ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥
ঝিনাইদহে ৬ষ্ঠ এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে সমিত ঘোষ নামের এক প্রাইভেট শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে সদর উপজেলার নগরবাথান গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত সমিত নগরবাথান ঘোষপাড়ার দুলাল ঘোষের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান জানান, সদর উপজেলার রসুলপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষে প্রাইভেট পড়াতেন সমিত ঘোষ। সকালে নগরবাথান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী তার কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে তাকে শ্লীলতাহানী করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সমিত ঘোষকে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

 

শৈলকুপায় একজনে জমি অন্যজনের নামে রেজিস্ট্রির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্য ও উমেদপুর ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা সুবাস সাহার বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেজিষ্ট্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলে জমি নিয়ে ওই এলাকায় মামলা হামলার পাশাপাশি সামাজিক দাঙ্গা ও অস্থিরতার আশংকা করছেন এলাকাবাসি। শৈলকুপার উমেদপুর ইউনিয়নের আড়–য়াকান্দি গ্রামের আব্দুর রব অভিযোগ করেন, ওই গ্রামের নাদের হেসেন বিশ্বাসের ছেলে হাবিবুর রহমান উমেদপুর ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা সুবাস সাহার মাধ্যমে ভুয়া পরচা বানিয়ে তিন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেছেন। সাব রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্য কাগজপত্র যাচাই না করেই ওই জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে ২০১৮ সালের ১২ আগষ্ট ৪৮৪২ নম্বর কোবলা দলিলে আড়–য়াকান্দি গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে জামিরুল লস্করের কাছে দুই শতক, একই বছরের ৩০ সেপ্টম্বর ৫৮৮৮ দলিলে লুৎফর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমানের কাছে ১৪ শতক এবং ১৩ নভেম্বর ৭১৪১ নম্বর দলিলে আব্দুর রশিদের ছেলে রাশিদুলের কাছে আরও দুই শতক জমি বিক্রি করে দেন। রেজিস্ট্রিকৃত দাগগুলোর অস্তিত্ব জমাখারিজ কাগজপত্র ও খতিয়ানে নেই। শৈলকুপা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ইফতেখার ইউনুস মনে করেন ওই কাগজপত্রগুলো ছিল জাল। জাল কাগজপত্র তৈরী করে জমি রেজিষ্্িরট হওয়ার পর ক্রেতারা ওই জমিতে ঘরবাড়িও তৈরী করেছেন। এলাকায় সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, জমি বিক্রেতা হাবিবর রহমানের ভাই আব্দুর রব ভায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। মভষভঠশ শৈলকুপার উমেদপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের সহকারি ভূমি অফিসার সুবাস সাহাকে তদন্তের ভার দিলেও তিনি মালপানি খেয়ে ওইসব জমি ক্রেতাদের দখলে আছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। বিষয়টি আরও জটিল হলে আদালতের নির্দেশে শৈলকুপা থানাকে পুণরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। থানার একজন সাব ইন্সপেক্টর অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে একজনের জমি অন্যের নামে বিক্রি করার তথ্য প্রমানিত হয়। বিষয়টি নিয়ে উমেদপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারি ভূমি অফিসার সুবাস বলেন, তিনি যেটি করেছেন সঠিক করেছেন। উমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লার সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, জমি বিক্রির ফলে এলাকায় সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে একাধিকবার তিনি ও তার মেম্বরা শালিস বৈঠক করেছেন। আদালতে ইউনিয়ন ভুমি অফিসারের দাখিল করা প্রতিবেদনের কারণে এই জটিলতা নিরসন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও চেয়ারম্যান সাব্দার মোল্লা মনে করেন। শৈলকুপার সাব রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্যের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, প্রতিদিন কাজের চাপে কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা চেনার উপায় থাকেনা। তাছাড়া, জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় কাগজপত্র যাচাই করে দেখার বিধান নেই। ফলে রেজিস্ট্রির জন্য যেসব কাগজপত্র দাখিল করা হয় তাতের ওপর ভিত্তি করেই তিনি রেজিস্ট্রি করে দেন। এব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল মালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

নিজেদের পাপে পুড়ছে ঝিনাইদহের হাজারো কৃষক
মাঠের পর মাঠ অবাধে পুকুর খনন জলাবদ্ধতার
কারণে ধান চাষ বন্ধ হয়ে গেছে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥
গোটা ঝিনাইদহ জুড়ে অবাধে খনন করা হচ্ছে পুকুর। এ সব পুকুর অবৈধ হলেও খনন করাতে কৃষকদের বাধ্য করা হচ্ছে। একজন কৃষক পুকুর খনন করতে জমি বন্দোবস্ত দিলেই কেল্লাফতে। সুযোগ বুঝে মাছচাষিরা পাশের জমিতে পরিকল্পিত ভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে পরের বছরও বন্দোবস্ত নিয়ে নিচ্ছেন। এ ভাবে মাঠের পর মাঠ জুড়ে অবাধে খনন করা হচ্ছে পুকুর। ঝিনাইদহের মধুহাটী, সাগান্না ও সাধুহাটিসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে মাঠে অবৈধ পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। খাল, বিল ও ফসলের মাঠে পুকুর কাটায় পানি নিষ্কানের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাধুহাটি বীজ উৎপাদন কামারের ২২ একর বীজ খেতসহ পাশ^বর্তী এলাকার কয়েক হাজার একর জমির আউস, আমন, বোর ও রবি ফসলের জমি পানির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষক ও বীজ উৎপাদন কামারের কর্মকর্তা অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। পুকুর মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় কোন অভিযোগ কাজে আসছে না। সরেজমিন দেখা গেছে, সাধুহাটি, মধুহাটি সাগানা ইউনিয়নসহ পাশ^বর্তী এলাকা তিন ফসলী উর্বর জমি। এসব এলাকার মাঠে মাঠে ধান, পাট, আখ, ্ছোলা মুগ, মসুরসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। মাঠের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন বিল ও খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি নবগঙ্গা, ইছামতি ও চিত্রা নদীতে পৌছায়। কিন্ত কয়েক বছর ধরে সাধুহাটি সরকারি বীজ উৎপাদন খামারের নিচে নলবিলর, মাগুরাপাড়া ও নাথকুন্ডু গ্রামের খাল, সাধুহাটির ছাইভাঙ্গা বিল, ভেদুড়ের বিলসহ বিভিন্ন বিলের মাঝে পুকুর কাটার ফলে এখন আর ধান চাষ হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য কৃষকরাও পুকুরের জন্য জমি বন্দোবস্ত দিচ্ছেন। সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজি নাজিরউদ্দিন জানান, পুকুর খননের ফলে মাগুরাপাড়া, পোতাহাটি, সাধুহাটিসহ এ ঞ্চলের ২০ থেকে ৩০টি মাঠ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সাধুহাটি বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মজিবর রহমান জানান, বিলে ও মাঠে পুকুর খননের কারনে তার ফার্মের ১২ একর বিজতলা পানির নীচে তলিয়ে আছে। পানি বাড়লে বর্ষাকালে ২২ একর জমি তলিয়ে যায়। ফলে দেশের প্রথম ভিত্তিবীজ উৎপাদনকারি এ কৃষি খামার খেকে ২২ একর জমির বীজ থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এবিষয়ে জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগকে অবহিত করেও কোন ফল পাওয়া যায় নি। সাগান্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আল মামুন জানান, পুকুর কাটার কারনে তার এলাকার স্বাভাবিক ফসলের জমি পানিতে ডুবে যাচ্ছে। একই অভিযোগ, মাগুরাপাড়া গ্রামের প্রবিন সমাজসেবক আব্দুল বারি মিয়া, কৃষক রফিকুল ইসলাম, মামুনশিয়ার আব্দুল মতিন, সাবেক চেয়ারম্যান বাকের আলী বিশ^াস, আবুল কাসেম বিশ^াস ও মিজানুর রহমানসহ এলাকার শতাধিক জমির মালিকদের। এলঅকাবাসি জানায়, আনার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নল বিলের মাঝে বিশাল অট্টালিকা বানিয়ে দুই’শ বিঘা জমিতে পুকুর কেটে অন্যের ক্ষতি করে নির্বিঘেœ মাছ চাষ করে যাচ্ছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই এখন পুকুর ও মাছ চাষের দিকে ঝুকেছেন। জেলা প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে আনার হোসেন বিলের মাঝখানে বিশাল প্রশাদ তৈরি করেছেন। বিলের পানি প্রবাহ বন্ধ করে তিনি মাছ চাষ করছেন। এবিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেউ জমির শ্রেণীর পরিবর্তন ঘটাতে পাবেন না। তিনি ধানের মাঠে পুকুর খনন খাল বিলের বুকে ও সরকারের জমিতে পুকুর ও ঘের কেটে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে সাধারন কৃষকের জমি ক্ষতি করার জন্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষনা দেন। তিনি আরো বলেন আমরা ৪টি সার্ভে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি । যারা জমির ক্ষতি কের অবৈধভাবে পুকুর কেটেছে তাদের তালিকা করে আইনের আওতায় আনা হবে ঘোষনা দেন। তিনি বলেন, কোন ভাবেই কুকুর খননকারি প্রভাবশালীরা ছাড় পাবেনা।

ঝিনাইদহে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ
পাচারবিরোধী দিবস পালিত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥
‘সুস্বাস্থ্যেই সুবিচার, মাদক মুক্তির অঙ্গীকার’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়েছে। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের আয়োজনে বুধবার সকালে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে পুরাতন ডিসি কোর্ট মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার দেব, সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান ও এ্যাড. সালমা ইয়াসমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.