এমন দেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি : নজরুল ইসলাম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এক মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশী রায়ের মাধ্যমে এক বছরের বেশি দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি দিনদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা অবিলম্বে তার মুক্তি কামনা করেছি।

তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই দেশনেত্রীর জামিন হতে পারে। কিন্তু নানা কৌশলে তার জামিন ও মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে। বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা আরো বলেন, আরো অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়, মামলার সাজাও হয়। কিন্তু তারা তিন দিনের মধ্যে জামিন পেয়ে যায়। কিন্তু তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয় না। ফালতু মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে লেবার পার্টি কতৃক আয়োজিত সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংহতি সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সবাই জানেন, শুধু বাংলাদেশের জনগণই না সারা বিশ্বের মানুষ জানেন বাংলাদেশে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতেই শেষ হয়ে গেছে। এই নির্বাচনকে কেউ গ্রহণ করেননি। কিন্তু নির্লজ্জের মত ক্ষমতা দখল করে তারা সে নির্বাচনের জয়ে আনন্দ করে। এই ধরণের একটা সরকার যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত না এবং জনগণের ভোটের পরোয়াও করেন না তারা জনগণের কল্যাণে পর্যাপ্ত বাজেট রাখার পরিবর্তে যাদের দিয়ে ভোট ডাকাতি করিয়েছে তাদের জন্য বেশী বাজেট করে।

তিনি বলেন, আজকে গার্মেন্টসে কাজ করা শ্রমিকেরা জীবন ধারণের উপযুক্ত বেতন না পেয়েও দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের রেকর্ড করেছেন। আজকে আমার বাম পাশে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা দিনের পর দিন এখানে বসে আছেন। তাদের ফেস্টুনে লেখা আছে, ‘চাকরি আছে বেতন নাই, এমন দেশ কোথাও নাই’। তারা সত্যি কথা বলেছেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, কৃষক তার উৎপাদিত ধানের উৎপাদন মূল্যও পায় না। শিক্ষকরা কাজ করে বেতন পায় না। মানুষ খুন হয়ে যায়। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের কথা আমরা জানি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এর রহস্য উদঘাটন করে খুনিদেরকে গ্রেফতার করা হবে। এখন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে ৪৮ বছর লাগবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় না। তাই আজ শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা নয় সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এই তো বুধবার বরগুনায় এক স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা করা হচ্ছে। এই যে অবস্থা এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলতে চাই এমন একটা দেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমরা যুদ্ধ করেছি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন। আজ সেই নির্বাচনে জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। জনগণ যদি ভোট দিতে না পারে তবে সেটাকে নির্বাচন বলা যায় না। আজ দেশের মানুষ এক মহাসংকট অতিক্রম করেছে। মানুষকে এ সংকট থেকে রক্ষা করতে হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৮২ সালে এই সরকারের দোসর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণতন্ত্রের গলা কেটেছিলেন। সেই সময় আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনি একটা দলের প্রধান ছিলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো তার প্রতিক্রিয়া কী। তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন, ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপী’।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্রকে গলা কেটে হত্যা করলেও যিনি অসুখী হন না, তার হাতে গণতন্ত্র কখনো নিরাপদ নয়। কিন্তু তার রাজনীতি কেউ বন্ধ করে নাই। আমি মনে করি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত। বাংলাদেশের জনগণ স্বৈরতন্ত্রের শাসন দীর্ঘ দিন মানে না। আজও মানবে না ইনশাআল্লাহ। কিন্তু সেই ধরণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য, সেই ধরণের একটা পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য আন্দোলন দরকার। সেরকম আন্দোলন গড়ে তোলার সামর্থ্য বাংলাদেশে একজনেরই আছে। তিনি হলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী বেগম খালেদা জিয়া। সরকার এটা জানে বলেই মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ে তাকে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই একসাথে গেথে আছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন। আর সেই কারণেই সরকার তাকে মুক্তি দিতে বিলম্ব করছে। কারণ সরকার জানে এই প্রশাসন এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করার মূল ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া। আমরা দাবি করবো বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হোক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন নির্বাচন দেয়া হোক।

তিনি আরো বলেন, এই বাজেটের নামে আরেকবার করের বোঝায় বিধ্বস্ত করার যে চক্রান্ত করা হচ্ছে সেটা বন্ধ হোক। বাজেটে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন প্রস্তাব প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা চাই এদেশের সাধরণ মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সংহতি সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ্যাডভোকেট ফারুক রহমান, ন্যাপ (ভাষানী) চেয়ারম্যান এ্যাড. মোঃ আজহারুল ইসলাম, এনপিপির চেয়ারম্যান এ্যাড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব জাকির হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সুমন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আবু কাউছার ভূঁইয়া, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির, খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ছাত্রমিশনের আহ্বায়ক সৈয়দ মোঃ মিলন, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.