হিজল ফুল

মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
বাংলাদেশের প্রকৃতি-পরিবেশের সৌন্দর্য বিকাশ  এবং গ্রামীন জনপদের মানুষের অতি চেনা ও প্রিয় ফুল হিজল। মাঝারী আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ হিজল। হিজল গাছের কচিপাতা প্রাথমিক পর্যায়ে লালচে রঙের হয় এবং পাতার বয়স বাড়ার সাথে সাথে রঙ পরিবর্তীত হয়ে উজ্জ্বল সবুজ রঙ ধারণ করে। গাছের শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত। পাতার  শিরা- উপশিরা স্পষ্ট ও পাতা বেশ পুরু। ফুলের মঞ্জুরি বেশ লম্বা। লম্বায় প্রায় এক থেকে দেড় ফুট হয়ে থাকে। অন্যসব ফুলে এমন লম্বা মঞ্জুরি খুব কমই চোখে পড়ে। প্রথমে গাছের শাখা-প্রশাখায় সবুজ রঙের অসংখ্য ঝুলন্ত মঞ্জুরি দেখা যায় ও তারি সাথে গুটি-গুটি ফুল কলি দেখা দেয়। নির্দিষ্ট সময় পর ফুল কলি ও মঞ্জুরির রঙ পরিবর্তন হয়ে গোলাপী লাল রঙ ধারন করে ও ফুল ফুটে। ফুটন্ত ফুলে মৃদু সু-গন্ধ রয়েছে।  গাছের সবুজ পাতা ও শাখা-প্রশাখার নীচে লম্বা মঞ্জুরিতে গোলাপী লাল রঙের রেশমী কোমল ফুল দেখতে খুবই মনোরম। সাধারনত গ্রীষ্মের শেষদিক থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে বর্ষার শুরুতে গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। ফুল শেষে গাছে ফল হয়। ফলের রঙ প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ক ফল কালচে খয়েরী রঙ ধারন করে। ফলে কামরাঙার মতো খাঁজ থাকে। বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়। হিজল গাছের   ভেষজ গুণাগুন রয়েছে। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ঔষধী গাছ হিসেবে হিজল বেশ পরিচিত। হিজল বেশ কষ্ট সহিষ্ণু গাছ। জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। তাছাড়া অযতœ অবহেলায়ও এর বংশ টিকিয়ে রাখতে সক্ষম। আমাদের দেশে আজাকাল অতীতের তুলনায় বর্তমান সময়ে হিজল গাছ কম চোখে পড়ে। বিভিন্ন কারণে ধীরে ধীরে আমাদের দেশে হিজল গাছ কমে যাচ্ছে। হিজলের আদি নিবাস অষ্ট্রেলিয়া হলেও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় এর বিস্তৃতি ব্যাপক। এর পরিবার-ইধৎৎরহমঃড়হরধপবধব,উদ্ভিদ তাত্বিক নাম-ইধৎৎরহরহম ধপঁঃধহমঁষধ। আমাদের দেশের প্রকৃতি-পরিবেশের বিভিন্ন স্থান যেমন-নদীর ধার, বাঁধের ধার, পুকুর পাড়, খালের পাড়,বিলের ধার ও বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ভাবে হিজল গাছ জন্মেতে চোখে পড়ে। প্রকৃতির নিসর্গ রূপ দানে হিজল গাছের ভূমিকা অপরিহার্য্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *