স্বার্থবাজদের পাশে তোষামোদের আসর ও অভাজনরা বড় অসহায়

দেশের অভাজন ও অসহায় মানুষগুলো স্বার্থপর, ছদ্মবেশী সাধু, লোভী ও দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত সাধুবেশী শয়তানদের নিকট যুগযুগ ধরে বড় অসহায়। মানবতা বলতে যেমন তাদের কাছে তেমন কিছু নেই তেমনি এ শ্রেণীটা আত্মসম্মানেরও ধার ধারে না। ওরা চন্ডাল হিসেবেও আলোচিত। যে কারণে হয়তো মরহুম বিচারপতি আব্দুর রহমান চৌধুরী ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে এক সময় দুঃখ করে বলেছিলেন, “দেশের ভালো মানুষগুলো আজ বড় অসহায়, আর খারাপ লোকগুলো জগদ্দল পাথরের ন্যায় মাথার ওপরে চেপে বেসেছে।” তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন সমাজের অভাজনরাও বড় অসহায়। তাদের দুঃখ বেদনা, জ্বালা যন্ত্রনা শুনার জায়গাও যেন দিন দিন সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। মরহুম বিচারপতি আব্দুর রহমান চৌধুরীর এ বক্তব্যটি তখন বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রচ্ছদে যেমনি শিরোনামে ছাপা হয় তেমনি মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচার করা হয় এবং পরের দিন বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে স্থান পায়। বিচারপতি মহোদয়ের এ উক্তি এতদিন পর হলেও আজও বারবার মনে হয়। যখনই অসহায়, অভাজন ও সমাজের দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের কোনো কথা আসে তখন এ উপমাটি এমনিতেই সামনে চলে আসে। মনে হয় তাহার এ উক্তি যেন বাস্তবতার দলিল, বেদবাক্য ও দর্শন।

বেশ কয়েক বছর পাকুন্দিয়া ডিগ্রী কলেজ (বর্তমানে সরকারি কলেজ) পরিচালনা পরিষদের কার্যকরী কমিটির সদস্য (গভর্নিং বডিতে) ছিলাম। সেই সুবাদে কয়েক দিন হলো উক্ত কলেজের জনৈক সিনিয়র সহকারী অধ্যাপককে পেয়ে সালাম বিনিময় ও কুশলাদি জিজ্ঞাসা করতেই তিনি আমার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে নিলেন। তারপর তিনি বলেন, পাকুন্দিয়া ডিগ্রী কলেজটি এখন সরকারি ডিগ্রী কলেজ হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে। আমি কলেজ থেকে অবসরে চলে গিয়েছি এবং বর্তমান অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন সাহেব, সহকারি অধ্যাপকবৃন্দ, অন্যান্য ও কলেজ স্টাফদের পরিচালনায় কলেজটি খুবই ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কলেজটির বাৎসরিক পরীক্ষার ফলাফলও (জবংঁষঃ) বেশ ভালো। এছাড়া দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে কলেজটি বর্তমানে সরকারি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর কলেজের সুযোগ্য শিক্ষক মন্ডলীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ খুবই আনন্দিত। পাকুন্দিয়া উপজেলায় আরেকটি বেসরকারী মহিলা কলেজ রয়েছে। সেটিও সুযোগ্য অধ্যক্ষ ও সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী ও স্টাফ দ্বারা ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাদেরও প্রত্যাশা দেশের অন্যান্য এলাকার মতো পাকুন্দিয়া উপজেলার একমাত্র এ মহিলা কলেজটিও যেন সরকারি মহিলা কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে থাকে। তারপর বললেন, দুঃখের সহিত বলতে হচ্ছে এতটুকু বলেই তিনি চোখের অশ্রু মুছে ফেলে বলতে লাগলেন, কিছু দিন আগে বিশেষ কাজে কোনো এক সরকারি প্রশাসন অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি সেই কর্মকর্তা কিছু লোকের সাথে গল্প গুজবে ব্যস্ত। একটার পর একটা চায়ের

