মহেশখালীতে এক নারীকে গণধর্ষণ : আপোষে সহায়তায় ২ মেম্বার শ্রী ঘরে

আবুল বশর পারভেজ :মহেশখালী (কক্সবাজার)সংবাদদাতা :
চট্টগ্রামের চক বাজারের একটি বাড়ীতে মাতারবাড়ীর শামীমা মেম্বারের পালিত একটি মেয়ে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করত। বাড়ির মালিক হজ্ব পালনে যাওয়ায়র সুযোগে মেয়েটি গত ৬ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে মহেশখালী মাতারবাড়ি বাড়িতে আসছিল। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে বদরখালী স্টেশনে নেমে হাতে টাকা না থাকায় হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে চালিয়াতলী বাজারে আসে।তখন মেয়েটি তার বাড়ীর লোকজন থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করছিল। টাকার জন্য বাজারে অপেক্ষার মধ্যে স্থানীয় কিছু বখাটে জোর পূর্বক মেয়েটিকে পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং রাত ভর পাহাড়ের ভিতর পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। তারা অনেকই স্থানীয় চালিয়াতলী বাজারের সিএনজি চালক।
উল্লেখ্য যে, ছোট বেলায় ধর্ষিত মেয়েটির মা তার বাবার থেকে বিচ্ছেদ হলে অন্যত্রে মার বিয়ে হয়। ফলে মেয়েটি মাতারবাড়ীর মহিলা মেম্বার শামিমার কাছে আশ্রিত হিসাবে লালন পালন হয়।

ঘটনার ৫দিন পেরিয়ে গেলেও এই বিষয়ে কেউ মুখ খোলেনি। কালারমারছড়া ইউপির মেম্বার লেয়াকত ও মহিলা মেম্বার খতিজা খানম মিলে ধর্ষকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাঠে নামে।
এরই মাঝে তারা মেয়েটির মা-বাবা না থাকায় অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামলা না করার জন্য হুমকি ধমকি প্রদান করে এবং কিছু টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বলে।

এ গণধর্ষণের ঘটনাটি পুলিশ আমলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত মেয়েটি মাতারবাড়িস্থ পালিত স্বজন মহিলা মেম্বার শামিমার কাছে ছিল। এ বিষয়ে সংবাদপত্র সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে ধর্ষণের শিকার করে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় লেয়াকত মেম্বার এবং খতিজা মেম্বার দুজন মিলে তাকে চাপ প্রয়োগ করেছে।যার কারণ ঘটনার ৫দিন পরেও ঘটনাটি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল।বিভিন্ন সোর্স ও সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুকে ধর্ষণের ঘটনা সংবাদটি সত্য প্রমানিত হয়। ঘটনার ৫ দিন পর ১২ জুলাই রাতে পুলিশ ধর্ষকদের ধৃত করতে মাতারবাড়ীর শামীমা মেম্বাররের বাড়ী থেকে ধর্ষক মেয়েটিকে উদ্ধার করে মহেশখালী থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।ধর্ষিত মেয়ের দায়েরকৃত এজাহারে ধর্ষণের আপোশে সহায়তা করার অপরাধে স্থানীয় মেম্বার লেয়াকত ও মহিলা মেম্বার খাদিজা খানম ৪ জন ধর্ষণকারী সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৭/৮জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা রুজু করে। এ ঘটনায় মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর সহ পুলিশ টিম অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মনুমিয়া, মেম্বার লেয়াকত ও মহিলা মেম্বার খাদিজা খানমকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের ১৩ জুলাই মহেশখালী চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী আইও ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরু ইসলাম জানায়,মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর কে অবহিত করা হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।এ মামলায় ২মেম্বার সহ অপরাপর র্ধষনকারীগণ হলেন ওসমানগণী,শাহা আলম,আদালত খানঁ।তারা সকলেই চালিয়াতলীর বাসিন্দ।পুলিশের এমন ভুমিকায় স্থানীয় জনসাধারণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, পুলিশ চাইলে দ্রুততার সাথে সকল অপরাধ ধমন করতে পারেন। ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ দৃষ্টান্ত মূলক ভুমিকা রাখায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তারা।মহেশখালী থানার মামলা নং০৮/ ১২/০৭/১৯.মামলার তদন্তকারী অফিসার মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্তকারী শফিকুল আলম চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.