হাতের কবজি দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ফুলবাড়ীর তানিয়া খাতুন

আয়নাল হক ,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:দুটি হাতের সবকটি আঙ্গুল  নেই এর পরেও কবজি দিয়ে লিখে এইচ এইচ সি পরীক্ষা দিচ্ছেন নাগদাহ গ্রামের  শারীরিক প্রতিবন্ধী  তানিয়া খাতুন।ছোট বেলা থেকেই অত্যন্ত দু:খ- কষ্টেরর মধ্যে দিয়ে প্রতিপালিত হয়ে আসছে। তার দুটো হাতই অচল হলেও কখনও দমে যায়নি  সে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে  জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে জম্মের পর থেকেই  সে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি অদম্য ইচ্ছশক্তি থাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী তানিয়া খাতুন ভর্তি হয় গ্রামের স্কুলেই।নাগদাহ গ্রামের বীমাকর্মী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।দুই ভাই -বোনের বড় তানিয়া খাতুন।নাগদাহ গ্রামের বাড়ীতে গেলে দেখা যায়,কুড়ে ঘরে বাবা-মা,ভাই ও দাদীমার সাথে বাস করে সে।কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি  কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে।  কলা-বিভাগের শিক্ষার্থী হিসাবে ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় ৩০২ নম্বর কক্ষে তার পরীক্ষা চলছে। তানিয়া খাতুনের রোল :২৯৮৩৫৮। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সও্বেও সে প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০ মিনিট সময় পরীক্ষা দিতে চায়না সে। অন্য সকলের মত নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা দিতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তানিয়া খাতুন।পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব ও ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অামিনুল ইসলাম রিজু তানিয়া খাতুন প্রতিটি পরীক্ষায়  অংশ গ্রহন করছে  এবং অামরা তার চাহিদা মত সকল সুযোগ -সুবিধা প্রদান করছি।  তিনি অারো জানান যে, প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত বাড়তি ২০ মিনিট ব্যবহার না করেই সকল প্রশ্নেরের উওর লিখতে সক্ষম সে। দুই হাতের কবজি দিয়ে পরীক্ষার খাতা উল্টাচ্ছে ও প্রশ্নের উওর লিখে যাচ্ছে।তারা তানিয়া খাতুনকে কখনই শারীরিক প্রতিবন্ধী মনে করেন না। তাকে অনেক দুর পর্যন্ত যেতে হবে। লেখাপড়া শেষে সে অাত্ননির্ভরশীল হতে চায়।জীবনে  শারীরিক প্রতিবন্ধীকতা কোন বাধাই নয়।

867 total views, 4 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.