ক্রিকেটই চেনাচ্ছে বাংলাদেশকে

যুক্তরাজ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। এর এক-তৃতীয়াংশই তরুণ বা চতুর্থ প্রজন্ম। এতদিন তাদের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল কেবলই দাদি-নানিদের দেশ। পত্রিকার পাতা কিংবা টেলিভিশনের খবরে বাংলাদেশে ঝড়, তুফান, ঘূর্ণিঝড় আর নৌকাডুবির খবরে দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাই তৈরি হয়েছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু সেই দিন এখন আর নেই।

গত কয়েক বছরে অনেক ক্ষেত্রেই ঈর্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তাদের মধ্যে ক্রিকেটও একটি। গত চার-পাঁচ বছরে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে টাইগারদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছিল ইংল্যান্ড। সেই থেকেই বাংলাদেশকে অন্যভাবে চিনতে শুরু করেছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশের তরুণরা। বলা যায়, এখন প্রবাসে তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বদেশকে চেনাচ্ছে ক্রিকেটাররা।

গত বুধবার লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে এমন তথ্যই জানালেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজের দেশ বাংলাদেশকে নতুনভাবে চিনছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে চতুর্থ প্রজন্মের প্রবাসীরা বাংলাদেশকে তেমনভাবে চিনতো না। তারাই এবার লালসবুজ পতাকা নিয়ে মাঠে গিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে। প্রতিটা ম্যাচেই প্রচুর বাংলাদেশি দর্শক ছিল।’

বিশ্বকাপে টাইগারদের পারফর্মেন্স বাংলাদেশ হাই কমিশনের মর্যাদাও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সাইদা মুনা। বলেন, ‘অনেক বৃটিশ এমপি আমাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। টাইগারদের খেলার প্রশংসা করেছেন। বৃটিশ পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের খেলার প্রশংসা হয়েছে।’ হাই কমিশনার জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশে সাড়ে সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন যাদের এক-তৃতীয়াংশই মাতৃভূমি হিসেবে যুক্তরাজ্যকে চেনে। বাংলাদেশ তাদের কাছে দাদি-নানির দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট তাদেরকে গর্বিত করেছে। বন্ধুদেরকে তারা বলতে পারছে—দেখ আমাদের পূর্বপুরুষরা এ বাংলাদেশ থেকেই এখানে এসেছে।

মতবিনিময়ে অংশ নেন সরকারি সফরে ইংল্যান্ড আসা তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আগে আমরা যখন বিশ্ব সংবাদ হতাম তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিচিত করানো হতো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। এখন কিন্তু সেটা লেখার আর সুযোগ নেই। এখন আর আমরা দরিদ্রভুক্ত কোনো দেশ নই। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে আমরা এখন নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। আগে আমরা ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিলাম। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিলাম। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এমনকি ভারতের চেয়েও আমরা এক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। তবে আরো একটা জিনিস আমাদেরকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করিয়ে দিয়েছে। সেটা হলো ক্রিকেট। ছোটোবেলায় আমরা সব খেলাই খেলতাম। তবে ক্রিকেট তেমন একটা খেলতাম না। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আজ সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জিতলেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, হারলেও আমরা লড়াই করেই হারছি। ক্রীড়াক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে এবার অনেক সাংবাদিক বিশ্বকাপ কভার করতে লন্ডন এসেছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।’ খেলাধুলায় যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.