আন্তরিকতা থাকলে জাতীয়করণ সম্ভব এ বাজেটেই

প্রদীপ কুমার দেবনাথ : আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে এ বাজেটেই জাতীয়করণ সম্ভব। যুগ যুগ ধরে অবহেলিত বেসরকারি শিক্ষক – কর্মচারীগণের ( স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা) বর্তমান সরকারের উপর আস্থা ও বিশ্বাস ছিল যে বর্তমান সরকার এবার তাদের বহুপ্রত্যাশিত সরকারীকরণের চাহিদা পূরণ করবে। সবার আকাঙ্খা ছিল এই বাজেটেই সরকার জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষক কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। কিন্তু আশায় গুড়েবালি। আবার তারা দেখল যেই লাউ সেই কদু। মান্ধাতা আমলের বাজেট রীতি, ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থা। কোন খাতে উন্নয়নের পরিষ্কার কোন দিকনির্দেশনা নেই। শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, মৎস্য, বস্ত্র ইত্যাদি প্রত্যেক খাতে বরাদ্দ বেড়েছে। কিন্তু কেন বেড়েছে তা বুঝতে হবে। প্রত্যেকটা খাতে লোকবল বেড়েছে, বেড়েছে খরচের পরিধি। আগের চেয়ে ব্যয়ভার অধিক হওয়ায় বাজেট বেড়েছে তবে কর্মক্ষেত্র ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার জনগণের জন্য কিছুই রাখেননি।                                                       
এবারের বাজেট ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। যার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ২৯,৬২৪ কোটি টাকা। এ অর্থ দুটি খাতে ব্যয় করা হবে। সাধারণত বেতন, প্রশিক্ষণ, ভাতা, অবকাঠামো উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। গত বাজেটের তুলনায় শিক্ষাখাতে এ বরাদ্দ প্রায় ৬০০০ কোটি টাকা বেশি। কথায় আছে, “মনে সন্তুষ্টি থাকলে কানা-খোঁড়া নিয়েও সুখে ঘর করা যায়। ” অর্থাৎ জাতীয়করণের  ইচ্ছা থাকলে প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের হরিলুট কমিয়ে, কর্তাদের প্রমোদ ভ্রমণ কমিয়ে উক্ত অতিরিক্ত টাকার আংশিক অর্থাৎ ২২০০ কোটি টাকা হলে স্বচ্ছন্দে জাতীয়করণ নামক সোনার হরিণটি আমাদের উপহার দিতে পারেন আর সোয়া পাঁচলক্ষ শিক্ষক কর্মচারী ও তাদের পরিবার সারাজীবন আপনাকে ও আপনার সরকারকে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও আনুগত্য দেখাবে। শিক্ষকরা বেঈমান নয়, শিক্ষকরা প্রতারক নয়, শিক্ষকরা ধোঁকাবাজ নয়। তারা প্রকৃত বিশ্বস্ত। গত কিছুদিন আগেই শিক্ষকরা তাদের জীবন বাজী রেখেছিল শুধু আপনাদের জন্য, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া আওয়ামীলীগের জন্য। সেই আদর্শ ও নীতির ব্যত্যয় না ঘটলে আরো বহু আগেই আমরা জাতীয়করণ পেয়ে যেতাম, আজকের মতো হাহাকার করতে হতোনা। ইতিমধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সাহসী পদক্ষেপ দেখলেও শিক্ষাক্ষেত্রে আজ অবধি কোন সাহসী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ শিক্ষকরা পায়নি। বাজেটে শিক্ষার অনুন্নয়নখাতে যে পরিমান বরাদ্দ আছে তার ১২ ভাগের ১ ভাগ খরচ করলেও সমগ্র বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  জাতীয়করণ করা সম্ভব। শিক্ষকদের সাথে তামাশা করে জাতিকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে লাভ নেই। যাদের বড় বড় গ্রেড, বাড়ি, গাড়ি, চাকর-বাকর দিয়েছেন তারাতো সরকারকে সহযোগিতার নামে অর্থ হরিলুট করছে, দূর্নীতি মহা আখড়া বানিয়ে দিয়েছে দেশকে, পাকিস্তানিদের মতো শোষণ করছে এ জাতিকে। কিন্তু শিক্ষকগণ দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোর কিংবা শোষক নয়।শুধু একটু সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এবং বাজেটে বর্ধিত বরাদ্দের আংশিক খরচ করলেই জাতীয়করণ করা যায় সমগ্র বেসরকারি শিক্ষাকে। আর এ জাতীয়করণ হলেই শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ততা, আন্তরিকতা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ মানুষ হয়ে জাতির পরবর্তী কর্ণধার হয়ে দেশকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। 
শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিক, প্রদীপ কুমার দেবনাথ,সহকারী প্রধান শিক্ষক,  ফান্দাউক পন্ডিতরাম উচ্চ বিদ্যালয়,   নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.