ঢুক গিলছেন আর টেবিলের চারপাশে খয়ের খারা জি স্যার, ইয়েস স্যার, হ্যাঁ স্যার বলে বলে তেলের মাথায় তেল দিচ্ছে। ইতোমধ্যে নাদুস নুদুস চেহারার একজন লোক এখানে প্রবেশ করলে তিনি (কর্মকর্তা) স্ব আসন থেকে উঠে পাশে রক্ষিত সোফাতে বসলেন এবং পিয়ন ডেকে ভালো নাস্তা আনার কথা বললেন। এর মধ্যে তিনি স্বার্থ সংক্রান্ত ও প্রাইজ পোস্টিংয়ের আলাপে রত। আমি কাছেই বসে আলাপের জন্য অপেক্ষায় থাকাতে এসব কিছু শুনতে খুবই একটা অসুবিধা হচ্ছিল না। কিন্তু আমি কেন উনার কাছে এসেছি এবং অপেক্ষা করছি আমাকে একবারও জিজ্ঞাসা করাতো দূরের কথা বরং আমার তাগেদায় শুধু বললেন, আমি সরকারি কাজে আজ খুবই ব্যস্ত অন্য দিন আসতে পারেন। তারপর বললাম, আরও ২ দিন এসে আপনাকে অফিসে পাই নাই। তারপর আরেকদিন এসে আপনাকে অফিসে গল্পগুজব করতে দেখে আমি চলে গেছি। আজ নিয়ে আপনার অফিসে আমার চারদিন আসা হয়েছে। তারপর বললাম, দয়া করে আমার আসার কারণ শুনুন। ১/২ মিনিটের মধ্যে আমার কথা শেষ হয়ে যাবে।

তারপর গল্প গুজব তারপর প্রাইজ পোস্টিং ও নিজ স্বার্থে আলাপে মশগুল থাকা এই কর্মকর্তা নাকি বলেছিলেন, বিরক্ত করবেন না। রাগত স্বরে নাকি আরও বলেছিলেন চলে যান। আমি একটি নামীদামী এমপিওভূক্ত কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক হিসেবে এ আচরণ কোন অবস্থাতেই সহ্য করতে বা মেনে নিতে পারছিলাম না। তিনি আরও বললেন, ছেলে বয়সী এই কর্মকর্তাকে কেন গল্পগুজবেরতদের মতো বারবার স্যার বলে সম্বোধন করছিনা বলে তার জ্বালা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে আমার বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। তারপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। আপনি যেহেতু আমার পূর্বাপর পরিচিত এবং আপনি যেহেতু সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে লেখালেখি করেন সেহেতু আপনাকে আপনজন মনে করে ব্যাথা বেদনা ও বিষাদের কালোছায়া নিয়ে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললাম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপককে বারবার বললাম, আপনি অনুগ্রহ পূর্বক এ কর্মকর্তার নাম পদবী এবং অফিসের ঠিকানা বলুন। এ ধরণের জনবিচ্ছিন্ন কর্মকর্তার নাম লিখতে কোনো সমস্যা নেই। বর্তমান দেশের মানুষ যেমন এ সমস্ত কর্মকর্তার কারণে অতিষ্ট তেমনি সরকারও খুব সন্তোষ্ট আছে বলে মনে হয় না। এ সমস্ত নীতি নৈতিকতাহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি শুধু ক্ষুন্নই হচ্ছে না, প্রায় সময়ই দেখা যায় উচ্চ আদালত এ সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অহরহ সতর্ক (ডধৎহরহম) বার্তা জানিয়ে থাকে। দৈনিক যুগান্তর ৩০ জুন ২০১৯ ছেপেছে, পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও চার জেলায় এসপির বডিগার্ডসহ আটক ১১। সংবাদে দেখা যায়, খাদ্য বিভাগে বদলী পদায়ন, প্রাইজ পোস্টিং বা তদবির বন্ধে অফিস আদেশ জারি (যুগান্তর ৪ জুলাই ২০১৯ ইং)। ২ জুলাই ২০১৯ দৈনিক যুগান্তরের প্রচ্ছদ সংবাদে দেখা যায়, হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন খারিজ, দুদকের মামলায় গ্রেফতার বিতর্কিত ডিআইজি মিজান।

কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উক্ত শিক্ষক মহোদয় উল্লেখিত কর্মকর্তার আচরণে সংক্ষুব্ধ ও দুঃখ প্রকাশ করলেও চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে সেই কর্মকর্তার নাম পদবী অফিসের খবর নেয়া যায়নি। তিনি বলেছেন জনৈক কর্মকর্তার আচরণের প্রেক্ষিতে জানাতে চাচ্ছি আজ অফিস আদালত কিভাবে চলছে এবং অভাজনদের অবস্থাটা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে ইহাই দেশের মানুষ জানুক। তিনি আরও বলেছেন, আমার হাতে গড়া এখনও অনেক ছাত্র সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত রয়েছে। আচার আচরণ ও তুচ্ছ ব্যবহারের কারণে এবং তুচ্ছ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি একজন শিক্ষক হয়ে প্রশাসনের এই কর্মকর্তার নাম বলে তাহাকে সমাজে হেয় করতে চাই না। সামনে তার আচার আচরণ ও ব্যবহার সংশোধনের আরও অনেক সুযোগ আছে। আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন যেন তাহাকে হেদায়েত করেন। আমি তাহাকে মার্জনা করে দিলাম। তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি এবং এক সময় কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ঢাকার এসপি, সিলেটের ডিআইজি রেঞ্জ ও ডিএমপির অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে মিজানুর রহমানের ক্ষমতা কম ছিল না। তেমনিভাবে এসপি কুহিনুরেরও ক্ষমতা কম ছিল না। এক সময় তাদের আশেপাশে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তার মতো চামচা, চাটুকার, তোষামোদকারী, তেলবাজ, সুহৃদ ও গুণগ্রাহীর কমতি ছিলনা। আজ তাদের পাশে কাহাকেও দেখা যায় না। এমনকি দুদকের মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে যখন গ্রেফতারের আদেশ প্রদান করা হয়, তখন জনাকীর্ণ আদালতে উপস্থিত আইনজীবীগণ আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে সমস্বরে ইয়েস, ইয়েস বলতে থাকে।

সহকারী অধ্যাপক মহোদয় বিদায় নিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, আমি একজন অভাজন হিসেবে প্রশাসনের উক্ত কর্মকর্তার যে হাবভাব, স্বার্থপরতা ও তোষামোদকারীদের দৃশ্যপট লক্ষ্য করেছি যদি এ কারণে দেশে তেলের ঘাটতি হয় তবে আমদানী ছাড়া কোনো উপায় ভেবে পাচ্ছিনা। যদি প্রশাসনে এ ধরণের মনমানসিকতা সম্পন্ন বেহুঁশদের চিহ্নিত করে বা মোবাইল কোর্টের ভেজাল অভিযানের মতো ষাঁড়াশি কার্যক্রম চালিয়ে বিদায় না করা হয় তবে সরকারের প্রশংসিত সকল অর্জন ব্যাহত হলে কোনো কিছু অবশিষ্ট নাও থাকতে পারে।

প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটে সম্মানিত পাঠক পাঠিকাদের নিকট এ নিবন্ধে ছোট ২/৩টি উপমা সংযোজন করে নিলাম। প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে অনেক ভাল, আদর্শবান ও ন্যায়-নিষ্ঠাবান লোকের কমতি নেই। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষাকল্পেও স্বচ্ছতা আনয়নে কিছু লোকের অসদাচরণের কারণে যেমনি তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করা হচ্ছে তেমনি জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের কারণে যেমন দুদক তাকে আটক করেছে তেমনি তার সাথে প্রশাসনের আর কাদের যোগসাজস রয়েছে এ ব্যাপারেও নাকি অধিকতর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কিছুদিন পূর্বে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টে একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দেখার জন্য অনেকের মতো যাই। দেখা যায়, উক্ত মামলার রায়ে বিচারক ফাঁসির আদেশ ও যাবজ্জীবন রায় দিয়ে থাকেন। এই রায় শুনে অনেকের মুখ থেকেই উচ্চারিত হয়েছে আসামীদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হয়েছে। এমনিভাবে যদি অপরাধীদের শাস্তি হয়ে থাকে তবে অপরাধের মাত্রা যেমনি কমে যাবে তেমনি বিচার বিভাগ ও বিচারকদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বেড়ে যাবে। জনাকীর্ণ আদালতে রায়ের পর বেড়িয়ে আসার সময় জনৈক ব্যক্তি বলতে ছিলেন, এই আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব আব্দুর রহিম সম্পর্কে জানা যায়, যিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ মামলা বা যে কোনো মামলার রায় দেয়ার আগে নাকি রোজা রাখেন এবং রায় লেখার আগে নাকি সারারাত ইবাদত বন্দেগী এবং আজিফা জপে কাটান এবং আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের দরবারে প্রার্থনা করেন তাহার রায়টা যেন নির্ভুল ও সঠিক হয়। কোনো অবস্থাতেই যেন বিচার প্রার্থী বা আসামীর প্রতি যেন কোনো ধরণের অবিচার করা না হয়।

