গণধর্ষণের পর নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে হত্যা

হোসেনপুর প্রতিনিধি : নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি আক্তার রীমার (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা।  খবর পেয়ে  কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায়  মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, হোসেনপুর উপজেলার জামাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে স্মৃতি আক্তার রীমা মায়ের সাথে পাকুন্দিয়া উপজেলার গাংধোয়ারচর গ্রামে নানার বাড়িতে প্রায়ই বেড়াতে আসতো। এ সুবাদে নানা বাড়ির পাশের চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ উদ্দিনের ছেলে জাহিদের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় বরাবরের মত মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে রীমা। নানার বাড়িতে আসার পর বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে রীমার মা আঙ্গুরা খাতুন বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুর পাড়ে রীমাকে প্রেমিক জাহিদের সাথে আলাপ করতে দেখতে পান। এ সময় জাহিদের সাথে আরও ২-৩জন ছেলে ছিল। রীমাকে ডাক দিলে জাহিদসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে রীমাকে ঘরে নিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়েন আঙ্গুরা খাতুন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় রীমাকে দেখতে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুজি করতে থাকেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুর পাড়ে একটি বরই গাছের ডালে রীমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রীমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

ঘটনার বিবরনে রীমার মামা মোস্তফা জানান, চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ উদ্দিনের ছেলে জাহিদ রীমাকে রাতে বাড়ি থেকে ডেকে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। পরে তার বন্ধু একই গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে পলাশসহ আরও ২-৩জন মিলে রীমাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে বরই গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখে।তার প্রমাণ হিসেবে তিনি জানান, বড়ই গাছ থেকে ২০ হাত উত্তর পাশে ধর্ষণের আলামত হিসেবে কয়েকটি কনডম ও সেক্সুয়াল বড়ি পড়েছিল।

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মফিজুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণ ও মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.