রোযার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন

আবু হানিফ : রোযাদার ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহকে রাজি খুশি করার   জন্য  রোযা পালন করে থাকে , আর অন্যান্য সকল ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পালন করলেও তার মধ্যে অন্তরে রিয়া বা লোক দেখানো মনোভাব  আসতে পারে, কিন্তু রোযা পালনের মধ্যে কোন লোক দেখা মনোভাব থাকে না । বলেন , আল্লাহ বান্দার প্রতি খুশি হয়ে এই ঘোষণা দেন ।       আল্লাহ তায়ালা ও রাসূল (সা:) সকল প্রকার ইবাদতের সওয়াব আগেই ঘোষণা করে দিয়েছেন , কিন্তু একমাত্র রোযাদারের প্রতিদান  আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নিজে প্রতিদান  দিবেন আর অন্যান্য সকল  আমলের সওয়াব আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন ।     হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- সিয়াম আমারই জন্য । তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব ।আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশগুণ । (সহীহ বুখারি ১৮৯৪)।  বান্দা আমল করলে  আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের অধিবাসী করবেন । বিশেষ কোন আমলের জন্য জান্নাতের নির্দিষ্ট প্রবেশ পথ নেই । কেবল রোযায়  একমাত্র  আমল, যার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট  একটি দরজা নাম হলো” বাবু রাইয়্যান ” । এই দরজা দিয়ে কেবল রোযাদার প্রবেশ করতে পারবে, রোযাদার ব্যতীত  অন্য কোন লোক এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না । রোযার বিশেষত্ব হলো বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করা,বান্দাকে মহিমান্বিত করা ও জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া ।          রাসূল (সা:) ইরশাদ করেন ,  জান্নাতের রাইয়্যান নামক একটি দরজা রয়েছে । এ দরজা দিয়ে কেবল রোযাদার ব্যক্তিই কিয়ামতের দিন প্রবেশ করতে পারবে , তাছাড়া  আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা । ঘোষণা দেওয়া হবে, সাওম পদাধিকারীরা কোথায় ? তখন তারা দাঁড়াবে । তারা ছাড়া অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা । তাদের প্রবেশ শেষ হলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ  না করে ।  (সহীহ বুখারি-১৮৯৬)।        একজন রোযাদার সারাদিন খাবার না খেয়ে থাকার ফলে তার মুখে   এক ধরণের দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় । দুর্গন্ধটা আমাদের কাছে অস্বস্তিকর  লাগে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কাছে এ দুর্গন্ধ  অধিক প্রিয় । রাসূল (সা:) ঘোষণা করেন –  রোযাদার ব্যক্তির মুখের র্গন্ধ , আল্লাহর কাছে কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও  অধিক সুগন্ধময় । ( সহীহ মুসলিম-১১৫১; ইবনে মাজাহ-১৬৩৮) । রোযা মানুষের গোনাহকে ধুয়ে- মুছে সাফ করে দেয়। রাসূল (সা:) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখে, তার অতীতের সব  গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয় । (সহীহ বুখারি-১৯০১)।  রোযা মানুষকে জাহান্নমের আগুন থেকে রক্ষা করে । রাসূল (সা:) ইরশাদ করেন- যুদ্ধের মাঠে ঢাল যেরূপ তোমাদের রক্ষাকারী, তেমনি সিয়ামও জাহান্নম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল স্বরূপ ।( সুনানে ইবনে মাজাহ-১৬৩৯; বায়হাকি- ৪/২১০)।       আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্য অবলম্বন, আল্লাহ কর্তৃক হারাম বস্তুগুলো থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে ধৈর্য অবলম্বন এবং দেহ ও মনের দুর্বলতা  এবং ক্ষুধা  ও তৃষ্ণার মতো  আল্লাহর নির্ধারিত বিধান পালনে ধৈর্য ধারণ করার নামান্তর । সুতরাং রোযার মধ্যে ধৈর্যের সবাই  একত্র হয়েছে । আর আল্লাহ তায়ালা সবর সম্পর্কে বলেছেন, নিঃসন্দেহে  ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান হিসাব ছাড়া পূর্ণ করে দেওয়া হয় । (সূরা যুমার:১০)। লেখক: আবু হানিফ: শিক্ষার্থী  (কামিল মাস্টার্স) সরকারি মাদরাসা- ই- আলিয়া, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.