শিক্ষক সংকটে শালিখার কোটভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 

শহিদুজ্জামান চাঁদ,শালিখা,মাগুরাঃ মাগুরার শালিখা উপজেলার মাঠ প্রান্ত এলাকায় অবস্থিত কোটভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । কৃষি জমি সংলগ্ন বিদ্যালয়টির একটি ভবন জরাজীর্ণ,ব্যবহারে অনুপযোগী ৷ ভবনটি নাকি আবার পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে ৷ অন্যদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে কমলমতি শিশুদের পাঠদান। সব মিলিয়ে এখানকার শিশুরাও যুদ্ধ করেই দিন কাটাচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ছয় শ্রেণীর পাঠদান। শিক্ষক না থাকায় লেখাপড়া হয় না বলে অনেক শিশুর পরিবারই সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন ৷ প্রতি বছরই এ বিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ছাত্রী কমছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর অনেক শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে। কেউ শিশু বয়সেই তাদের বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করে। আবার অনেকে খালে মাছ শিকারে চলে যাওয়া অভিযোগ আছে ৷ সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূণ্য। ৫ জন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে দুইজন শিক্ষক আছে এ বিদ্যালয়ে। এই দুইজন দিয়েই ১২০জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে । স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্য স্কুলে শিক্ষক সংকট দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র রায়কে  গত ২৮ এপ্রিল উপজেলার  দেলোয়াবাড়ী স্কুলে বদলি করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। গত ২৮ মার্চ সহকারি শিক্ষক মনিকাকে মাগুরা ও ২০১৮ সালে মোঃ নুর আলমকে গজদূর্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বদলি করা হয়। অজপাড়া গায়ে মাঠের ভিতর স্কুলটি হওয়ায় এ বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক আসতে চান না বলেও গোপন সূত্রে জানা যায়। বিদ্যালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিকে ১৫ , প্রথম শ্রেণীতে ১৮, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৮, তৃতীয় শ্রেণীতে ১৬, চতুর্থ শ্রেণীতে ২১ ও পঞ্চম শ্রেণীতে ১৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র দুইজন। তারা দু’জনই সহকারী শিক্ষক। এর মধ্যে একজন শিক্ষক নাকি আবার (ভারপ্রাপ্ত)প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর দুইজন ছাত্র বলে, শিক্ষক না থাকায় আমাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না। একজন শিক্ষক দু’টি শ্রেণীতে একসঙ্গে ক্লাস নেন। তাই কোনো ক্লাসই ভালোভাবে হয় না। সহকারি শিক্ষক গৌরঙ্গ বিশ্বাস বলেন, এক সাথে একাধিক শ্রেণীর পাঠদান থাকায় শিক্ষার্থীদের সময় ব্যাহত হচ্ছে। আমরা এক ক্লাস নিতে গেলে অন্য ক্লাস ফাঁকা থাকে। বাধ্য হয়েই আমাদের এক সঙ্গে দু’টি ক্লাস নিতে হয়। সহকারী শিক্ষক বর্তমান(ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক জুলেখা খাতুন বলেন, আমরা একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষক দেওয়ার কথা বলেছি,কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষক দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ নায়েব আলী বলেন,কিছু দিন  আগে হঠাৎ করে বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। অনুমানিক ২০১১-১২ অর্থ বছরে  উপজেলা পরিষদ থেকে নতুন ভবন দেওয়া হয়েছে। অন্য আর একটি ভবন পরিত্যক্ত রয়েছে৷স্কুলটি নিচে জায়গায় স্থাপিত হওয়ায়  সামান্যতম বৃষ্টি হলেই হাটু সমান পানি বেঁধে যায়। বিষয়টি আমি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জানিয়েছি স্কুলে  একটু মাটি দিয়ে উচু করতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত  মাটি দেওয়া হয়নি। এ ব্যপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ চন্দ্র গাছি জানান, ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট আমার জানা নেই ৷ তবে বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হবে ৷ যাতে করে অতিদ্রæত শিক্ষক সংকট সমস্যা সমাধান হয়৷ঐ ক্লাসটারের দায়িত্ব প্রাপ্ত  উপজেলা  সহকারি প্রাথমিক  শিক্ষা  অফিসার  মিঠুন কুমার  দাস  জানান, নীতিমালা  অনুযায়ী শিক্ষক সংকট হওয়ার কথা না। আমার অজান্তে শিক্ষক বদলি হয়েছে। আমার আর কিছুই বলার নেই। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অরুন চন্দ্র ঢালী জানান, ঐ বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে একজন সহকারী শিক্ষক দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে শিক্ষক সংকট কেটে যাবে ৷ উল্লেখ্য শালিখায় মোট ১০২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু স্কুলেই শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক সংকট রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষকগন জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.