রাঙ্গুনিয়ায় বন্যার পানিতে পড়ে একজনের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গুনিয়ায় গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বন্যার পানিতে পড়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের খিলমোগল গ্রামের ইউনুস চেয়ারম্যান বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. নাছের (৩০)। সে ওই এলাকার আবদুল বারেকের পুত্র। ধারণা করা হচ্ছে মৃগী রোগ থাকায় পানির ¯্রােতের মধ্যে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা আবু বক্কর জানান, নিহত নাছের মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশ্ববর্তী বিলে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যায় সে। ঘাস কাটার এক পর্যায়ে সবার অগোচরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে পড়ে যায় সে। এসময় তার মৃগী রোগের খিঁচুনি উঠে গেলে পানিতে তলিয়ে গিয়ে সে আর উঠতে পারেনি। পথচারীরা পানিতে ছাতা ভাসতে দেখে কাছে গেলে কোমর সমান পানির নিচ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাছের তার পরিবারের চতুর্থ সন্তান এবং দুই কন্যা সন্তানের পিতা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, মৃগী রোগের কারণেই পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। তার পরিবারকে আরও সাহায্য করার হবে।

অতিবৃষ্টিতে রাঙ্গুনিয়ায় ভূমিধসের শঙ্কা
পাহাড় থেকে সরানো হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
রাঙ্গুনিয়ায় ভারী বর্ষণে ভূমিধসের শঙ্কা থাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান। সোমবার (৮ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার রাজানগর, ইসলামপুর, হোসনাবাদ ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে কাজ করেন তিনি। এর আগে রবিবার (৭ জুলাই) সকালে ভারী বর্ষণে ভূমিধসের শঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। ‘মৃত্যুঝুঁকি’ নিয়ে বাস করা এ লোকজনের জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চালু করা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীও।
জানা যায়, পাহাড়ের ভূমি ধসে উপজেলার চন্দ্রঘোনা-নিশ্চিন্তাপুর সড়ক ও কোদালা ইউনিয়নের সন্দীপ পাড়া এলাকায় রাঙ্গামাটি সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার রাত থেকে সোমবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত এতে দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ হয়ে সাধারণের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগীতায় মাটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। এসময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) পূর্বিতা চাকমা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরআগে রবিবার রাতেও তিনি উপজেলার ইছাখালীর জাকিরাবাদ, গুচ্ছগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরাতে কাজ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় লোকজনকে সরিয়ে নিতে বিগত কয়েকদিন থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করার পাশাপাশি তারা যাতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে এ জন্য নিকটস্থ স্কুলগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চালু এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কোনো লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বাস করতে পারবে না। তাদের আশ্রয়কেন্দ্র অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় চলে আসতে হবে। রাতে কেউ যাতে পাহাড়ে থাকতে না পারে- এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার, পাহাড়ের মালিক বা তদারকি সংস্থাকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেকোনো মূল্যে প্রাণহানি ঠেকাতে চাই আমরা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.