রাঙ্গুনিয়ার নোয়াগাঁওয়ে হাজী মনছুর আহমদ সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মধ্যম নোয়াগাঁও এলাকায় হাজী মনছুর আহমদ সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে সড়কের আরসিসি ঢালাই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান সিকদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর জালাল উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার আহমেদ মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতা জামাল উদ্দিন, সাবের আহমদ, স্থানীয় শফিউল আলম কোম্পানি, মফিজুল ইসলাম, ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মো. ছাবের, সদস্য মো. মিনার, ছাত্রলীগ নেতা মো. কাসেম, মো. ফয়সাল, মো. আসিফ প্রমুখ। কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দকের কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগে অন্ত ছিল না। পরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের ১ হাজার ফুট আরসিসি ঢালাই কাজের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। কাজটি শেষ হলে এলাকাবীর দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘব হবে। তবে পাহাড়ি পানির ঢল থেকে সড়কটি রক্ষা সহ টেকসই করতে স্থানীয়রা গাইডওয়াল স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বাড়ছে বিলাতি ধনিয়ার আবাদ,
প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লাভবান হবে কৃষক

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) :
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়ছে বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষাবাদ। অল্প পুজিতে অধিক লাভের কারণে এই চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি বিলাতি ধনিয়া পাতার সুনাম রয়েছে সর্বত্র। এখানকার উৎপাদিত পাহাড়ি ধনিয়া পাতা রপ্তানি হয় রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের উপজেলার বড় বড় বাজার সহ চট্টগ্রামের বাইরে ঢাকা কুমিল্লা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। পাহাড়ি জমিতে প্রতিবছর বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষ করে আসছেন রাঙ্গুনিয়ার শত শত বাঙ্গালী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির মানুষ। এই ধারাবাহিকায় চলতি বছরেও বিলাতি ধনে পাতার ব্যাপক চাষাবাদ হলেও দামে হতাশ কৃষকরা। যেখানে গত বছর প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেখানে এ বছর ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বিলাতি ধনিয়া পাতা। চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার জন্য চট্রগ্রাম কুমিল্লা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ধরণের চাষাবাদে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রায় ২৪ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বিলাতি ধনিয়া। গত বছর যার পরিমাণ ছিল ২০ হেক্টর। উপজেলার ইসলামপুর, রাজানগর ইউনিয়ন সহ রাঙ্গামাটির কাউখালী সাপছড়ি, মানিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় চাষ হয়েছে বিলাতি ধনিয়া পাতার। ব্যবসায়ীরা এসব এলাকার উৎপাদিত ধনিয়া পাতা স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করে ট্রাকে করে চট্রগ্রাম, কুমিল্লা নিমশা ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। এতদ অঞচলের ধনে পাতা চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া দরকার বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
ইসলামপুর ইউনিয়নের বেতছড়ি গ্রামের কৃষক মো. হাছান মুরাদ বলেন প্রতি বছরই ধনিয়ার চাষ করি,এবছরও দেড় কানি জমিতে চাষ করেছি। শুরুতে কেজি প্রতি ৯০-১০০ টাকা দাম পেলেও এখন দাম কমে গেছে। কেজি প্রতি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা।
একই এলাকার আরেক চাষি শিশু মোহন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বিলাতি ধনিয়া চাষে প্রচুর পুঁজির প্রয়োজন। এক কানি জমি আবাদ করতে প্রায় ২-৩ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋনের ব্যবস্থা করতে পারলে কৃষকদের জন্য উপকার হবে।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সহিদুজ্জামান বলেন, কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি। উপজেলায় প্রচুর বিলাতি ধনিয়া পাতা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে এখানে উৎপানের পরিমান আরও বাড়ানো যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, যে কোন ধরনের কারিগরি পরামর্শের জন্য আমাদের মাঠ পর্যায়ে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন। তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ সহ বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দিচ্ছেন। এছাড়াও কৃষি ঋনের জন্য সুপারিশ সহ বাজার ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.