কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষক বোরো আবাদে ব্যস্ত 

রাজিবুল হক সিদ্দিকী,কিশোরগঞ্জ :
ধানের জেলা হিসাবে খ্যাত কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে এখন চলছে বোরো আবাদের ধুম। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষক কোমর বেধে জমি আবাদে নেমেছেন। গোটা হাওর জনপদে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য। সবুজ ধানের চারায় সবুজ করে তুলছেন হাওরের পর হাওর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী-এ চারটি উপজেলা সম্পূর্ণ হাওর অধ্যুষিত। হাওর অধ্যুষিত এ চার উপজেলার মধ্যে চলতি মৌসুমে ইটনায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬ হাজার ৭৮৫ হেক্টর। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৪ হাজার ১০০ হেক্টর আবাদ করা হয়েছে।
মিঠামইনে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৫৪৯ হেক্টর আবাদ করা হয়েছে।
অষ্টগ্রামে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৩ হাজার ৬৬৫ হেক্টর। এর মধ্যেে ইতোমধ্যে ২২ হাজার ৫৯০ হেক্টর আবাদ করা হয়েছে।
এছাড়া নিকলীতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৪ হাজার ৯৬০ হেক্টর। সেখানেও এরই মধ্যে ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর আবাদ করা হয়েছে।
হাওরের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের আবাদকৃত ধানের মধ্যে স্থানীয় জাত, উফসী এবং হাইব্রীড জাতের ধান রয়েছে। তবে এ বছর উফসী ধানের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।
এক ফসলি এ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই বোরো ফসল। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকে না পড়লে এ এলাকায় উৎপাদিত ধান জেলার খাদ্যচাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানিও করা হয়। কিন্তু এ অঞ্চলের দরিদ্র এবং প্রান্তিক চাষীরা ঋণ ও দাদন নিয়ে যে ফসল ফলান তার সিংহভাগ চলে যায় দায় মেটাতে। ফলে ফসল তোলার মাস দুয়েকের মধ্যেই দরিদ্র, প্রান্তিক চাষী ও কৃষকের গোলা শূণ্য হয়ে যায়। শ্রমবিক্রি এবং ধার কর্জ করে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। তবে কৃষক আশা করছেন আবহাওয়া যেন অনুকূল থাকে। তাহলেই ধানের বাম্পার ফলন হবে। তখন ধানের হাসিতে ধার-দেনা আর কৃষি উপকরণের সংকট ভুলে হাসতে পারবেন কৃষক।
সূত্র জানায়, জেলার ১৩টি উপজেলার সবক’টিতেই বোরো আবাদ হলেও ভূ-প্রাকৃতিক কারণে হাওর অধ্যূষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং নিকলী উপজেলায় সর্বাধিক পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়।
এক ফসলী এ এলাকার অধিবাসীদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এ বোরো ফসল। তাই এখানকার কৃষক নিজেকে উজাড় করে দেন বোরো আবাদে। প্রাকৃতিক কোন দৈব-দুর্বিপাকে না পড়লে হাওরে প্রতি বছরই বাম্পার বোরো ফলনের সম্ভাবনা থাকে। তবে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও কৃষককে ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। আগাম বন্যা আর পাহাড়ি ঢলে প্রায় সময়েই মাঠভর্তি কৃষকের সোনালী ধান তলিয়ে যায়।
এত ঝুঁকির মাঝেও এখন হাওরের মাঠে সরব পদচারণায় মুখর কৃষকের একটাই চিন্তা, এক খন্ড জমিও যেন কোন অবস্থাতেই পতিত না থাকে।

750 total views, 3 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.