রক্তকমল ফুলের কথা

মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী: রক্ত কমল একান্তভাবে আমাদের দেশীয় ফুল এবং বাংলাদেশের প্রজাতি। তাছাড়া শাপলা পরিবারের উদ্ভিদ। এ ফুলের সাথে গ্রাম-বাংলার মানুষের পরিচয় বহু কালের। তবে এ রক্ত কমল ফুলই গ্রাম বাংলায় লাল শাপলা নামে পরিচিত। এর পরিবার-ঘুসঢ়যধবধপবধব, উদ্ভিদ তাত্বিক নাম-ঘুসঢ়যধবধ ঃঁনৎধ। রক্ত কমল কন্দ জাতীয় ভূ-আশ্রয়ী বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর বংশ বিস্তারও ঘটে কন্দের মাধ্যমে। পাতা পানির উপরে ভাসলেও এর কন্দ বা মূল পানির নীচে মাটিতে থাকে। পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে গাছ বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাতা বেশ বড়,পুরু ও গোলাকার,কিনারা খাঁজ কাটা থাকে। পাতার উপরের রঙ সবুজ এবং পাতার উল্টো দিকের রঙ খয়েরি লাল হয়ে থাকে। পাতার বোটা বেশ লম্বা,ভিতর অংশ অনেকটাই ফাঁপা থাকে, রঙ সবুজ থেকে লাল সবুজ রঙের হয়ে থাকে এবং ফুলের ডাটার ভিতর অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য ছিদ্র থাকে। লাল রঙের অসংখ্য পাপড়ির সমন্বয়ে সৃষ্টি রক্ত কমল ফুল। ফুল উর্দ্ধমুখী,মাঝে পরাগ অবস্থিত। ফুটন্ত তাজা ফুলে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। ফুল ফোটে রাত্রি বেলা এবং ভোর সকাল থেকে রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির পূর্ব পর্যস্ত প্রস্ফুটিত থাকে। রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুল সংকোচিত হয়ে যায় ও পরবর্তীতে পূণঃরায় ফোটে। ফুটন্ত ফুল এভাবে বেশ অনেক দিন ধরে সৌন্ধর্য বিলিয়ে যায়। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জলাধার হাওর-বাঁওর,খালে-বিলে ও ঝিলের পানিতে রক্ত কমল ফোটতে দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে ফুল ফোটা শুরু হলেও শরতে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে এবং এর ব্যাপ্তি হেমন্তকাল সময় জুড়ে । জলাধারে ফোটন্ত রক্ত কমলের রক্ত লাল রং দূর থেকে নজর কাড়ে এবং বেশ মুগ্ধকর। ফুলের ডাটা শাপলার মতো বেশ জনপ্রিয় এক সবজি। তাই সবজি হিসেবে এর চাহিদাও রয়েছে অনেক। তাছাড়া রক্ত কমল ভেষজগুণ সমৃদ্ধ ফুল গাছ। মানব দেহের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ, চুলকানি ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ে বেশ উপকারী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *