নড়াইলে ছাত্রীদের যৌন হয়রানী, শিক্ষক গ্রেফতার

জহুরুল হক মিলু, নড়াইল প্রতিনিধি :
এসএম মাহমুদ হাসান ওরফে সজিব। তিনি নড়াইল সদরের বেতেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। পেশায় শিক্ষক হলেও তার কাজ ছিল ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা।
স্কুল কিংবা টিউশনিতে যাওয়া-আসা করা ছাত্রীরাই সজিবের মূল টার্গেট ছিল। গত কয়েকমাস ধরে তার মোটরসাইকেলের ভয়ে নির্জন সড়কে চলাচলের সাহস পেতো না স্কুলছাত্রীরা। হেলেমেটে মুখ ঢেকে মোটরসাইকেল চেপে ছাত্রীদের হয়রানি করে আবার দ্রুতবেগে পালিয়ে যেতেন তিনি।
নড়াইল সদরের অনেকে ছাত্রীই সজিবের হেনস্তার শিকার হলেও প্রথম দিকে ভয় এবং লজ্জায় প্রশাসনকে জানায়নি। কিন্তু এক সময় ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পুলিশের দ্বারস্থ হন অভিভাবকরা।
অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের আলাদাতপুর পাসপোর্ট অফিসের গলি থেকে মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করে পুলিশ।
গত কয়েকমাস ধরে শহরের কয়েকজন ছাত্রী ও অভিভাবকের অভিযোগের পর তাকে শনাক্ত করার জন্য সচেষ্ট হয় পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেছে।
হেনস্থার শিকার ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কুল কিংবা টিউশনিতে আসা-যাওয়ার পথে হেলমেটে মুখ ঢেকে মোটরসাইকেলে চেপে সজিব তাদের হেনস্তা করত। নির্জন পথে সজিব পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলে এসে তাদের শরীরে হাত দিয়ে আবার দ্ররুততার সঙ্গে পালিয়ে যেত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৫ জন শিক্ষার্থী জানান, পেছন থেকে এসে ওড়নায় টান দিয়ে শরীরে হাত দিয়ে চলে যেতো ওই ‘হেলমেটধারী সজিব’। প্রথমে লজ্জায় কাউকে জানায়নি তারা। ওই মোটরসাইকেলের ভয়ে তারা নির্জন সড়কে চলাচলের সাহস পেতো না।
নড়াইলের এসপি মো. জসিমউদ্দিন বলেন, সব এলাকায় সিসিটিভি না থাকায় এবং হেলমেট পরার কারণে তাকে শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.