অবসর প্রাপ্ত সেনা সার্জেন্টের বাড়ীতে হামলা লুটপাট


গৌরীপুর ময়মনসিংহ থেকে শেখ বিপ্লব :
ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়নের রাঘবপুর গাংপাড় গ্রামের মৃত হুসেন আলীর ছেলে সাবেক সেনা সার্জেন্ট মৃত আব্দুল কাদেরে বাড়ীতে মধ্যযুগিয় কায়দায় হামলা ভাংচু ও লুটপাট শেষে সেনা পরিবারের সদস্যদের ঘরে রেখে বাহিরে তালা দিয়ে আগুনে পুড়ে মারা চেষ্টা চালায় প্রতিপক্ষ।
সার্জেন্টের স্ত্রী হালিমা জানায়, আমার ৩ ভাই আঃ হাই,আঃ হামিদ,আঃ হাদি ও ভাতিজা রকি মিলে রাঘবপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-১০০৩,দাগ নং-সাবেক-১৫৭৩ হাল দাগ নং-৫১৫২ শ্রেনী-কান্দা থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ ভূমি ২৩/৩/১৯৯৫ ইং সালে পার্শ্ববর্তী মৃত জনাব আলীর ছেলে শামছুদ্দিনের কাছ থেকে সাফ কাওলা মূলে ক্রয় করে। এরপর থেকে উক্ত ভূমিটি খরিদদারা ভোগ দখল করে আসে। ৭/৫/২০১৪ ইং সালে সকল খরিদদাররা মিলে উল্লেখিত ভূমিটি আমার নামে (হালিমা) ৫১৬৫ নং দলিল মূলে হেবা করে দেন। তারও আগে থেকে আঃ কাদের পাকা ঘর নির্মান করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসত করে আসছেন। ২০১৫ সাল জমি বিক্রেতা শামছুদ্দিন মারা যায়। তখন থেকেই তার ছোট ভাই মোস্থফা হোসেন (৫৫) জমিটি বেদখল দিতে পায়তারা চালিয়ে সারে ৩ শতক জমি বেদখল দেয়।বাকি ৪ শতক জমি না ছাড়লে আঃ কাদের সহ তার পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুমের করার মতও হুমকি প্রদর্শন করে মোস্তফা গংরা। এ ব্যাপারে আঃ কাদের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে,মামলা নং-২৫০/১৮ তারিখ ৮/৮/১৮ইং। তার ঠিক এক মাস পড়ে ৯/৯/১৮ইং সালে মোস্তফা হোসেন জমি বিক্রেতা শামছুদ্দিনের ছেলে সিরাজুল ইসলামকে বাদী করে ময়মনসিংহ বিঞ্জ নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সদর অঞ্চল আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যাতে আসামী করা হয় সার্জেন্ট আঃ কাদের,তার স্ত্রী মোছাঃ হালিমা খাতুন, হার্ড স্টোক করা প্রায় শারীরিক প্রতিবন্ধ রনিসহ মোট ৬ জনকে। ২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী সেনা সার্জেন্ট আব্দুল কাদের মারা যান। হালিমা বিধবার শাড়ী পরে এক ছেলে হার্ড স্টোকের রোগী নিয়ে বাংলাদেশ ভারত ছুটাছুটি শুরু করে। স্বামী আঃ কাদেরের মৃত্যুর পর জমি বিক্রেতা শামছুদ্দিনের ছোট ভাই মোস্তফা গংরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। গত ৩ মে দুপুর দেড়টার সময় মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে মোঃ মফিজুল ইসলাম (২২), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩০) মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৫০), মোস্তফা হোসেনের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল (২২), মোঃ মাসুদ (২৪), শফিকুল ইসলামের ছেলে আরাফাত (২০), মোঃ মফিজুলের স্ত্রী লাকী বেগম (৩০), সফিকুল ইসলামের স্ত্রী কুলছুম বেগম (৩৮) দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সার্জেন্টের ঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে নগদ ২০ হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে যায়। এবং সেনা পরিবারের সবাইকে ঘরে রেখে বাহিরে তালা ঝুলিয়ে আগুনে পুড়ে মারতে চায়। পরে মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে। অপর দিবে ১৩ জুন দুপুরে হালিমার ভাই আঃ হাই তারাকান্দা উপজেলার কামারীয় ইউনিয়নের মোজাহারদী মৌজার ১৪৬৩ দাগের ৪০ শতাংশ জমি বন্ধক রেখে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে গতি রোধ করে মোস্তফা হোসেন গংরা রাম দা দিয়ে কুপিয়ে আঃ হাইকে গুরুত্বর আহত করে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে এলাকাবাসী আঃ হাইকে আহত অবস্থায় মচিমহাতে প্রেরন করে। এ ব্যাপারে বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
উল্লেখ্য চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মীর এক শালিসে মোস্তফাকে তার জবর দখল করা জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দিতে বললে।মোস্তফা সালিশে সকলের সম্মুখে সম্মতি প্রকাশ করে অদ্যবদি তা বুঝিয়ে না দিয়ে কাল ক্ষেপন করার কারনে চেয়ারম্যান ইউপি প্যাডে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর সুপারিশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.