রাণীনগরে কোরবানীর গরু নিয়ে লোকশান আতংকে খামারীরা

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নওগাঁর রাণীনগরে কোরবানীর গরু বিক্রিতে লোকসান আতংকে পড়েছেন গরু পালনকারী খামারীরা । বিভিন্ন কারনে অনেক খামারে এবার গরুই পোষেননি খামারিরা। তবে বর্তমানে যে বাজার রয়েছে ,তাতে ভারতীয় গরু স্থানীয় বাজারে না আসলে গরুর আরো দাম বাড়বে বলে আসা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জানাগেছে,আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এই উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি খামারী এবং ক্ষুদ্র খামারীরা এই পশুগুলো প্রস্তুত করেছেন। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সুত্র মতে,ছোট/বড় প্রায় ১ হাজার ৭ শত ৫৪ জন্য ব্যবসায়ী তাদের নিজ নিজ খামারে/বাড়ীতে গরু,ছাগল,ভেড়া পালন করেছেন। এর মধ্যে সাঁড় গরু ২ হাজার ৬শত ৩৬ টি,বলদ গরু ৫ শত ৭৮টি,গাভী ২ হাজার ৪শত ২৪টি,ছাগল ২ হাজার ২শত ৮১টি এবং ভেড়া রয়েছে ৭ শত ৯৭ টি। ইতি মধ্যে পশুগুলো বেচা-কিনা শুরু হয়েছে। খামারীরা বলছেন, বর্তমানে গো-খাদ্যের তীব্র সংকটের কারনে খড়ের চরা দাম,দানাদার খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং গরুর বিক্রিত বাজার মূল্য কম হওয়ায় অধিকাংশ খামারীরা এবার খামারে গরু তোলেননি। উপজেলার বেতগাড়ী বাজার এলাকার খামারী দেলোয়ার হোসনে জানান, প্রতি বছর তিনি খামারে কোরবানী ঈদকে ঘিড়ে ১৫-২০টি করে গরু পালন করতেন। কিন্তু বর্তমানে খড়ের তীব্র সংকটের কারনে এবং গরু বিক্রির বাজার মূল্য কম হওয়ায় লোকসান আতংকে গরু তোলেননি। একই এলাকার হাসেম আলী জানান,গত বছর ১৬টি গরু পালন করে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এবার ১০টি গরু পালন করলেও বেশি লোকসানের ভয়ে ১৫-২০ দিন আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। কালীগ্রাম বড়িয়া পাড়ার শহিদুল ইসলাম ফটিক জানান, তার খামারে প্রায় ৪০ টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৮-১০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি জানান, খড়ের এবং দানাদার খাদ্যের যে দাম তাতে বর্তমান বাজার মূল্যে গরু বিক্রি করলে লোকসান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত স্থানীয় এমপি ইসরাফিল আলম এর রাণীনগর কাশিমপুর “পল্লী শ্রী সমন্বিত কৃষি প্রদর্শনী খামার ” এর তত্যাবধায়ক মাসুদ পারভেজ জানান,এই খামারে প্রায় ১ শত ১০ টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০-৪৫টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তু করা হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে গরুগুলো বিক্রি করলে মনমত লাভ না হলেও লোকসান হবেনা । তবে দাম কমে গেলে লোকসানের সম্ভবনা রয়েছে । গরু পালনকারীরা বলছেন,গত বন্যায় এবং ইরি মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকরা ধানের খড় শুখাতে না পারায় খড় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে খড়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানীর পশু ব্যবসায়ীরা এখনই আসছেন না। তাই বর্তমানে বাজারে পশুর আমদানী থাকলেও তুলনা মূলক বেচা-কিনা না হওয়ায় বাজারও কম বলে জানা গেছে। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় দু’দিন ধরে বাজার একটু বৃদ্ধি পেয়েছে । এর মধ্যে যদি ভারতীয় গরু দেশে না আসে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা পশু কিনা শুরু করলে বর্তামনের তুলনায় দাম বাড়বে বলে ধারনা করছেন ।
এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা: আবু তালেব জানান, এবারে খড়ের তীব্র সংকট এবং দানাদার খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেশি পরেছে । তবে বর্তমান বাজার মূল্যে গরু বিক্রি করলে আশানুরুপ লাভ না হলেও লোকসান হবেনা।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.