ঠাকুরগাঁওয়ে আত্মরক্ষায় গুলি ছুড়তে বাধ্য হয় বিজিবি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে গরু জব্দ করার জের ধরে মঙ্গলবার বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে তিনজন নিহতের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। বিজিবি কর্মকর্তাদের দাবি, চোরাকারবারীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ কারণে আত্মরক্ষায় তারা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন।

এদিকে বুধবার দুপুরে মরদেহ গুলোর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে নিহতের পরিবারকে লাশ কাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন জেলা প্রশাসক ডা. কামরুজ্জামান সেলিম। বিজিবি সদস্যসহ আহত অন্তত ১৬ জনের চিকিৎসা চলছে বিভিন্ন হাসপাতালে। ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসন।

এলাকাবাসী জানায়, একটি গরু বিক্রির জন্য সকালে বাজারে নিচ্ছিলেন হরিপুরের বহরমপুরের মাহাবুব আলী। পথে বেতনা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা গরুটি ভারতীয় মনে করে জব্দ করে ক্যাম্পে নেয়ার চেষ্টা করে। তাতে বাধা দেয় মাহাবুবের পরিবার ও এলাকাবাসী।

এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যদের ঘেরাও করে হামলা চালায় এলাকাবাসী। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে বিজিবি। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বহরমপুর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী জয়নাল এবং রুইয়া গ্রামের নবাব ও সাদেক। গুলিবিদ্ধ হন আরো ১৬ জন।

বিজিবি কর্মকর্তাদের দাবি, চোরাকারবারীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ কারণে আত্মরক্ষায় তারা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন।

ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

1,948 total views, 3 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.