দৃষ্টিনন্দন ফুল ও ভেষজ করবী

লেখা ও ছবি : মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
করবী মাঝারি মানের উচ্চতা বিশিষ্ট চিরসবুজ ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর আদিনিবাস ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়া। উদ্ভিদ তাত্বিক নাম ঃ ঘবৎরঁস ড়ষবধহফবৎ বা ঘবৎরঁস ওহফরপঁস,পরিবার ঃ অঢ়ড়পুহধপবধব ,ইংরেজী নাম ঃ ঙষবধহফবৎ। অন্যান্য নাম ঃ অফবষভধ,অষযবষর ঊীঃৎধহলবৎড়,ইধষফৎব,ঊংঢ়রৎৎধফবরৎধ ইত্যাদি। শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে করবী বেশ দৃষ্টিনন্দন তাই রয়েছে এর জনপ্রিয়তা। তাছাড়া করবী কষ্ট সহিষ্ণু ও অত্যন্ত রুক্ষ পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। গাছের উচ্চতা গড়ে ৩ থেকে ৫ মিটার। শাখা-প্রশাখা ঝোপালো এবং নরম মানের হয়। তাছাড়া এর গাছের গোড়া থেকেও শাখা-প্রশাখা ঝোপের মতো গজাতে দেখা যায়। পাতার রং গাঢ় সবুজ,মধ্য শিরা স্পষ্ট,আকারে সরু,লম্বাটে ও চিরল। চিরল পাতার ফাঁকে উঁকি দেয় ফুল। ফুল শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে থোকায় ফোটে। ফুল ফুটন্ত গাছ মনোরম ও নজরকাড়া। সাহিত্যে শে^তকরবী ও রক্তকরবী বিখ্যাত। এর রয়েছে রং বাহারী ফুল। আমাদের দেশে লাল,গোলাপি ও সাদা রঙের ফুল ফোটতে দেখা যায়। তবে লাল ও সাদা রঙের ফুল বেশী চোখে পড়ে। গোলাপি রঙের করবীকে রক্তকরবী বলা হয়। প্রায় সারা বছরই গাছে ফুল ফোটে। তবে এর ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম গ্রীষ্ম ও বর্ষা। ফুল শেষে গাছে বীজ ধরে। এর মূল,বীজ,পাতা উভয়ই খুব বিষাক্ত। বীজ ও ডাল কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা যায়। তবে ডাল কাটিং পদ্ধতি বেশী ব্যবহার হয়। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ও প্রায় সব ধরনের মটিতে করবী জন্মে। তাছাড়া আদ্র,ভেজা সে্যঁতসেঁতে মাটি ও হাল্কা ছায়াযুক্ত স্থানেও ওরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। রয়েছে এর ভেষজ নানান রকম গুণাগুণ। করবী গাছের বাকল,পাতা ও মূল বিভিন্ন কাজে লাগে। অকালে চুলপাকা কমাতে করবী মূলের ছাল উপকারী। এ ছাড়া ত্বকের খোস-পাচড়া সারাতে এর ছাল ও মূল বেশ উপকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.