হোসেনপুরে রিমা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আব্দুর রহমান : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আলোচিত স্মৃতি আক্তার রিমার হত্যার বিচার দাবিতে পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
গতকাল শনিবার (২০ জুলাই) সকালে হোসেনপুর-ঢাকা সড়কের পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ-মিছিল শেষে মানববন্ধন করেন। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- হোসেনপুর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল, বাংলাদেশ বে-সরকারী শিক্ষক সমিতির কিশোরগঞ্জ জেলার সভাপতি মো: আফাজুর রহমান, হোসেনপুর সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জহির রায়হান, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আসমা বেগম, বাংলাদেশ বে-সরকারী শিক্ষক সমিতির হোসেনপুর উপজেলার সভাপতি মো: মুঞ্জুর আহাম্মেদ, সাধারন সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, নিহত স্মৃতি আক্তার রিমার মা মোছাঃ আঙ্গুরা খাতুন,মামা মুছলিম মিয়া, মো: মোস্তুফা মিয়া গণধর্ষনের পর হত্যা কান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হোসেনপুর উপজেলার জামাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে ও হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি আক্তার রিমার (১৫) ঝুলন্ত লাশ ১৮ জুলাই উদ্ধার করেছে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। মায়ের সাথে পাকুন্দিয়া উপজেলার গাংধোয়ারচর গ্রামে নানার বাড়িতে প্রায়ই বেড়াতে আসতো। এ সুবাদে নানা বাড়ির পাশের চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ উদ্দিনের ছেলে জাহিদের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় বরাবরের মত মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে রীমা। নানার বাড়িতে আসার পর বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে রীমার মা আঙ্গুরা খাতুন বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুর পাড়ে রীমাকে প্রেমিক জাহিদের সাথে আলাপ করতে দেখতে পান। এ সময় জাহিদের সাথে আরও ২-৩জন ছেলে ছিল। রিমাকে ডাক দিলে জাহিদসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে রীমাকে ঘরে নিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়েন আঙ্গুরা খাতুন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় রীমাকে দেখতে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুজি করতে থাকেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুর পাড়ে একটি বরই গাছের ডালে রিমাকে ঝুলস্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার বিবরনে রিমার মামা মোস্তফা জানান, চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ উদ্দিনের ছেলে জাহিদ রীমাকে রাতে বাড়ি থেকে ডেকে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। পরে তার বন্ধু একই গ্রামের আরও ২-৩জন মিলে রিমাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে বরই গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখে। তার প্রমাণ হিসেবে তিনি জানান, বড়ই গাছ থেকে ২০ হাত উত্তর পাশে ধর্ষণের আলামত হিসেবে কয়েকটি কনডম ও সেক্সুয়াল বড়ি পড়েছিল। এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই রিমার মা আঙ্গুরা খাতুন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় জাহিদ,পিযাস,রুমান ও রাজুসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-০৮,তারিখ-১৯-০৭-২০১৯ ইং) দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.