বিরামপুরে আমবাগানে গোপনে গাঁজা চাষাবাদ

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের মিরপুর মহল্লায় আমবাগানে গোপনে গাঁজা চাষবাদের অভিযোগে গত সোমবার (১৩ মে) বিকেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শতাধিক গাঁজার গাছ জব্দসহ মংলা কাশেম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক মংলা কাশেম পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের লোকা গ্রামের মৃত হবিবর রহমানের ছেলে এবং ওই আমবাগান দেখাশুনার দায়িত্বে ছিলেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গাঁজা চাষাবাদ হওয়া জমিটির মালিক আফাজ উদ্দিন নামের ব্যক্তির। কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পিতা আনোয়ার হোসেন টিটু দীর্ঘদিন থেকে জমিটি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেল রানা বলেন, উপজেলার মিরপুর মহল্লার একটি আমবাগানে গাঁজা চাষাবাদ করা হচ্ছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন বিকেলে বিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মিথুন সরকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই আমবাগানে অভিযান চালিয়ে ১৫দিন থেকে এক বছরের বেশি বয়সী শতাধিক গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। যার ওজন প্রায় ২০০ কেজি। এ সময় বাগানের ইজারাদার আনোয়ার হোসেনের নিয়োজিত বাগানের তত্বাবধায়ক মংলা হেমব্রমকে আটক করা হয়।
বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও আনোয়ার হোসেন টিটুর সাথে এ বিষয়ে কথা বলা যায়নি।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ভয়ানক। আম বাগানের আড়ালে গাঁজা চাষাবাদের সাথে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদেরকে আইনি আওতায় আনা হবে। জব্দকৃত গাঁজার গাছের আনুমানিক মূল্য ২০লাখ টাকা।
বিরামপুর সার্কেল সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মিথুন সরকার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গাঁজা চাষাবাদে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। আটককৃত মংলা কাসেমকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। #

ফুলকপি-বাঁধাকপি চাষে
আব্দুুল মালেকের বাজিমাত
প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
ফুলকপি-বাঁধাকপি রবি মৌসুম অর্থাৎ শীত মৌসুমের প্রধান সবজি হলেও দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খরিপ-১ মৌসুম অর্থাৎ গ্রীস্মকালীন মৌসুমে এর চাষ শুরু হয়েছে।
এই অসময়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে ঘুরে গেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের কৃষক মো. আবদুল মালেকের ভাগ্যের চাকা। বাজারে আসা ফুলকপি-বাঁধাকপি রমজান মাসে ব্যাপক চাহিদা থাকায় আশানুরূপ দামে বিক্রি হওয়ায় পুজির পাশাপাশি দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি। ধান, আলু, ভূট্টার দাম নিয়ে কৃষকরা যখন দিশেহারা তখন অসময়ে ফুলকপি-বাঁধাকপি চাষে করে বাজিমাত করেছে কৃষক মোঃ আবদুল মালেক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর এই উপজেলায় খরিপ-১ মৌসুমে ১০একর জমিতে ফুলকপি এবং বাঁধাকপি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা দ্বিগুণ। অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় বাজারে চাহিদা থাকায় আগামীতে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
কৃষক মো. আব্দুুল মালেক বলেন, স্থানীয় কৃষি খামার মালিক সীডস হতে ফুলকপি (জাত-১১১) বাঁধাকপি (জাত-ফুইকার) বীজ সংগ্রহ করে ওই কৃষি খামারের সাড়ে ৩ একর জমি চুক্তি নেয়। ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিকে জমিতে বীজ বপন করা হয়। এরপর মার্চ ২৫তারিখে বীজতলা হতে চারা তুলে জমিতে রোপণ করে। চুক্তির অর্ধেক জমিতে ফুলকপি আর বাকি অর্ধেক জমিতে বাঁধাকপির চারা রোপণ করা হয়। সাড়ে ৩একর জমিতে প্রায় ৭৫হাজার চারা রয়েছে।
চারা রোপণের ৪৫-৫০দিন পর থেকে ক্ষেতের ফুলকপি-বাঁধাকপি বিক্রয় শুরু করে। পাইকারী প্রতিপিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ১১টাকা এবং কেজি হিসেবে ৩৫টাকা দরে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০হাজার টাকার ফুলকপি এবং ৫০হাজার টাকা বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন।
তবে এসব চাষাবাদে সার, বীজ, বালাইনাশক এবং শ্রমিক খরচসহ সর্বসাকুল্যে ব্যয় হয়েছে লাখ টাকা। প্রকৃতি বৈরী না হলে এবং বাজার দর ভালো থাকলে আরো ১লাখ টাকার ফুলকপি এবং ৩ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম বলেন, ফুলকপি-বাঁধাকপি শীতকালীন সবজি হওয়ায় গ্রীস্মকালীন মৌসুমে এর চাষাবাদ বেশ কঠিন। কারণ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বেড়ে ওঠতে হয় চারাগুলিকে। সঠিক সময়ে সার, বালাইনাশক প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা করা না হলে ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে কৃষক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিগত দুই বছর ধরে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও টমেটোসহ বেশ শীতকালিন সবজি খরিপ মৌসুম অর্থাৎ গ্রীস্মকালীন মৌসুমে পরীক্ষা মূলকভাবে এই এলাকার চাষ শুরু হয়। এসব সজবি চাষে সফলতা লাভে বর্তমানে তা বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। মাঝারী উঁচু জমিতে বৃষ্টি ও তাপ সহনশীল জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে এই এলাকার অধিকাংশ কৃষক। তবে এ সময় এই সবজি চাষ বেশ ঝুঁকিপুর্ণ। কারণ অতিবৃষ্টি হলেই ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা বেশী। #

