চুয়াডাঙ্গায় কিশোর হাফেজকে জোর পূর্বক বলাৎকার করায় ছাএলীগের সাভেক সভাপতি লাল্টুর বিরুদ্ধে মামলা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :-চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় এক কিশোর হাফেজকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান লাল্টুর (৩৮) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। লাল্টু চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের সর্দ্দারপাড়ার আয়ুব আলীর ছেলে। নির্যাতিত কিশোরের বড় ভাই জানান, তার হাফেজ ভাই (১২) স্থানীয় দৌলতদিয়াড় মসজিদের ইমামের অনুপস্থিতিতে ইমামতি করে। প্রতি দিনের মতো বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর সবাই মসজিদ থেকে চলে যান। কিন্তু, লাল্টু মসজিদে বসে থাকেন।
নামাজ শেষে লাল্টুকে মসজিদ থেকে বেরনোর কথা বললে তিনি হাফেজকে জানান- ‘আমার শরীর খারাপ লাগছে। তুই একটু বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবি?’
লাল্টুকে পৌঁছে দিতে তার বাড়ি পর্যন্ত যায় হাফেজ। এ সময় অসুস্থতার ভান করে তিনি ছেলেটিকে হাত-পা টিপে দিতে বলেন। এক পর্যায়ে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করেন লাল্টু।
কিন্তু, এই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করেন তিনি। একই সঙ্গে একথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেন ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা।
নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠান চলায় সেদিন বাড়ির কারও কাছে ঘটনা জানায়নি ওই কিশোর। পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
তারা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে পিটুনি দেওয়ার জন্য খুঁজতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয়রা জানায়, ছাত্রলীগ নেতা লাল্টু এর আগেও এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু, ক্ষমতার দাপট ও টাকা দিয়ে বরাবরই রেহায় পেয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়াদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ আহম্মেদ যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে তারা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘কারও ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় ছাত্রলীগ নেবে না। তাছাড়া লাল্টু বর্তমান কমিটির কোনো সদস্য নন।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হক জানান, কিশোর হাফেজকে বলৎকারের অভিযোগ এনে তার বাবা শুক্রবার রাতে লাল্টুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
তিনি জানান, লাল্টুকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *