বিজয়ের ৪৬ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় মেলেনি বাজিতপুরে একে এম নূরুনবী

বাজিতপুর(কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : কিশোরঞ্জের বাজিতপুর পৌর শহরের পূর্ব ভাগলপুর গ্রামের অধিবাসী, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একে এম নূরুনবী তরুণ বয়সে ১৯৭১ সনে মুক্তিযোদ্ধে ৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর সফি উল্লাহর অধীনে লেবু চুড়া ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে তিনি কিশোরঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর, নরসিংদীর বেলাবো সহ বিভিন্ন স্থানে ১৯৭১ সনে নভেম্বর মাসে ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশ মাতৃকায় পাকহানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে মাত্র ২০ বছর বয়সে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের অংশ গ্রহণ রত সব কাগজ পত্র পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। সেই সুযোগে কিছু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগে যায়। কিন্তু কোন উপায়ন্তর না দেখে মুক্তিযোদ্ধা একে, এম নূরুনবী গত ৩১ জুলাই ২০১৪ সনে নিজের পরিচয়ের জন্য আবারও আবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে। এর পর তিনি তার পরিচয় পাকা পোক্ত করার জন্য ২০১৬ সনে বাজিতপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা উল্লেখ আছে তিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যোদ্ধে জীবন বাজী রেখে কিশোরগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে পাকহানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে যোদ্ধে অংশ গ্রহন করেন স্থানীয় কমান্ডারদের নিয়ে। এর পরও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গঠণতন্ত্রের ৯(ক) ধারা মোতাবেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ গেজেটে ভুক্ত হওয়ার জন্য বৃদ্ধ বয়সে তার আকুল আবেদন সরকার বাহাদুরের প্রতি।

প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ একটু নজর দেবেন কি?
নিকলীর রোদার পোড্ডার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যায়লটি নানা সংকটে

মহি উদ্দিন লিটন,বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ থেকে)ঃ শ্রেণী কক্ষ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ এবং প্রথম শ্রেণী হতে অষ্ঠম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠদানের জন্য বি.এড ধারি শিক্ষকের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের রোদারপুড্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি শ্রেণী কক্ষকে শিক্ষকরা মাঝে টিন দিয়ে দুটি ভাগে শ্রেণী কক্ষ করেছেন শিক্ষার্থীদের জন্য। বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সনে ৫২ শতাংশ জমির উপর চারটি শ্রেণী কক্ষ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। নতুন শিক্ষানীতি অনুসারে নিকলী উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৪ সালে ৮ম শ্রেণী খোলার লক্ষে আপগ্রেট করে ৬ষ্ট শ্রেণী খোলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর ৭ম শ্রেণীর পাঠদান শুরু হয় । কিন্তু বাড়েনি স্কুলটির শ্রেণীকক্ষ, বেঞ্চ এবং অন্যান্য উপকরণ। এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণী হতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ২৬৯ জন শির্ক্ষ্থাী রয়েছে। এই বিদ্যালয় হতে প্রতি বছর প্রাথমিকে(৫ম শ্রেণী) ৩-৪ জন বৃত্তি পেয়ে আসছে। এই বিদ্যালয়ে ৭ জন শিক্ষক থাকলেও আরও দুজন বি.এড ধারী শিক্ষক অতি প্রয়োজন বলে স্কুল সুত্রে জানা গেছে । মাধ্যমিক পর্যায়ে উপবৃত্তি চালু থাকলেও আপগ্রেড করা প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে এখনও উপবৃত্তি চালু হয়টি। বিদ্যালটিতে দুই শিফটে ক্লাস নেয়। সকাল সাড়ে নয়টায় ১২টা পর্যন্ত প্রথম শিফটে শিশু, প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণী, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাস নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় দ্বিতীয় শিফট তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস ষেণ হয় বিকেল ৪টা ১৫মিনিট। সরেজমিনে গতকাল ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পুড্ডায় ওই বিদ্যালয়ের গেল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয় আক্তার, শাবনুর ও শিরিন আক্তার, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শেফলী আক্তর, মাসুমা ও রহিমা আক্তর বলে, এক রুমে একই সময় দুইটি শ্রেণির ক্লাস শুরু হলে আমাদের পড়ায় মনযোগ দিতে পারি না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুল জানান, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক সংকট ও আসবাবপত্র দেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে ও মৌখিক অনেক বলেছি। এত সমস্যা থাকার পরও প্রতি বছর বিদ্যালয়টি সমাপনী পরীক্ষায় ১০ থেকে ১২ জিপিএ ৫ পেয়ে যাচ্ছে। সরকারী বিধান হলো কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আপগ্রেড করে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয় । তবে সেই বিদ্যালয়ে দুইজন বিএড শিক্ষক নিয়োগ দিবেন। কিন্তু চার বছরেও কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকটে, শিক্ষক ও আসবাবপত্র সংকটসহ বি-িংয়ের প্লাস্টারগুলো পড়ে যাচ্ছে। যে কোনো সময় বিল্ডিং ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়গওলো আমি কয়েকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু তাহের ভূঁইয়া বলেন,ওই বিদ্যালয়ের সমস্যার বিষয় গুলো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *