কেয়া ফুল

মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
কেয়া বর্ষামুখর বাদল দিনের ফুল। তাইতো কেয়াকে বর্ষার ফুল বলা হয়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস জুড়ে কেয়া ফুল ফোটে। কেয়া বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- কেতকী, কেওড়া, পাংশুলা,ইন্দুকলিকা, স্বর্ণপুষ্পী,কন্ঠদলা, গন্ধপুষ্পা ইত্যাদি। ইংরেজি নাম-ঞযধঃপয ঝপৎবঢ়িরহব,উদ্ভিদ তাত্বিক নাম-চধহফধহঁং ঃবপঃড়ৎরঁং, পরিবার-চধহফধহধপবধব। কেয়া দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার স্থানীয় গাছ। বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, জাপান প্রভৃতি দেশে প্রচুর জন্মে। সমতলভূমি এলাকায় কেয়া দেখা গেলেও নোনা মাটিতেও ভালো জন্মে। জানা যায় প্রায় আড়াই হাজার বছর আগেও হিমালয়ের উঁচু স্থানে কেয়া গাছ ছিল। আমাদের প্রাাচীন সাহিত্য হিন্দু-পুরাণ লোককাহিনীতে কেয়ার কথা আছে। কেয়া গুল্মজাতীয় সুগন্ধী উদ্ভিদ। গাছ লম্বায় ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। এর কান্ড গোলাকার এবং কণ্টকময়। গাছের প্রধান কান্ড থেকে অনেক শাখা-প্রশাখা বের হয়। গাছগুলো প্রায়ই বক্র হয়ে থাকে। গাছের নিম্নদেশ থেকে মোটা শাখা পর্যন্ত বেশ কিছু মূল বের হয়ে মাটিতে ভিত্তি তৈরি করে। এগুলোকে ঠেসমূল বলা হয়। এই মুল গাছের কান্ডকে দৃঢ়ভাবে মাটির সাথে যুক্ত করে রাখে এবং গাছের ভারবহনে সহায়তা করে। গাছগুলো পরস্পরের সাথে জড়াজড়ি করে নিবিড় এবং দুর্গম পরিবেশ তৈরি করে। এই গাছের পাতা কান্ড থেকে সরাসরি পত্রমূল ছাড়াই বের হয়। পাতার গোড়া কান্ডের সাথে জড়িয়ে থাকে। এর পাতা ৪ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ২ থেকে ৩ ইঞ্চি চওড়া হয়। পাতার উভয় প্রান্তে করাতের মতো কাঁটা থাকে। পাতার রঙ গাঢ় সবুজ এবং উভয় তল মসৃণ। কেয়া একলিঙ্গীক গাছ। পুরুষ কেয়াকে বলা হয় সিত কেতকী এবং স্ত্রী কেয়াকে স্বর্ণ কেতকী বা হেম কেতকী। ফুলের রঙ সাদা এবং গন্ধ বেশ মাদকতাপূর্ণ। কেয়া ফুল দ্বিবাসী বা ভিন্নবাসী। পুরুষ ফুল ও স্ত্রী ফুল ভিন্ন গাছে ফোটে থাকে। পুরুষ ফুলের গন্ধ উগ্র হয়ে থাকে। গাছের ফুল থেকে সুগন্ধী তৈল তৈরি করা হয় যা কেওড়া তেল নামে অবিহিত । স্ত্রী ফুল গাছে ফল ধরে। আশ্বিন কার্তিক মাসে গুচ্ছাকার ফল হয়। এই ফলের গাত্র বেশ শক্ত হয়। দূর থেকে এই গুচ্ছ ফলকে আনারসের মতো মনে হয়। এর রংও আনারসের মতো লালচে হয়ে থাকে। কেয়া পাতার রস বসন্ত, ব্রণ, কুষ্ঠ, ডায়াবেটিস রোগে উপকারী। ফুলের তেল পেট ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।এ ছাড়াও কেয়ার কান্ড, পুষ্পদন্ড, বীজ ও ঝুরি নানান ঔষধী কাজে লাগে। বিশেষত বিষাক্ত পোকার কামড়ের কামড়ে ও খুশকি কমাতে কেয়া বেশ উপকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *