হোসেনপুরে বোরো ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন : দিশেহারা কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বোরো ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন দেখা এ বছর বোরো ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তাই ভুক্তভোগী কৃষকেরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার চেয়েছেন।
জানাযায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন থাকলেও আবাদ হয়েছে অনেক বেশি।কিন্তু উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে বোরো ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা কীটনাশক প্রয়োগ করেও তা নিয়ন্ত্রনে আনতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া অনেক কৃষকের ক্ষেতে ধান গাছের ডগা পচা ও মাইন কাটা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকেরা বোরো ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা কৃষি অফিসে প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য ছুটাছুটি করছেন।
সরেজমিনে তথ্যসংগ্রহ কালে গতকাল সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বাসুরচর গ্রামের কৃষক মোঃ রুহুল মিয়া,দুলাল মিয়া, কুড়িমারা গ্রামে কালাম মিয়া রহমত আলী, লাল মিয়া,ধরিজুরি গ্রামের রফিকুল মিয়া, চরকাটিহারি গ্রামের সাইফুল ইসলাম,নজরুল ইসলাম,গোবিন্দপুর গ্রামের বদরুল মিয়াসহ অনেকেই জানান, তাদের ক্ষেতে প্রথমে ডগা পচা রোগ দেখা দেয়।পরে ধানের শীষ বের হওয়ার পর দেখা দেয় ব্লাস্ট রোগের আক্রমন। কীটনাশক প্রয়োগ করেও ব্লাস্ট রোগের আক্রমন নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। বর্তমানে এ রোগের আক্রমনে দুর থেকে বোরো ধান ক্ষেত পাকা মনে হলেও কাছে এলে দেখা যায় ধানে চিটা। তাই ব্লাস্ট রোগের কারনে তাদের বোরো ক্ষেত রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। উপজেলার ধুলজুরি গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক সুরুজ মিয়াসহ অনেকেই জানান, তারা এ বছর ব্রি-২৮ ধানের আবাদ বেশি করেছেন। এ কারনে ব্রি-২৮ ক্ষেতসহ অন্যান্য ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের নিয়ন্ত্রনে তারা সিনজেন্টার কিলিয়া,বায়ারের টুপার ও পেট্রোকেমের এসেঞ্জা ও পটাশ প্রয়োগ করে কিছুটা দমন করলেও এ রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারনে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না।তাই এবার বোরো ফলনের বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক কৃষক মোটা অংকের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইমরুল কায়েছ জানান, বিভিন্ন এলাকার বোরো ক্ষেতে এ বছর ব্লাস্ট রোগের আক্রমন দেখা দিলেও তা ব্যাপক নয়। অতি শিলা বৃষ্টির কারনে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ব্লাস্ট রোগের নিয়ন্ত্রনে প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

1,300 total views, 11 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.