তিন সেঞ্চুরির পরও টাইগারদের ইনিংস ব্যবধানে হার

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিলটন টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি পান তামিম ইকবাল। আর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তারপরও দুই ইনিংসে মিলিয়ে কিউইদের প্রথম ইনিংসে করা ৭১৫ রান টপকাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে তিন সেঞ্চুরির পরও ইনিংস এবং ৫০ রানের হার মেনে নিতে হয়েছে টাইগারদের। এই হারের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

ভালো শুরু ধরে না রাখা 

দুটি ইনিংসেরই গোড়াপত্তন করেন তামিম ইকবাল ও সাদমান আহমেদ। শুরুটা ভালোই করেছিলেন এই ওপেনার। প্রথম ইনিংসে ৫৭ রানে এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিং জুটিতে রান আসে ৮৮। প্রথম ইনিংসে স্কোরকার্ডের একেবারে ওপরে তামিমের ১২৬ রান ছাড়া বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানই ৩০ এর ওপর রান করতে পারেননি। ১৪৯ রানে ৪ উইকেট থেকে ২৩৪ রানে ১০ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় ইনিংসে সৌম্য ও রিয়াদের সেঞ্চুরি এবং তামিম অর্ধশতক পেলেও মিডল অর্ডারের তিন ব্যাটস্যান দুই অংকের কোটা পার করতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের অন্যতম সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই ইনিংস মিলিয়ে তোলেন মাত্র ২০ রান।

নেইল ওয়েগনারকে সামলানো

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় মূলত শুরু হয় চতুর্থ বোলার হিসেবে নেইল ওয়েগনারের হাতে বল ওঠার পর। ১২১ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে মুমিনুল হকের। এরপর একে একে মোহাম্মদ মিথুন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট পান তিনি। বেশির ভাগ বল শর্ট পিচে রেখে, বডিলাইনে বোলিং করেন ওয়েগনার যা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সামলাতে ব্যর্থ হন। এছাড়া তিনি মৌখিক আগ্রাসনের মাধ্যমেও ব্যাটসম্যানদের ব্যতিব্যস্ত রাখেন।

পেস বোলারদের উইকেটে পেসারদের ব্যর্থতা

বোলিংয়েও বাংলাদেশ ইতিহাসেরই অন্যতম ব্যর্থ প্রদর্শনী দেখা যায়। তিনজন পেস বোলার মিলে ৩৫৯ রান দেন মোট ৮৭ ওভার বল করে। আর উইকেট নেন মাত্র একটি। খালেদ আহমেদ প্রায় ৫ করে রান দেন গড়ে।

হ্যামিলটনের উইকেটে বাতাস ও সুইং থাকায় পেস বোলাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের পেসাররা সেটা নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। বিপরীতে বাংলাদেশের মোট ২০টি উইকেটই নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পেস বোলাররা। যার মধ্যে দুই ইনিংস মিলিয়ে বোল্ট ৬টি, সাউদি ৬টি, ওয়েগনার ৭টি এবং কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১টি উইকেট নেন।

মাত্র চারজন ফুলটাইম বোলার নিয়ে মাঠে নামা

হ্যামিলটনের কন্ডিশনে মাত্র চারজন পুরোদস্তুর বোলার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। যাদের মধ্যে সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা মেহেদী হাসান মিরাজের, যিনি ১৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এছাড়া ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ, আবু জায়েদ রাহী তিনজন মিলে মোট টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ৬টি। মেহেদী হাসান মিরাজ সর্বোচ্চ ৪৯ ওভার বল করেন, রান দিয়েছেন ২৪৬, উইকেট পেয়েছেন ২টি।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন সৌম্য সরকার যিনি নিয়মিত বোলার নন। ২১ ওভার বল করে ৬৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন সৌম্য। এছাড়া মাহমুদুল্লা রিয়াদও এক ওভার বল করে একটি উইকেট নেন। তবে পুরো ম্যাচজুড়েই পাঁচ জন মূল বোলারের অভাব দেখা গেছে বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপে। যার ফলে ৭১৫ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

1,178 total views, 53 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.