ফুলবাড়ীতে চালক কে না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া মহাসড়কে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত মুমুর্ষূ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের প্রয়োজনে চালককে না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি ভাংচুর করেছে রোগীর বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা।
ঘটনাটি ঘটেছে, গত বুধবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে এ ব্যাপারে আইনি কোন পদক্ষেপ নেননি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া মহাসড়কের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাগলপুর বাজার নামক স্থানে দুইটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ফুলবাড়ী থানার পিকআপ চালক সিদ্দিকুর রহমান রাজু (৫৫) ও তার স্ত্রী মোছা. কারুন্নাহার পারুল (৪০) ও উপজেলার বেতদীঘি ইউনিয়নের মাদিলাহাট চিন্তামন গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (২৮) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক এনায়েতুল্ল্যাহ নাজিম আহতদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান রাজু ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার পারুলকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তবিভাগে ভর্তি করে নেন এবং মিজানুর রহমান মিজানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন রোগীর স্বাজনদেরকে। আহত মিজানের জীবন মৃত্যুর শঙ্কা নিয়ে আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় স্বজনরা বিচলিত হয়ে পড়েন। ফলে তাকে দিনাজপুরে দ্রুত নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালককে তার মোবাইল ফোনে বারংবার ফোন দেন স্বজনরা। ফোনে রিং বাজলেও চালক ফোন না ধরায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন রোগীর স্বজনরা। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালককে খুঁজতে কিংবা সন্ধান দিতে কোন প্রকার ভূমিকা রাখেননি কর্তৃব্যরত চিকিৎসক ও কর্মচারিরা। এ সময় রোগীর বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বহনের জন্য রাখা অ্যাম্বুলেন্সটি ভাংচুর চালায়। পরে তারা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে মুমুর্ষূ সেই রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালক কোন সময়েই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকে না। মুমুর্ষূ রোগী বহনের প্রয়োজন হলে তাকে খোঁজাখুঁজি করে নিয়ে আসতে হয়। একই ঘটনা ওইদিন দুর্ঘটনার শিকার রোগীটির সাথেও ঘটেছে।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে দুর্ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান মিজানের কোন স্বজনের সাথে কথা বলার জন্য অনেক চেষ্টা করেও তাদের কাউকে না পেয়ে মুঠোফোন নম্বরও না পাওয়ায় তাদের সাথে এ বিষয়ে কোন কথা বলা যায়নি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল্লাহ বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটিতে যে মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে তা তার নয়, সেটি আগের চালকের নম্বর। তিনি এখন পেষণে দিনাজপুর কর্মরত আছেন। তাকে কেউ ফোন দেয়নি। ফোন দিলে অবশ্যই তিনি রোগীকে নিয়ে যেতেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর ঘটনাটি অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে গেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সেদিক লক্ষ্য রাখতে কর্মরত চিকিৎসক, সেকমো, নার্সসহ কর্মচারিদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.