জাবিতে ছাত্রলীগের ছোড়া ইটে সহকারী প্রক্টর আহত

মিষ্টি খেতে গিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে আড়াই ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন সহকারী প্রক্টর মহিবুর রউফ শৈবাল।

ঘটনাস্থলে বঙ্গবন্ধু হলের দুই শিক্ষার্থী অন্তত ১২ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুপুর দুইটার পর থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ও একজন পুলিশ এনামে ভর্তি আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে উঁচু বটতলার বেলালের দোকানে মিষ্টি খেতে যায় বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী ৪৬তম ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের দ্বীপ বিশ্বাস ও বাংলা বিভাগের আলিফ হাসান দীপু।

এ সময় মওলানা ভাসানী হলের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ কাপালীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে দ্বীপের। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দ্বীপ ও দীপুকে চড়-থাপ্পড় মারে সৌরভ।

খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠি, চাপাতি, রড, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বটতলা এলাকায় আসে। এ খবর শুনে ভাসানী হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা প্রস্তুতি নেয়। উভয় গ্রুপ বটতলায় মিলিত হলে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকও সেখানে উপস্থিত হন। তাতেও কর্ণপাত করেনি কোনো পক্ষ।

আড়াই ঘণ্টা সময় নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ইট পাটকেলের সঙ্গে সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এসময় পুরো ক্যাম্পাস থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছিল।

সংঘর্ষ চলাকালে বঙ্গবন্ধু হলের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান লিটন (দর্শন) ও শাওনসহ (আইআইটি) কয়েকজনকে অন্তত ১২-১৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়। বিকাল ৪টার দিকে আশুলিয়া, সাভার মডেল থানা, ধামরাই ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

বিকাল সাড়ে চারটার দিকে তারা বটতলায় উপস্থিত হয়ে ভাসানী হলের দিকে অন্তত ৪টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। আর বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীদের দিকে ২টি ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। টিয়ারশেল নিক্ষেপের সময় শিক্ষার্থীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে আশুলিয়া থানার ওসি মো. রেজাউল হক দীপু পায়ে আঘাত হয়।

এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন সহকারী প্রক্টর মহিবুর রউফ শৈবাল ও বঙ্গবন্ধু হলের ওয়ার্ডেন মেহেদী ইকবাল।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক লিখন চন্দ্র বালা যুগান্তরকে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৬৫জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের আমারা হলে ফিরিয়ে দিয়েছি। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে আমরা অনতিবিলম্বে ফোর্স নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনকেও বলব জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.