেন কোয়েল পাখির খামার। তার খামারের লাভ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খামারগুলো গড়ে তোলেন অন্যরা। খামারের কোয়েলগুলো ইতোমধ্যে ডিম দিতে শুরু করায় খামারিদের চোখে-মুখে দেখা দিয়েছে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোয়েল পাখিগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সিরাজগঞ্জ থেকে। প্রতিটি কোয়েলের দাম পড়েছে ৪৫-৫০ টাকা। এ ছাড়া কোয়েলের রোগবালাই তুলনামূলক কম। দুই ধরনের পদ্ধতিতে কোয়েল পালন করা যায়। পদ্ধতিগুলো হলো লিটার পদ্ধতি এবং খাঁচা পদ্ধতি। এদের জন্য প্রতিদিন গড়ে ২৫ গ্রাম খাবার দরকার হয়। একটি কোয়েল একনাগাড়ে প্রায় ১৮ মাস ডিম দিতে পারে। ডিম দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পাখিগুলোকে এক রকম খাবার খাওয়ানো হয়। ডিম দেওয়া শুরু করলে অন্য রকম খাবার দেওয়া হয়। প্রতি হাজার কোয়েলের জন্য মাসে খরচ হবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং ডিম বিক্রি করা যাবে কমপক্ষে ৪৫ হাজার টাকা।
জানা যায়, কোয়েলের ডিম আকারে ছোট হলেও এর পুষ্টিগুণ মুরগির ডিমের চেয়ে অনেক বেশি। নিয়মিত মুরগির ডিম খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে গিয়ে হূদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কোয়েলের ডিম নিঃসংকোচে খাওয়া যেতে পারে। কোয়েলের ডিম কিডনি, পাকস্থলী ও ফুসফুসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। কোয়েলের ডিমে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম ও অ্যামাইনো অ্যাসিড যা শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কিছু কিছু দেশে কোয়েলের ডিম রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হয়। চাইনিজরা টিবি, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস রোগের পথ্য হিসাবে কোয়েলের ডিম ব্যবহার করে থাকে।
নানা গুণ থাকা সত্ত্বেও ডিম বাজারজাতকরণ করতে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। কোয়েলের ডিম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকায় অনেকে কোয়েলের ডিমকে কচ্ছপের ডিম অথবা সাপের ডিম ভেবে থাকেন। সরকারের তরফ থেকে কোয়েলের ডিম সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণার দাবি জানিয়েছেন খামারিরা। তারা জানান, সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমদের মনবল বৃদ্ধি পেত এবং ব্যবসার আরো প্রসার ঘটতো।

2,388 total views, 7 views today

1 comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.