রাণীনগরে ঝঁকিপূর্ণ সেতু রেখেই নির্মাণ হচ্ছে নতুন সেতু !

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের ‘হাতিরপুল’ নামক ঝুঁকিপূর্ণ সেতু না ভেঙ্গে এবং বিকল্প রাস্তা তৈরি না করেই পাশে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে যানচলাচল করার সময় যে কোন মহুর্তে ধসে পরার আশংকায় ইতিমধ্যে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেতুটির মাঝখানে দেবে গিয়ে হেলে পরায় এবং ফাটল ধরায় দূঘর্টনার আশংকা আর ঝুঁকি নিয়ে চলছে ছোট যারবাহনগুলো। সেতুটি ভেঙ্গে গেলে রাণীনগর ও নওগাঁ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
জানা গেছে, রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কে রাণীনগর সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রতনদারি খালের ওপর ব্রিটিশ আমলে চুন-সুরকি দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি হাতির পিঠের ন্যায় আকৃতি হওয়ায় ‘হাতিরপুল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এক সময়ে এই কাদা মাটির সড়কে পাকাকরণ হলেও সেতুটি বহাল রাখা হয়। অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচল করায় দীর্ঘ দিন আগেই সেতুটির মাঝখানে দেবে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে হেলে পরে। বছর খানেক আগেই ওই সেতুটি কোন রকমে সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়। ইতিমধ্যে নওগাঁ সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের আওতায় রাণীনগর থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কে আরো প্রশস্ত ও পুনরায় পাকাকরণ এবং চারটি সেতু ও ২৬টি কালভার্ট নির্মাণ কাজের টেন্ডার হয়। এরপর সড়কে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য করজগ্রাম.খাঁনপুকুর আমগ্রামের মোড়সহ কয়েকটি স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করে কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু হাতিরপুল নামক সেতুর পাশে নতুন সেতুর কাজ শুরু করলেও এখনো ওই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ভেঙ্গে ফেলা কিংবা বিকল্প রাস্তা তৈরির কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে নওগাঁ জেলা সদরে পৌঁছতে ভারি যানবাহনগুলোকে মাত্র ১১ কিলোমিটার সড়কের পরিবর্তে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সড়ক পারি দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় ব্যয় হচ্ছে অপরদিকে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এত কৃষিপূণ্য ও ব্যবসার মালামাল পরিবহণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ট্রাকচালক সিরাজুল ইসলাম, শাহাজান আলী , মিনহাজুল মোল্লা, ময়নুল হাসান জানান, এই একটি মাত্র সেতুর কারনে সময় আর টাকা দুটোই ব্যয় হচ্ছে। সেতুর পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরি করলে একদিকে যেমন সময় কম লাগতো অন্যদিকে পরিবহণ খরচও কমে আসতো। পথচারীরা জানান, হাতিরপুলের বর্তমান যে অবস্থা তাতে যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের দূঘর্টনা ঘটতে পারে। সেতুটি ভেঙ্গে গেলে রাণীনগরসহ জেলা সদরের সাথে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই নতুন সেতুর পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরির দাবী জানান।
এব্যাপারে নওগাঁ জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল মুনছুর আহমেদ বলেন, হাতিপুল সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেতুটি খালে ওপর হওয়ায় বিকল্প রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে চলমান নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শেষ করা হবে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.