দাকোপে জ্বালানী সংকট বৃদ্ধির ফলে হুমকির মুখে সুন্দরবন

বিধান চন্দ্র ঘোষ দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা :
দিন দিন খুলনার দাকোপেসহ গোটা দক্ষিণ অঞ্চলে জ্বালানী সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুগ যুগ ধরে এঅঞ্চলের মানুষ কাঠ ও গোবরের ঘুটা দিয়ে জ্বালানী সমস্যা সমাধান করে আসছে। কিন্তু অধিক হারে বৃক্ষ নিধন, গবাদি পশু পালনের স্বল্পতার কারনে চাহিদা অনুপাতে বর্তমান জ্বালানী সংকট মারাত্মক আকার ধারন করেছে। বিকল্প হিসেবে খড় কুটা গাছের পাতার ব্যবহার বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। সম্প্রতি এঅঞ্চলে কয়েকটি গ্যাস ফ্যাক্টোরী হলেও গ্যাসের অনেক দাম হওয়ায় এবং কয়লার যোগান না থাকায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে সুন্দরবনের উপর। ফলে সুন্দরবনও দ্রুত বৃক্ষ শুন্য হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় ২০০৭ সালে সিডর ও ২০০৯ সালে আইলা আঘাত হানার পর সুন্দরবনসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃক্ষের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হয়। ঘূর্নীঝড় ও জলোচ্ছাসের কারনে লবনাক্ততা বৃদ্ধি, জমিতে লবন পানি আটকে রেখে চিংড়ী চাষ, চোরা কাঠ ব্যবসায়ী দ্বারা কাঠ পাচার ও গাছের বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের কারনে ব্যাপক হারে বৃক্ষ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। ফলে বৃক্ষ নির্ভর জ্বালানী সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। উপজেলা সদর চালনা বাজার, বাজুয়া, বানিশান্তা, কালিনগর ও নলিয়ান বাজারে প্রতি মন ১৮০ থেকে ২‘শ টাকা দরে জ্বালানী কাঠ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি এ অঞ্চলে কয়েকটি গ্যাস ফ্যাক্টোরী হলেও গ্যাসের দাম অতিরিক্ত হওয়ায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের পক্ষে ক্রয়ে করা খুবই দূরসাধ্য। তাই নদীর তীরবর্তী দরিদ্র মানুষেরা নদীতে ভেসে আসা মরা, পচা,ক্ষুদ্র কাঠের টুকরো সংগ্রহের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেমে পড়ে নদীতে। এদিকে জ্বালানীর উচ্চ মূেল্যর সুযোকে চোরা কাঠ ব্যবসায়ীরা বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রায়ই সুন্দরবন থেকে হাজার হাজার মন কাঠ নদী ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। এছাড়া অবৈধ ভাবে যত্রতত্র গড়ে ওঠা ইটভাটা গুলোতেও কাঠের যোগান দিচ্ছে এ চোরা চক্র। এমনিভাবে চলতে থাকলে প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
কামনিবাসী এলাকার নারায়ন মন্ডল জানান আমি গরীব মানুষ গ্যাসের অনেক দাম তাই কিনতে পারি না এমনকি জ¦ালানী কাঠও। তাই জ¦ালানীর অভাবে আমরা স্বামী স্ত্রী মিলে নদীতে নেমে ভেসে আসা কাঠের টুকরো সংগ্রহ করি। প্রতি গোনে ৮ থেকে ১০ মন কাঠ ধরি এবং তা সুকালে অনেক কমে যায়। সারা বছর এভাবে অতি কষ্টে জ¦ালানী কাঠের সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। তার মতো ওই এলাকার প্রায় শতাধিক লোক এভাবে জ¦ালানীর সমস্যা মোকাবেলা করে আসছে বলে তিনি জানান।
চালনা বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী নাসিমা বেগম বলেন জ্বালানী কাঠের সংকট দিন দিন বাড়ছে। মাঝে মধ্যে উত্তর অঞ্চল থেকে কার্গো জাহাজে করে জ¦ালানী কাঠ আসে তাই কিনে বিক্রি করি। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে সিরিষ গাছসহ হরেক রকম গাছ কিনে জ্বালানী হিসেবে বিক্রি করে আসছি।
চালনার গ্যাস ব্যবসায়ী ছলেমান মুন্সি জানান ১২ কেজি ওজনের বিভিন্ন গ্যাস প্রতি সিলিন্ডার ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩টি গ্যাস বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।
সুতারখালী স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ দাউদ মিয়া বলেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মাস পূর্বে সুন্দরবনের ভিতর থেকে চোরাদের কাটা বেশ কিছু কাঠ উদ্ধার করেন। এব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলাও করেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.