বাহারী রঙের ফুল এলামন্ডা

মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী : এলামন্ডা ফুলের নাম নিয়ে রয়েছে মতভেদ তাইতো একই ফুলের ভিন্ন ভিন্ন নাম। এলামন্ডা,অলকানন্দা,ঘন্টা ফুল আবার কোন কোন এলাকার লোকজন এ ফুলকে মাইক ফুল,কলকি ফুল নামেও চিনেন। তবে যাই হোক এ ফুলের পরিবার- অঢ়ড়পুহধপবধব,উদ্ভিদতাত্বিক নাম-অষষধসধহফধ পধঃযধৎঃরপধ। ইংরেজীতে আবার এই ফুলকে এড়ষফবহ ঃৎঁসঢ়বঃ বা ণবষষড়ি ইবষষ নামেও ডাকা হয়। এর আদি নিবাস ব্রাজিল। গুল্ম জাতীয় পত্র ঝরা ফুল গাছ । শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায় ও বসন্তের শেষে গাছে নতুন পাতা গজায় এবং তারই সাথে গাছে ফুল কলরি আগমন ঘটে । পাতার রঙ গাঢ় সবুজ । নমনীয় কোমল পাপড়ি পাঁচটি এবং ফুল গন্ধহীন। গ্রীষ্মের শুরুতে গাছে ফুল ফোটে এবং এর ফুল ফোটার ব্যপ্তিকাল হেমন্তকাল সময় জুড়ে। তবে বর্ষা ঋতুতে গাছে সবচেয়ে বেশী পরিমাণে ফুল ধরে। ফুল শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে একই সাথে দুই থেকে পাঁচটি পর্যন্ত ফুটতে দেখা যায় । এ ফুলের রয়েছে বাহারী রং। তাইতো সোনালী , হলুদ , লাল , গোলাপী ও বেগুনী রঙের ফুল আমাদের দেশে ফুটতে দেখা যায় । এ ফুলের রঙ-রূপ সৌন্দর্য পারিবারিক বাগান ও প্রতিষ্ঠানের বাগানে এনে দেয় আকর্ষণীয় শোভা। গাছের লতানো কান্ডের আকার-আকৃতি ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইচ্ছানুযায়ী ছোট-বড় করে রাখা যায় । তাছাড়া অনকেটা দূরেও এর লতানো কান্ড ছড়ানো যায় । গাছ ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এ ফুল গাছ বাগানের বেড়া , বাড়ীর সীমানা দেয়াল , ছাদ ও অন্য গাছের উপর বাউনী হিসেবেও জন্মে । প্রায় সব ধরণের মাটিতে এলামন্ডা উৎপাদিত হয়। ভিজে মাটিতেও এদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়না। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারেনা। সরাসরি মাটিতে ও টবে চাষ করা যায়। বীজ ও ডাল কাটিং এর মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা যায় । এলামন্ডার ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ফুলটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *