বাহারী রঙে রঙিন ফুল দোপাটি

মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী : দোপাটি আমাদের দেশে উৎপাদিত ফুলের মাঝে অন্যতম এক ফুল। এর আদিনিবাস ধরা হয় ভারতীয় উপমহাদেশ। পরিবার- ইধষংধসরহধপবধব,উদ্ভিদ তাত্বিক নাম-ওসঢ়ধঃরবহং নধষংধসরহধ । বাহারী রং-রূপ বৈশিষ্টের কারণে ছোট-বড় সবারই কাছে দোপাটি প্রিয়। এর রয়েছে সাদা,লাল,গোলাপী,বেগুনী,একক বা মিশ্র রঙের ফুল। রয়েছে এর দুটি প্রজাতি-সিঙ্গল ও ডবল । জাত ক্যামেলিয়া এবং বালসাম রোজ। সিঙ্গল জাতের ফুলের চেয়ে ডবল জাতের ফুলের কদর বেশী। ফলে ডবল জাতের ফুলের চাষ বেশী পরিমাণে চোখে পড়ে। আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটি বাসা-বাড়ীতে দেখা যায় এ দোপাটি ফুল। বাগানের শোভা বর্ধনে দোপাটি ফুল অতুলনীয়। দোপাটি গাছের উচ্চতা গড়ে দেড় থেকে ২ ফুট হয়ে থাকে। গাছ দ্রুত বর্ধনশীল। কম পরিচর্যায় ও কম সময়ের মাঝে গাছে ফুল ধরে। কান্ড রসালো নরম ও ভংগুর প্রকৃতির হয় এবং গাছ বেশ ঝোপালো। পাতার আকৃতি ছোট লম্বাটে,কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা এবং হাল্কা কাটা থাকে। প্রধানত বর্ষা মৌসুমে এই ফুলের চাষ করা হলেও শীত ও বসন্তকালেও চাষ করা চলে। তবে বর্ষা মৌসুমে ফুটন্ত ফুলগুলি আকার-আকৃতিতে হয় সুন্দর মানের। পত্র কক্ষ হতে এর ফুল ধরে। নমনীয় কোমল একাধিক পাপড়ির সমন্বেয়ে সৃষ্টি দোপাটি ফুল। ফুল গন্ধহীন। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফলের রং প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ক ফলের রং খয়েরি রঙের হয়। ফলের বীজ আকৃতিতে ছোট, সরষে দানার মতো। কোন জায়গাতে একবার দোপাটি ফুলের গাছ উৎপাদিত হলে পরবর্তী বছরে সেখানে আপনাআপনি ভাবে গাছ জন্মায়। কারণ পাকা দোপাটি ফল সামান্য নাড়াচড়াতে বা চাপে ফেটে বীজ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া জমিতে চাষের জন্য প্রতি ১০০ বর্গমিটার জমিতে চারা রোপণের জন্য ৫ থেকে ৬ গ্রাম বীজ দরকার হয়। সরাসরি মাটি ও টবে এ ফুল চাষ করা যায়। উঁচু জমি,পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত উর্বর দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ মাটি,বড় দিন, উষ্ণ ও আদ্র আবহাওয়া দোপাটির জন্য উত্তম। প্রয়োজনে জমি বা টবে সেচ দিতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.