হোসেনপুরে নিজের বাল্য বিবাহ বন্ধ করলো সূবর্ণা

হোসেনপুর প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নারী ও কিশোরীদের সহিংসতা প্রতিরোধ প্রকল্প (ecatto) ইউনিয়ন মাঠ সেচ্চা সেবককের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্থক্ষেপে আশুতিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ সূবর্ণা আক্তার (১৪) নিজের বাল্য বিবাহ বন্ধ করলো ।
জানায়ায়, উপজেলার উত্তর কুড়িমারা গ্রামের মোঃ লালন মিয়ার মেয়ে সূবর্ণা আক্তারের সাথে খালাতো ভাই উপজেলার ধনকুড়া গ্রামের নূরুল হকের ছেলে মোঃ চঞ্চল মিয়ার বিবাহের দিন ধার্য্য হয়। এ খবর শুনে সূবর্ণা আক্তারের আলোর জীবনে অন্ধকার নেমে আসলো। বিয়ের জন্য মেয়ের কোন মতামত গ্রহন করেননি তার বাবা-মা । আড়াল থেকে পরিবারের সে কথা শুনে ফেলে চৌদ্দ বছরের কিশোরী মেধাবী ছাত্রী সূবর্ণা। পরের দিন কোন উপায় না পেয়ে (ecatto) প্রকল্পের ইউনিয়ন মাঠ সেচ্চা সেবক শান্তি বেগমের সহায়তায় অভিযোগ করে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট।
এ ঘটনায় গত সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে তাৎক্ষনিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমল কুমার ঘোষ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, শাহেদল ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবুল হক, নারী ও কিশোরীদের সহিংসতা প্রতিরোধ প্রকল্পের উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সালমা পারভিন, মাঠ সহায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক খোকন, মীনা আক্তার ও মডেল প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সঞ্জিত চন্দ্র শীল ঘটনাস্থলে গিয়ে সূবর্ণা অভিযোগ শুনেন। এ সময় অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন ইউএনও । অপর দিকে সূবর্ণা আক্তারে লেখাপড়ার সম্পূর্ণ খরচের দায়িত্ব নেন শাহেদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহ মাহবুবুল হক ।
সূবণা আক্তার জানান, বর্তমানে আমাদের সমাজের নারীরা সচেতন। আমি বাল্য বিবাহের কুফল আগেই জেনেছি। ফলে আমার বিয়ের বয়স না হওয়ায় বপধঃঃড় প্রকল্পের সহায়তায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্থক্ষেপে নিজের বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছি। সমাজে বাল্য বিবাহ বন্ধে আমরা সকল কিশোরী যদি ঐক্যবদ্ধ হলে এক সময় বাল্য বিবাহ বলতে কিছুই থাকবে না। আমি ভবিষৎতে অবহেলিত নারীদের জন্য কাজ করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.