বীরগঞ্জে “আলোর ফেরিওয়ালা” কার্যক্রম শুরু

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুর জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বীরগঞ্জ জোনাল অফিসের আয়োজনে ২৪ ঘন্টা গ্রাহক সার্ভিসের লক্ষ্যে “আলোর ফেরিওয়ালা” গ্রাহক সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।”শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ”আলোর ফেরীওয়ালা” গ্রাহক সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র বীরগঞ্জ জোনাল অফিস এর ডেপুটি ম্যানাজার মো. আশরাফুল হক।
এ সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র বীরগঞ্জ জোনাল অফিস এজিএম কম গোলাম রব্বানী, এন্ডফোর্সম্যান্ট কর্মকর্তা জুয়েল ইসলাম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিতি ছিলেন। এজিএম কম গোলাম রব্বানী বলেন, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও মিটার দিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ১২টি টিম পিকাপভ্যান, মোটরসাইকেল, রিক্সা ভ্যান নিয়ে বীরগঞ্জ পৌর শহরসহ ১১টি ইউনিয়নে এই সেবা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ২৪ ঘন্টা এই সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে বলে তিনি জানান।#

দিনাজপুরে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের মাঝে
গাভী ঋণের চেক বিতরণ
প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের মাঝে গাভী ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনাজপুর সদর উপজেলা সমবায় অফিসের আয়োজনে উন্নতজাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পে গাভী ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরুজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, ৭নং উথরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসাহক আলী চৌধুরী, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
বক্তব্যশেষে উপজেলার উথরাইল ও ফাজিলপুর ইউনিয়নের দুটি সমিতির ৫০জন মহিলাদের মাঝে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে গাভী ঋণের চেক বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।#

বিরামপুরে ৬০ কেজি গাঁজাসহ দুই গাঁজা ব্যবসায়ী আটক

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার আমবাগান দুর্গাপুর এলাকা থেকে গত সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যার সময় রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর একটি টহলদল গাঁজার ব্যবসায়ীকে ধাওয়া করে ৬০ কেজি গাঁজা জব্দসহ দুইজন গাঁজা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা হচ্ছেন, লালমনিরহাট জেলা সদরের ইয়ারপোর্ট কাস্টম কলোনীর হাড়িভাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহমান নবাবের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম তমাল (২৭) ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম ফুলমতিপাড়ার মৃত আব্দুর জোব্বারের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩০)। র‌্যাব-৫ এর এসআই এনামুল হক বলেন, আটককৃত ৬০ কেজি গাঁজার মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ টাকা। #

530 total views, 11 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.