শালিখায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ,আহত ৫,আটক ১

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখা উপজেলার দীঘোলগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৫ জন। গত বুধবার দুপুরে উপজেলার দীঘলগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১ জনকে। এ ব্যাপারে দীঘল গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, গাড়ির ভিতরে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে একই এলাকার ধলা মিয়ার ছেলে সোহানের সাথে বাগবিতন্ডা হয় আমার। এক পর্যায়ে আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই সে আমাকে কিল ঘুষি সহ বিভিন্ন কায়দায় পিটাতে থাকে। আমি অসুস্থ্য মানুষ। আমার পেটে টিউমার। তাই আমি কিছু বুঝে উঠতে পারিনি৷ এই ঘটনাটি গাড়ির ড্রাইভার আমার পরিবারকে জানিয়ে দেয় যে নজরুল ভাইকে বিনা কারনে মারপিট করা হয়েছে। এনিয়ে আমার বাড়ীর লোকজন তাদের বাড়ীতে গিয়ে বলে একজন অসুস্থ্য মানুষকে মারলে কেন। এই কথা বলার সাথে সাথে তারা জুটেপুটে আমার ভাই ও ভাতিজাদের উপর লাঠিসোঠা সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এই ঘটনায় আমাদেরকে হয়রানী করতে রাজু শিকদার বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামী করে শালিখা থানায় একটি মামলা করেছে। এখন পুলিশের ভয়ে আমার ভাই ভাতিজারা ঘর ছাড়া। এব্যাপারে আমি প্রশাসন সহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে বিচার চাই। মামলার আসামী অদুল বিশ্বাস ও আলতাফ হোসেন বলেন, অসুস্থ্য নজরুল ইসলামকে কোন কারন ছাড়াই পিটিয়ে গ্রুতর আহত করলেন কেন জানতে তাদের বাড়ীতে গিয়ে ছিলাম। এসময় তারা জুটেপুটে আমাদের উপর হামলা করেছে। অন্যদিকে নজরুল ইসলামকে মারার কারনে তিনি কিছু খেতে পারছেনা। শুধু বমি করছে ৷ এ ছাড়াও হয়রানি করার জন্য আমাদের নামে থানায় মামলা দিয়েছে। আমাদের মিল বন্ধ করে দিয়েছে। কাজ কর্ম সকল কিছুই আমাদের বন্ধ হয়েগেছে। এখন পুলিশের ভয়ে আমরা ঘরে মাথা দিতে পারছিনা৷ সোনা যাচ্ছে তারা ঢাল শর্কী,লাঠি সোঠা গোচাচ্ছে আমাদের মারার জন্য। যে কোন সময় আমাদের উপর নাকি হামলা হবে ৷ গ্রামের ইমান আলী জানান, অদুল বিশ্বাসের দুই ছেলে মিরাজ হোসেন ও ফিরোজ হোসেনকে মামলায় জড়িয়েছে তারা। কলেজের ছাত্র এই দুই জন। সামনে তাদের পরীক্ষা। কিভাবে পরীক্ষা দেবে তারা। কলেজের ছাত্র ছোট মানুষ, তাদেরকে মামলায় জড়ানো ঠিক হয়নি।এ ব্যাপারে মামলার বাদী রাজু শিকদারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নাজমুল সহ ১৫ থেকে ২০ জন মিলে দেশীয় অস্ত্র রামদা,ছ্যানদা,ঢাল শর্কী,হকস্টিক ও লাঠি নিয়ে অতর্কীত ভাবে আমাদের বাড়ীতে ঢুকে তারা আমার মা জুলেখা খুতুন(৭০),মারুফুল ইসলাম(৩২), ওহাব শিকদার(৬৫) ও সোহান(২২)এর উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে মারাত্মক ভাবে আহত করে ৷ আহতদের মধ্যে মারুফুল ইসলামের হাত ও বুকের হাড় ভেঙে অবস্থা গ্রুতর। সে এখন মাগুরা ২৫০ সজ্জা হাসপাতালে মারাত্মক ভাবে জখম হয়ে কাতরাচ্ছে। তার অবস্থা খুবই গ্রুতর। আজ বাড়ী নিয়ে আসবো ভাবছি। আর আমার মা জুলেখা খাতুন সহ অন্যান্য আহতদেরকে শালিখা হাসপাতাল সহ স্থানীয় ডাক্তার খানায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আসামীরা আমার ভাই মারুফুলকে মেরে তার কাছে থাকা নগদ এক লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। মামলার বাদী রাজু শিকদার আরো বলেন, আমি দীর্ঘ বছর যাবত তালখড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছি। কিন্তু আসামীরা বিএনপির রাজনৈতির সাথে জড়িত। এর পরেও কি ভাবে তারা আমার বাড়ী ঢুকে আমাদের পরিবারের উপর এ ভাবে হামলা চালায় এবং নগদ এক লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেলো। আমি প্রশাসন সহ আওয়ামীলীগের সকল নেতৃবৃন্দদের কাছে বিচারের জোর দাবী জানাই। বিষয়টি নিয়ে আমি শালিখা থানায় ১৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছি ৷ এব্যাপারে মামলার আইও এসআই ফরিদ উজ্জামান ফরিদ জানান, ঘটনাটি নিয়ে ১৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নাজমুল নামে একজন আসামীকে আটক করা হয়েছে ৷৮ জন আসামী আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। আর ৪ জন আসামী পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.