ভারতের ৫ রুপির পেঁয়াজ ঢাকায় ৮০ টাকা!

নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রের লাসাগাঁও ও নাসিক হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের মোকাম। এখান থেকেই ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় পেঁয়াজ রফতানি হয়। এ বাজারের দরই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির বৈশ্বিক দর নির্ধারণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতির উল্টো চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে।

এখন নাসিক থেকে ৫ থেকে ৯ রুপি কেজি দরে কিনে আনা পেঁয়াজ বাংলাদেশের পাইকারি বাজারে বিকোচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, খুচরা পর্যায়ে যা ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

অন্যদিকে নাসিকের অর্গানিক পেঁয়াজ (দেশি) ২০ থেকে ২৬ রুপিতে এনে পাইকারি দর রাখা হচ্ছে ৯০ টাকা, খুচরা বাজারে যা ১২০ টাকা কেজি। তবে নজরদারি সংস্থাগুলোর এ বিষয়ে কোনো তদারকি নেই।

লাসাগাঁও ও নাসিকে পেঁয়াজের দামে ধস নামে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে। আগস্টের শেষ দিকে এ মোকামে প্রতি কুইন্টাল (১০০ কেজি) ২ হাজার ৬০০ ভারতীয় রুপিতে বিক্রি হলেও তখন দাঁড়ায় ৯০০ রুপিতে। বর্তমান দর ৫০০ রুপি বা প্রতি কেজি ৫ রুপি, বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ৬ টাকা। অন্যদিকে এ গ্রেডের পেঁয়াজের দর ৯ রুপি বা ১১ টাকা ৭০ পয়সা।

ভারতীয় কৃষিপণ্য বিক্রির বিখ্যাত অনলাইন ‘ইন্ডিয়া মার্ট’ এর তথ্যমতে, বুধবার নাসিকের নিপাডা এলাকার রফতানিকারক অরুণ ভেজিটেবল প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ৫ রুপি বা সাড়ে ৬ টাকা দরে। নিপাডা’র গায়ত্রি ফার্মারস প্রডিউসার লিমিটেড ও পঞ্চবটি’র কাঞ্জি ভাগঞ্জি আড়ত হেঁকেছে ৮ রুপি বা ১০ টাকা ৪০ পয়সা। নন্দলালপুরের ভিসাল সূর্যভান বার্কি ৮ রুপি ও লাসালগাঁওয়ের ৯ রুপি দরে বিক্রি করছে।

অন্যদিকে মেলগাঁওয়ের ‘নাজিম ট্রেডার্স’ তাদের এ গ্রেডের পেঁয়াজের দর হেঁকেছে প্রতি কেজি ১০ রুপি বা ১৩ টাকা। এখানকার মহাত্মানগরের জয়া চন্দ্র ফুডস্‌ প্রাইভেট লিমিটেড এ ও বি গ্রেডের পেঁয়াজের দাম রাখছে ৯ রুপি বা ১১ টাকা ৭০ পয়সা। সায়েখাদার হেমন্ত ট্রেডিং এ গ্রেডের পেঁয়াজ বিক্রি করছে ১৩ রুপি বা সাড়ে ১৬ টাকা দরে।

সান্তানা, থানে, মুম্বাই, নাবি মুম্বাই, আহমেদনগর, আহমেদাবাদ, আওরঙ্গবাদ, পুনে, বেঙ্গালুরু, পাটনাসহ ভারতের অন্য পেঁয়াজের মোকামের অবস্থাও প্রায় একই। কিন্তু সেসব মোকাম থেকে পেঁয়াজ এনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ৮ থেকে ১৬ গুণ বেশি দরে বিক্রি করছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে দাম কমলেও তারা বিক্রি করছেন আগে বেশি দরে আনা পেঁয়াজ। নতুন পেঁয়াজ এলেই দর কমে যাবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেই দেশি পেঁয়াজের দাম গত দুই সপ্তাহে কেজিতে ৫০ টাকা এবং একমাসে বেড়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। একমাস আগেও দেশি পেঁয়াজ ৬৬ থেকে ৭৫ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে মিলেছে। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। গত বছরের এ সময় ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশেই ২১ লাখ ৭২ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যা ছিল ২১ লাখ ৩০ হাজার টন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বছরে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘পেঁয়াজ ও চালের দাম ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্য বেড়েছে এবং এ বিষয়ে আমরা যত্নবান ও সচেতন। ভারতের চেয়ে দেশের পেঁয়াজের দাম বেশি। আমার মনে হয়, এখন সিজন আসছে, দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *