মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বেসরকারি শিক্ষকদের পক্ষে খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সালাম নিবেন। মানবতা, শান্তি ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বিশ্ব দরবারে অনন্য এক মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করায় বাংলাদেশের সকল নাগরিকের পক্ষ থেকে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচছা জানাচ্ছে।
  বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণকে আপনার চেয়ে বেশি কেউ ভালবাসবেনা এটাও অকপটে স্বীকার করি। কারণ, আপনি সেই পিতার সন্তান যার অক্লান্ত পরিশ্রম ও জীবন বাজি রাখার মাধ্যমে এবং যার নামকরণের মাধ্যমে এদেশ, এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়েছে।
আপনার হাতেই উন্নত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এ ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী। উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলার অক্লান্ত পরিশ্রম আপনি করছেন সেটাও আমাদের দৃষ্টি এড়ায়নি।
ইতিমধ্যে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন পরিকল্পিত উপায়ে। ইতিমধ্যে অতি অল্প সময়ে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এদেশ। কয়েকটি ক্ষেত্রে আমাদের দেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। তবে যে লক্ষ্য পূরণ না হলে কোন মতেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেনা, সেই ক্ষেত্রটিই একটি ধাপ ছাড়া বাকীগুলো অবহেলিত রয়ে গেছে।
আপনি নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পেরেছেন। হ্যাঁ আমি শিক্ষাক্ষেত্রের কথাই বলছি।
আপনি অবশ্যই অবগত আছেন, স্বাধীনতার পরপরই যখন চারদিকে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, অর্থ সংকট তীব্র – যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামো বলতে কিছুই নেই তখনও এদেশের মহানায়ক, জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রকে বেছে নিয়েছিলেন এবং ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছিলেন। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং কুদরত – ই – খুদা কমিশনের গতিশীল পরিকল্পনায় এ বিভাগও জাতীয়করণের পর্যায়ে চলে যায়। অনেকগুলো বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও এগুলো         বাস্তবায়ণের পূর্বেই দেশ বিরোধী, ক্ষমতালোভীদের চক্রান্তের শিকার হয়ে নির্মম হত্যার শিকার হন তিনি।
তারপর কেটে যায় অনেক বছর। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বেসরকারিভাবে চলতে থাকে শিক্ষা-কার্যক্রম। অপরিকল্পিত, ঘন ঘন কারিকুলাম পরিবর্তন, ইতিহাস বিকৃতি এমন সব অরাজকতা ব্যাপকতায় শিক্ষা দানকারী মহান শিক্ষকদের কথা ও জাতীয়করণের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনগ্রসরতার প্রধান কারণ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ না হওয়া।
যাক সেইসব অতীত। এখন আপনি ক্ষমতায়। স্বভাবতই জাতীর জনকের কন্যা ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবে বেসরকারি শিক্ষকসমাজ ও পুরো দেশ আশায় বুক বেঁধে আছে বঙ্গবন্ধুর সেই অসমাপ্ত কাজটুকু খুব শীঘ্রই আপনি সমাপ্ত করবেন।
ইতিমধ্যে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ, বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় কর্মরতদের ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখি ভাতা প্রদান করে সে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমরা আশা করছি অচিরেই আমাদের কাঙ্খিত জাতীয়করণটিও আপনার মুখ দিয়ে ঘোষণা দিবেন। হয়তো ভাবছেন অর্থ নিয়ে। এর সমাধানও আছে।
আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন এমপিওভুক্ত   বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটা নিজস্ব ফান্ড আছে। এ ফান্ডগুলো কিন্তু দুর্বল নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকার ফান্ডও আছে। এসব ফান্ড জমা নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিয়ে দেখুন খুব অল্প টাকায় আপনি জাতীয়করণ করতে পারবেন।
আপনি হয়তো অবগত আছেন বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক – কর্মচারীগণ কতটুকু অভাব – অনটনে দিন কাটাচ্ছেন ! একজন মানুষ যত জ্ঞানী হউক অভাব – অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে থাকলে তার জ্ঞান আস্তে আস্তে সীমিত হয়ে যাবে ও শতভাগ কর্মদক্ষতা হ্রাস পাবে। অনিশ্চয়তা, অবহেলা আর আমলাতান্ত্রিক বেড়াজাল মুক্ত করে বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষার এ গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি প্রাণবন্ত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন এই আশায় চাতক পাখির মতো আপনার দিকে চেয়ে আছেন পাচঁ লক্ষাধিক শিক্ষক/কর্মচারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.