নবাবগঞ্জে ঘুষের অভিযোগ প্রমাণে উপজেলা চেয়ারম্যানকে ৪৮ঘন্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে উৎকোচের মাধ্যমে সচ্ছল ব্যক্তিদের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা করার যে অভিযোগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেছেন, সেই অভিযোগ প্রমাণে ৪৮ঘন্টার সময়সীম বেঁধে আল্টিমেটাম দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।
উপজেলা পরিষদ হল রুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (১৯এপ্রিল) ওই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূর আলম সিদ্দিকী অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে অবাঞ্ছিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬-১৭অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা অনুমোদনের জন্য ইউনিয়নপ্রতি দশটি করে কার্ড ভাগ চেয়েছিলেন। পরে ইউনিয়নপ্রতি তিনটি করে কার্ড ভাগ নিয়ে তালিকা অনুমোদন করেন। চলতি অর্থ বছরেও উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনিয়নপ্রতি দশটি করে কার্ড দাবি করেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানরা গত বছরের মতো এবারও ইউনিয়নপ্রতি তিনটি কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে মৌখিক সম্মতি দিলেও গত ২৭মার্চ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মুঠোফোনে ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে শয়তানসহ কটুক্তি করে ইউপি চেয়ারম্যানদের তৈরিকৃত ভাতার তালিকা অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে সমাজসেবা কর্মকর্তা লাউড স্পীকারে কথা বলায় তার অফিস কক্ষে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা চেয়ারম্যানের কটুক্তিসহ তালিকা অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানানোর কথাবার্তা শুণতে পান। এরপর থেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের অশালীন মন্তব্যের জন্য উপজেলার ১৫জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ১৩জন জনপ্রতিনিধি গত ৩ এপ্রিল উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার (১২এপ্রিল) অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে বয়কট করেন।
উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসমান জামিন বলেন, গত বছর তার (আসমান জামিন) স্বাক্ষর জাল করে সচ্ছল আট ব্যক্তিকে দুস্থ দেখিয়ে ভাতার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করতে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে তালিকা জমা দিয়েছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী।
ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করাসহ ভাতার কার্ড ভাগ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সরকারের নির্দেশনানুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যানরা ভাতাভোগীদের তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়েই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ ষড়যন্ত্র করছেন। #

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *