নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো পাকিস্তান

বাবর আজম ও হারিস সোহেলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারালো পাকিস্তান। এই জয়ে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশাও টিকে থাকলো পাকদের। আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৩৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.১ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পাড়ি জমায় সারফরাজ বাহিনী। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত সেঞ্চুরি (১০১) রান করেন বাবর আজম। হারিস সোহেল করেন (৬৮) রান।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তানী বোলারদের তোপে পড়ে ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান সংগ্রহ করে কিউই ব্যাটসম্যানরা। দলের হয়ে জেমস নিশাম সর্বোচ্চ (৯৭) রান করেন। কলিন ডি গ্রান্ডহ্যামের ব্যাট থেকে আসে (৬৪) রান।

সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই পাকিস্তানের। এমন চাপ নিয়ে বুধবার বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়। টস জিতে কিউই অধিনায়ক কেন উইলয়ামসন আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন।

আগে ব্যাট করতে নেমে শরুতেই পাকিস্তানী বোলারদের অ্যাকশনে বেহাল দশা দেখা দেয় নিউজল্যান্ড ব্যাটিং লাইন আপে। ৪৬ রানে হারায় প্রথম সারির চার ব্যাটসম্যানকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় কিউইরা। বল হাতে দারুণ ছন্দে থাকা মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভারের ফার্স্ট বলেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান মর্টিন গাপটিল ফেরেন ৫ রানে।  ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামেন বিশ্বকাপে দলের নিয়মিত ত্রাতা কেন উইলিয়ামসন। মুনরোকে নিয়ে দেখে-শুনে শুরু করতে থাকেন তিনি। কিন্তু পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদে পাওয়ারপ্লেতেই তিন বোলার ব্যবহার করে দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন এই ম্যাচে। মোহাম্মদ আমির বলে সুইং ঠিকভাবে না পাওয়াতে তাকে হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। তখন আক্রমণে নিয়ে আসেন বাঁ-হাতি পেসার শাহিন আফ্রিদিকে। ইণিংসের শুরুতে পাওয়ারপ্লেতে স্পিনার হাফিজকে দিয়ে অ্যাটাক শুরু করেন, সাথে আমির এবং তৃতীয় বোলার হিসেবে আনা হয় আফ্রিদিকে। শাহিন আফ্রিদি বোলিংয়ে আসার পর শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের আসল পরীক্ষা। ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে কলিন মুনরোকে ১২, অভিজ্ঞ রস টেলর ৩ ও টম লাথাম ১ রানে ফেরেন শাহিনের শিকার হয়ে। ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে অনেকটা চাপে পড়ে যায় কিউইরা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন কেন উইরিয়ামসন। পঞ্ম উইকেট জুটিতে কেন-জেমস নিশাম মিলে তোলেন ৩৭ রান। কিন্তু ৮৩ রানের মাথায়  ৪১ রান করে কেন উইলিযামসনকে লেগ স্পিনার শাদাব খান ফেরালে ফের কঠিন চাপে  পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দলের চাপ কাটানোর দায়িত্ব নেন জেমস নিশাম ও কলিন ডি গ্রান্ডহ্যাম। দুজনের ধৈর্যশীল ইনিংসে নিউজিল্যান্ডও পায় সম্মনজনক স্কোর। জুটিতে তোলেন ১৩২ রান। দলের অগ্রজের ভূমিকা পালন করে জেমস নিশাম তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। গ্রান্ডহ্যাম তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত গ্রান্ডহ্যামের ৭১ বলে ৬৪ ও নিশামের ১১২ বলে ৫ চার ও দুই ছয়ে অপরাজিত ৯৭ রানের ওপর ভর করে ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রানের সম্মানজনক স্কোর দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড।

পাকিস্তানী বোলারদের মধ্যে শাহিন আফ্রিদি ৩টি, মোহাম্মদ আমির ও শাদাব খান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.