শিক্ষাবিস্তারে অবদান রাখছে রাঙ্গুনিয়া শিশুমেলা মডেল স্কুল

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া : মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে উপজেলা ক্যাম্পাসে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সকলের আস্থা অর্জন করেছে রাঙ্গুনিয়া শিশুমেলা মডেল স্কুল। বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ, উপজেলার প্রশাসন কর্তৃক সার্বক্ষনিক তদারকি, আনন্দদায়ক পাঠদান, ফলাফল, সহশিক্ষাকার্যক্রম সহ সার্বিক দিক দিয়ে স্কুলটি শিক্ষাবিস্তারে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে আধুনিক মানসম্মত শিক্ষার ব্রত নিয়ে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্কুলটি। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে নিবন্ধনকৃত অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমন্বয়ে এখানে পাঠদান করানো হয়। রাঙ্গুনিয়ার প্রাণকেন্দ্র ইছাখালীস্থ উপজেলা কমপ্লেক্সে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় যাতায়াত সুবিধা অত্যন্ত সহজ। উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিমেধ্যেই প্লে থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করতে একটি চতুর্থ তলা ভবন নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শারমিন কামাল লিন্ডা বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্লে থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এখানে অধ্যয়নরত রয়েছে ২শতাধিক শিক্ষার্থী। পুতি বিদ্যার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় গড়ে তোলা হয় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম শিক্ষকের নিবীড় পরিচর্যায় শ্রেণিতেই আদায় করা হয়। ফলে বাড়ির কাজের বাড়তি চাপমুক্ত থাকে শিক্ষার্থীরা। এরফলে প্রথমবারের মতো পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থী এ প্লাস, ৪ জন এ গ্রেড সহ শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেন। মনোরম পরিবেশে খেলার মাঠ ও শিক্ষার পর্যাপ্ত উপকরণের সাহায্যে পাঠকে আনন্দদায়ক করার ব্যবস্থা সহ শিক্ষার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যালয়টিতে বিদ্যমান রয়েছে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, বার্ষিক শিক্ষা সফর, উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে থাকে। এছাড়াও উপজেলা কমপ্লেক্সে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হয়। মূলত স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উপজেলার কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রদানের জন্য। স্থাপিত হওয়ার পর থেকে স্কুলটি কার্যক্রম এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অপরাপর শিক্ষার্থীরাও এখানে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পায়।
বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরীন সেলিম রুশ্নি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের নিবিড় পরিচর্যায় পাঠদান করেন। বিদ্যালয়ে আমরা পড়ালেখার সাথে সাথে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে থাকি। স্কুল মাঠে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নির্বিঘেœ খেলাধুলার করতে খুব ভাল লাগে।’
বিদ্যালয়ের অভিভাবক খাইরুল আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অত্যান্ত সন্তোষজনক। শিক্ষার্থীদের আনন্দদায়ক ভাবে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে আগ্রহী থাকে। অন্যদিকে শ্রেণির কাজ শ্রেণিতেই আদায় করার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চাপমুক্ত থাকে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ সভাপতি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি যোগদানের পর নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করেছি। শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করি। শিক্ষার মানউন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে যাতে মেধাবী শিক্ষার্থী সৃষ্টি হয় সেদিক লক্ষ্য রেখে ইতিমধ্যেই নিবন্ধনকৃত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্কুলের মাঠ সংস্কার করায় উপজেলার সরকারি সকল কার্যক্রম বিদ্যালয়ের মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে জাতীয়তাবোদ সৃষ্টি হয়। ৭ জানুয়ারী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের ভবন সংকট দূর করা সহ সকল কার্যক্রমে সহযোগীতার আশ্বাস দেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *