স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক পদে ডাঃ মিজানুর রহমানের যোগদান

মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম, কুলিয়ারচর :

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা, মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক রোগ নিয়ন্ত্রক হিসেবে আজ ২৭ জুন (বৃহস্পতিবার) যোগদান করেছেন।
জানাযায়, ২৪ তম বিসিএস এ ২০০৫ সালে
জুলাই এ পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরিতে প্রথম প্রবেশ করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ৯ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা হিসাবে ডা: মুহাম্মদ মিজানুর রহমান যোগদান করে সাড়ে ৫ মাসে উপজেলার ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক এ সংস্কার সহ বিভিন্ন কাজে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উৎফুল্ল করে তোলেন। যোগদানের ৪ মাসে জীপগাড়ি প্রাপ্তি এর মধ্যে বাজিতপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিজিটাল নিয়ন সাইনবোর্ড, মূল ফটক, পানির ট্যাংক স্থাপন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা জোরদার, প্রতি ওয়ার্ডে মেডিকেল বর্জ্যের বিন বাক্স স্থাপন, স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেবিন বরাদ্ধ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ, বায়ু ক্যামিকেল এনালাইজার ও ইসিজি মেশিন সচলকরন, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ইওজার ফি তালিকা প্রদর্শন, সিড়িতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবার্তা স্থাপন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ও পুষ্টি সেবা সপ্তাহ উৎসাহ উদ্দীপনায়য় উদযাপিত, জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০১৯ এর সফল বাস্তবায়ন , ভর্তিকৃত ডেলিভারী রোগীদের প্রয়োজনীয় অক্সিটুসিন ইনজেকশন সঠিক তাপমাত্রায় রাখার জন্য ফ্রিজ ক্রয়করণ ও ১০ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রক্রিয়া চালুকরণ, নিজস্ব অর্থায়নে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ক্রয়, ডেলিভারীরুম রঙিনকরণ । সবিশেষে ইউএইচ এ- এফপিও বাসভবন সংস্কার, ব্লাড ট্রান্সসিশনসহ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার্থে সমাজকল্যাণ ফান্ডের অর্থ ব্যয় করে গেছেন।
এরআগে একই জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় ২০০৬ সালের এপ্রিলে যোগদানের পর সুনামের সহিত দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর (একযুগ ) কর্মরত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নয়নকাজে ব্যাপক অবদান রেখেছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি দায়িত্ব পালনকালে নানা মুখী উন্নয়নকাজের মধ্যে ২০১৮ সালের উন্নয়ন মেলায় উপজেলা পর্যায়ে ১ম স্থান অর্জন, কুলিয়ারচর হাসপাতালটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যার উন্নতিকরণের প্রশাসনিক অনুমোদন লাভ করে, ডেলিভারী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, নিজস্ব অর্থায়নে বায়োমেট্রিক মেশিনের মাধ্যমে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, X-ray মেশিন সচল, H.E.D এর অর্থায়নে পুরাতন ভবন সংস্কার, ১ম শ্রেনির গেজেটেট কোয়াটারে জানালার প্রটেকশন নেট দিয়ে খাচা তৈরি অভ্যান্তরীন রাস্তা নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর দেয়াল সংস্কার, ওয়ার্ড বিভাগের বারান্দার গ্রীল নির্মাণ,অফিসের কলাপসেবল গেইট, ডেলুভারী রুমের সাথে এটাস্ট বাথরুম, মুল রাস্তায় ইন্ডিগেটর সাইনবোর্ড স্থাপন, এম্বুলেন্স সংস্কার, হাসপাতালের অভ্যান্তরে দিকনির্দেশনামুল সাইনবোর্ড স্থাপন, সভাকক্ষের হাতলবিশিষ্ট ৩০টি চেয়ার মেরামত, সভাকক্ষে বোর্ড স্থাপন, নিজস্ব অর্থায়নে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ক্রয়, জাইকার অর্থায়নে অসংক্রামক রোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে, হাসপাতালের সামনে স্থায়ী পতাকা দন্ড নির্মাণসহ দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান তৈরি করেন । এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দিবসসমূহ ও স্বাস্থ্য সেবাসপ্তাহ যথাযথ ভাবে উদযাপন করেন। তিনি নিয়মিত রোগীদের সেবাদানের মাধ্যমে এ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন । সকলের অসংখ্য দোয়া ও প্রত্যাশায় তার এ সফল কর্মের ফলেই কর্মস্থলের সর্বোত্তম স্থান অর্জন করবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.