রাঙ্গুনিয়ার তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটির গহীন জঙ্গলে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত রাঙ্গুনিয়ার তরুণ অজয় দাশের (১৭) মৃত্যুর ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৬ জুন) রাতে নিহতের মা বেবী রানী দাশ বাদী হয়ে রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। মামলার পর থেকে রহস্য উদঘাটনে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
মামলার এজহার সুত্রে জানা যায়, অজয় দাশের বাড়ি শিলক ইউনিয়নের নটুয়ার টিলা এলাকায় হলেও সে হাটহাজারীতে বোনের বাড়িতে থেকে উপজেলার ফতেয়াবাদ এলাকার একটি গাড়ি পেইনটিং দোকানে চাকুরী করতো। গত ১৫ জুন ভোটার হতে সে রাঙ্গুনিয়ার শিলক নটুয়ার টিলা নিজ গ্রামে আসে। ১৭ জুন সকাল ১০টার দিকে অজয় দাশের মুঠোফোনে তার মালিক ফোন করেছে জানিয়ে সে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার পর থেকে অজয় দাশের মুঠোফোনটি দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ধরে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাকে বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেন অজয়ের মা বেবী রানী দাশ। এভাবে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ২০ জুন অজয়ের মোবাইল ফোনটি খোলা পেয়ে ফোন করলে এটি রিসিভ করেন রাঙ্গামাটি মানিকছড়ি পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই মো. রহমান খাঁন পাঠান। তিনি মুঠোফোনে বলেন, মানিকছড়ি সেনাক্যাম্পের ১০০ গজ সামনে পাকা রাস্তার ডান পার্শ্বে আনুমানিক ২০০ ফুট নিচে পাহাড়ের ঢালুতে ডুমুরী গাছের সাথে সাদা লাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় পেছানো ঝুলন্ত অবস্থায় একজন তরুণের লাশ পাওয়া গেছে। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার খবর অনুযায়ী স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে দেখে উদ্ধারকৃত লাশটি অজয় দাশের। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে উপজেলার নটুয়ারটিলা নিজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় দাহ করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও নিহতের মা বেবী রানী দাশ বলেন, ‘আমার স্বামী বিরন্দ্র দাশ বেশ কয়েকবছর আগে মারা যায়। আমার ২ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে অজয় সবার ছোট। আমি যখন আমার ছেলের লাশটি সনাক্ত করি তখন গলায় রশির দাশ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া পচন ধরেছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে তার অসংখ্যা আঘাতের দাগ রয়েছে। আমার ছেলেকে অপরিচিত মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমার ছেলের মুঠোফোনের কললিষ্ট বের করলে হত্যাকারীদের ধরা যাবে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
রাঙ্গামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.