রাষ্ট্রের ভালো পদে সমাসীন থেকে যারা মানুষের সাথে অন্যায়, অসৌজন্যমূলক ও খারাপ আচরণ করে থাকে তাদেরকে জনৈক বিচারকের আদর্শ থেকে যথেষ্ট কিছু শিক্ষার রয়েছে বলে অনেকেই মনে করে থাকে। এমনিভাবে অনেক নি¤œ আদালত (জেএম কোর্ট) থেকে শুরু করে সহকারি জজ আদালত (সাবেক মুন্সেফী আদালত) সিজেএম আদালত, যুগ্ম জেলা জজ আদালত (সাব জজ কোর্ট) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, জেলা জজ আদালত, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের মধ্যে কত যে সুন্দর নজির উপমা বা উদাহরণ রয়েছে এসবের কাথা জানেই বা কজনা। কথায় বলে সাধু সাজতে হলে লাল কাপড় হলেই চলে। আর সাধক হতে হলে লোভ, লালসা, কামনা, বাসনা ও ত্যাগ যেমনি অনস্বীকার্য তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দয়ামায়া, সদাচরণ কম গুরুত্ব বহন করে না।

স্বনামধন্য সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ডাঃ লুৎফর রহমান একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, বড় বড় কথা, বাপ দাদার উপাধি, প্রাইভেট বিমানে ঘুরাফিরা, বাড়ী গাড়ী, টাকা ও বড় বড় পদের জৌলুসেই আসল মর্যাদা হয় না। মর্যাদা পেতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন মানুষের সাথে সদাচরণ, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, মানুষকে ভালোবাসা এবং নিজ স্বার্থের উর্ধ্বে থেকে জনসেবা, দলমত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকলের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা।

কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক প্রশাসনের কর্মকর্তার নাম ঠিকানা না জানিয়ে যে দুঃখবেদনার কথা বর্ণনা করে চোখের পানি মুছেছেন এমন যেন আর কারও ভাগ্যে না হয়। একজন কর্মকর্তা, কর্মচারী যে পদেই সমাসীন থাকুন না কেন তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের (এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ঃযব চবড়ঢ়ষবং জবঢ়ঁনষরপ ড়ভ ইধহমষধফবংয) প্রভু নয় সেবক। স্বাধীন বাংলাদেশে কেহই অসহায় ও অভাজনদের সাথে সেবকের চেয়ে প্রভুর আচরণ প্রত্যাশা করে না। যদি কেহ এ প্রবিধান বা বিধি লংঘন করে থাকে তা যেমন রাষ্ট্রের শৃংখলা ভঙ্গরই নামান্তর। সাধু সাবধান, যদি কলেজের এই অভাজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারি অধ্যাপক যথাযথ আইনের মাধ্যমে আদালতে বিচার প্রার্থী হতেন এবং তার নাম ঠিকানা ও পদবী বলতেন তবে প্রশাসনের এ অর্বাচীনের কি অবস্থা হতো তা অনুমান নির্ভর কোনো মন্তব্য না করাই ভালো। তবে শিক্ষক মহোদয়কে ধন্যবাদ, তিনি প্রশাসনের এ ব্যক্তিটির নাম, পদবী ও অফিসের ঠিকানা বলেননি। বললেও হয়তো দেশের মানুষ তাকে জানতে ও চিনতে বেশ সুবিধা হত।

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.