বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই

প্রদীপ কুমার দেবনাথ  | ১৭ জুন ২০১৯, সোমবার :
অনুশীলনে অধিনায়ককে দেখা যায় বেশ চনমনে। শুধু অধিনায়কই নয় দলের সবাইকে মনে হয়েছে বেশ ফুরফুরে। নিজেদের প্রস্তুত করেছেন ফের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দৌড়ে ফিরে আসার লড়াইয়ে। প্রয়োজন একটি জয়!  তাইতো তামিম ইকবাল শেষ পাঁচ ম্যাচের কোনো হিসাব-নিকাশ করতে চাননি। তার মতে একটি জয়ই এখন বদলে দিতে পারে সব সমীকরণ। সমারসেট স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ম্যাচের এই ওপেনার বেশ অত্মবিশ্বাসী হয়ে বলেন, ‘কয়টা জিততে হবে আর কয়টা জিতলে আমরা সেমিফাইনালে উঠব সত্যি কথা, এভাবে করে আমাদের কেউ ভাবছি না। আমাদের শেষ ম্যাচ (শ্রীলঙ্কা) হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খেলাটা হলে আমরা  যদি জিততে পারতাম তাহলে অবশ্যই আমাদের জন্য ভাল হতো। কিন্তু ৫ জুলাইয়ের আগে (বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ) কি হবে না হবে সত্যি কথা এভাবে করে আমরা কেউ ভাবছি না। এটি সত্যি যে, এখন একটি জয় প্রয়োজন। আর সেটি পেলেই দেখবেন আবারও হিসাব বদলে যাবে।’
টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে যেমন আছে ভয় তেমনি আত্মবিশ্বাসও। প্রথমে ভয়ের কারণটাই বলি, তাহলো টনটনের ছোট পরিধির মাঠ। যেখানে ক্যারিবীয়রা একটু ভুল হলেই বইয়ে দিতে পারেন রানের বন্যা। বিশেষ করে এই মাঠে ক্রিসকে আলাদাভাবেই হিসেবে রাখতে হবে। কারণ, সমারসেটের হয়ে গেইল এখানে ঝড় তুলেই অভ্যস্ত।  এছাড়াও প্রধান কোচ স্টিভ রোডস সতর্ক আন্দ্রে  রাসেলকে নিয়ে। এই দু’জন ঝড় তুললে রক্ষা নেই। তবে তামিম ছোট মাঠ নিয়ে চিন্তা কাতর হতে চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অনেক বড় মাঠও ছোট হয়ে যায় ফর্মে থাকলে। আর ফর্ম না থাকলে ছোট মাঠও বড় হয়ে যায়। সব নির্ভর করে ফর্মের ওপর। এটা নিয়ে ভাবার কিছু নেই। ওদের পাওয়ার হিটার আছে। সাধারণত ওরা যখন মারে, তখন যে কোনো মাঠেই ছয় হয়ে যায়। ছোট মাঠ হোক বা বড়। ওসব না ভেবে আমাদের নিজেদের পরিকল্পনায় মন দিতে হবে। মাঠের আকার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে।’ 
অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসের কারণ হচ্ছে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টাইগারদের ধারাবাহিক দারুণ পারফরম্যান্স। বিশেষ করে শেষ ৯ ম্যাচের ৭টিতে জিতেছে টাইগাররা। সবশেষ, আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেও টানা তিন জয় তুলে নিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। তাইতো তামিম নিজেদের এই ম্যাচে ফেবারিট বলেই ঘোষণা দিয়েছেন।  অন্যদিকে, ক্যারিবীয় বোলারদের সামলাতেও নিয়েছেন দারুণ প্রস্তুতি। বিশেষ করে এখানে সবুজ উইকেটে শর্ট বলের ভয় দূর করতেই বিশেষ অনুশীলন করেছে দল। নিজেদের অনুশীলন নিয়ে দেশসেরা ওপেনার জানিয়েছেন, ‘যে কোনো ম্যাচের আগেই প্র্যাকটিস করা হয় প্রতিপক্ষ কোনটা টার্গেট করবে, সেটা ভেবে। আমাদের বেশিরভাগ ম্যাচেই এই টার্গেট ওরা করে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং যদি দেখেন, বিশেষত প্রথম ১০-১৫ ওভার, সব দলের বিপক্ষেই ওরা শর্ট বলে ফোকাস করে। অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তানের বিপক্ষেও দেখেছি। ওদের পরিকল্পনা খুবই সিম্পল। সবাই সেটা দেখেছে। যত ম্যাচ খেলেছে, একই ধরনের বোলিং করেছে। শুরুর সময়টা ভালোভাবে সামলে আমাদের তা পরে কাজে লাগাতে হবে। চ্যালেঞ্জ হবে অবশ্যই। তবে আমরা প্রস্তুত আছি।’ 
২০ বছর পর এই সমারসেট স্টেডিয়ামে ফিরেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ। এই বিশ্বকাপে এখানে অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচে ৪১ রানে হারিয়েছে পাকিস্তানকে । বিশেষ করে পেসাররাই এই ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল। আজ তাই টাইগারদের একাদশে আসতে পারে একজন বাড়তি পেসার। বলার অপেক্ষা রাখেনা, রুবেল হোসেনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এই ম্যাচে একাদশে জায়গা করে নেয়ার। তবে চমকও হতে পারে অন্য কারো আসা। ইনজুরি কাটিয়ে সাকিব ফেরায় দলে স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু একই দিনে বড় আঘাতের শিকার হন মুশফিকুর রহীম। অনুশীলনের সময় মোস্তাফিজের বলে আঘাত লেগেছে এই ব্যাটসম্যানের ডান হাতে। টিমম্যানেজম্যান্ট বড় কিছু নয় বললেও শেষ পর্যন্ত তার ম্যাচ খেলা হবে কিনা তা নিয়েও আছে শঙ্কা। সেটি হলে নিশ্চিত ভাবে খেলবেন লিটন কুমার দাস। আর যদি মুশফিক খেলে সেক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারে মিথুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.