হোসেনপুরে ধান সংগ্রহ নিয়ে বিপাকে খাদ্য গোদাম কর্তৃপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি বোরো মওসুমে ৪৬ হাজার ২৩৫ মেঃ টন ধান উৎপাদন হলেও সরকার নির্ধারিত মাত্র ২২৮ মেঃ টন (.৫০% এর কম) ধান সংগ্রহ অভিযানের নিদের্শনা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খাদ্য গোদাম কতৃপক্ষ। কেননা স্থানীয় বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উপজেলার প্রায় ৪২ হাজার কৃষক পরিবার তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে খাদ্য গোদামে হুমরি খেয়ে পড়েছেন। কে আগে গোদামে ধান দিবে এ নিয়ে চলছে বাক্বিতন্ডা এমনকি হাতাহাতি। অনেকেই গোদামে ধান দিতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন গোদাম কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে। হাজার হাজার কৃষকের ন্যায় মাত্র ২২৮ জন কৃষকে ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে গোদাম কতৃপক্ষকে।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার (২৫জুন) তথ্য সংগ্রহকালে জানায়ায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৪২ হাজার কৃষক পরিবার ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করে ৪৬ হাজার ২৩৫ মেঃ টন ধান উৎপাদন করেছেন। সরাকার কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ভাবে গত ২৫ মে থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। প্রতিমন ১০৪০ টাকা নির্ধারন করে অত্র উপজেলায় ২২৮ মেঃ টন ধান ক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। যা অত্র উপজেলার উৎপাদনের শতকরা .৫০% এর কম। ধান সংগ্রহের নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যক কৃষকের কাছ থেকে ৩ মেঃ টন করে ধান সংগ্রহ করার নিয়মে অত্র উপজেলায় মাত্র ৭৬ জন প্রান্তিক কৃষক খাদ্য গোদামে ধান দিতে পারতো। এমন প্ররিশ্রিতিতে উপজেলা ধান-চাল সংগ্রহ উপজেলা কমিটি প্রান্তিক কৃষকদের কিছুটা সুবিদার কথা চিন্তা করে প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ১ মেঃ টন করে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এ হিসেবে উপজেলায় ২২৮জন প্রান্তিক কৃষক যাতে এ সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এমনতাবস্থায় প্রায় ৪২ হাজার কৃষক পরিবার থেকে মাত্র ২২৮ জন প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ নিয়ে খাদ্য গোদান কতৃপক্ষকে পড়তে হচ্ছে নানা বিড়াম্ভানায়। অপরদিকে কিছু স্বার্থন্নেসি মহলে উৎকানিতে কৃষকদের কাছ থেকে শুনতে হচ্ছে অনিয়ন,দূনীতি ও অব্যবস্থাপনাসহ নানা অভিযোগ।
এ ব্যাপারে ওসি এলএসডি মোছাঃ নাজমুন নাহার, হাজার হাজার কৃষকের ন্যায় মাত্র ২২৮ জন প্রান্তি কৃষকের ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এমনকি অনেক কৃষকদের অকট্ট গালাগালি শুনেই কাজ করতে হচ্ছে তাদের। তবে ধান-চান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমল কুমার ঘোষ জানান, এ বছর এ উপজেলায় প্রচুর ধান উৎপাদন হয়েছে। ধান ক্রয়ের বরাদ্ধ কম হওয়ায় কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রকৃত কৃষি কার্ডধারী কৃষকদের তালিকা থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.