নিয়োগ বদলীর দৃশ্যপট ও ইউএনও’র আস্ফালন

এ নিবন্ধটি লেখার সময় অনেক আগে দেখা একটি সিনেমার ডায়ালগ বারবার মনে হয়েছে। ডায়ালগটি ছিল আবার তোরা মানুষ হ। পাকিস্তানি আমলের প্রশাসনের মতো আজও স্বাধীন দেশের প্রশাসনে এক শ্রেণীর লোকের আস্ফালন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এক সাগর রক্তে অর্জিত দেশটা কোথায় যাচ্ছে তা ভাবতেও যেন অনেক সময় অনেকেরই অবাক ও বিষ্ময় হয়ে যেতে হয়। প্রশাসনের অনেকেরই কথাবার্তা, ধরণ ধারণ, চালচলন, নমুনা ও আস্ফালন দেখে মনে হয় দেশটা যেন কিছু লোকে ব্রিটিশ আমলের জমিদার ও পাকিস্তান আমলের তস্করদের মতো ইজারা নিয়ে গিয়েছে। প্রশাসন ও দেশটা যেন তাদের জমিদারি। দেশের মানুষ যেন তাদের কাছে অফিসের উমেদার, চাপরাশি (ঙৎফবৎষু) এম.এল.এস.এসের (পিয়ন) মতো এবং শুধু খাজনা, ট্যাক্স পরিশোধকারী। তাদের যেন সেবা পাওয়ার আদৌ কোনো অধিকার নেই।

১৯৮৪-৮৫ সালে সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) থেকে আপগ্রেড থানা নির্বাহী অফিসার (টিএনও) এবং পরবর্তী সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদটি উপজেলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল শাখা, উপজেলা ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ উপজেলার আরও সরকারি দফতর, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য সরকারি ও আধা সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও’র) তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় পরিচালিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা ইউএনও’র দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা অপরিসীম বলা চলে। তদোপরি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, কর্তব্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে যেহেতু প্রত্যেকেই কমবেশী অবহিত সেহেতু এ বিষয়ে অন্য নিবন্ধে বিস্তৃত বর্ণনার চিন্তা করে এ নিবন্ধে আলোকপাত করা হয়নি। মোদ্দা কথা প্রশাসনে একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা ইউএনও’র গুরুত্বকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। যদিও ইউএনওকে তদারকি করার জন্য রয়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এএসপি সার্কেলকে তদারকি করার জন্য রয়েছে পুলিশ সুপার (এসপি)। জানা যায়, বর্তমানে প্রায় সার্কেলেই এএসপির স্থলে এডিশনাল এসপিকে সার্কেলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার দৈনিক যুগান্তর জেলা প্রতিনিধির বরাতে কামারখন্দ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কিত একটি সংবাদ দৃষ্টিতে এসেছে। তাতে দেখা যায়, সরকারিভাবে গম-ধান ক্রয়, কর্মসৃজন প্রকল্প, টিআর, কাবিখা, জমি আছে ঘর নেই প্রকল্প ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দফতরি নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ এবং প্রকাশের আগে নাকি ইউএনও’র অনুমতি লাগবে। একই সঙ্গে কোনো দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রেও ইউএনও স্থানীয় প্রেসক্লাব নেতার অনুমতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম। সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও এমন মন্তব্য করেন বলে জানা যায়।

ইউএনও’র এমন বিতর্কিত মন্তব্যের অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সিরাজগঞ্জসহ দেশের গণমাধ্যম কর্মী ও দেশের সচেতন জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকই উক্ত ইউএনও’র এমন মন্তব্যের ব্যাপারে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, দেশটা কি মগের মুল্লুক ? ইউএনও কি কামারখন্দের সামরিক প্রশাসক বনেগা ? সেখানে কি সিভিল প্রশাসন নেই। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার সাংবাদিকদের কামারখন্দ উপজেলার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে নাকি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউএনও। অনেকে বলেছে এ যেন সামরিক ফরমানের মতই। এছাড়া তার এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব ও রিপোটার্স ইউনিটের কর্মকর্তাবৃন্দ। ইউএনও নাকি আরও বলেছেন, কামারখন্দের সাংবাদিকরা ভালো রিপোর্ট করলে এদের ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের। অতএব তাদের যদি অর্থনৈতিক সুবিধা দরকার হয় আমি দিব। সমস্যা কী ? আমাদের সুযোগ সুবিধা দেয়ারতো কোনো অভাব নেই। সুবিধা দেওয়ার বিভিন্ন জায়গা আছে। কামারখন্দের ইউএনও’র এসব মন্তব্য ফলাও করে প্রকাশিত হয় (যুগান্তর ৭ জুলাই ২০১৯ ইং)। এ ধরণের বিতর্কিত মন্তব্য ও আস্ফালন করে উক্ত ইউএনওই শুধু দেশের মানুষ ও সাংবাদিক মহলে হেয় প্রতিপন্ন হয়নি। তিনি সারাদেশের ইউএনও এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি কোথায় নিয়েছেন তা একবার ভেবে দেখা দরকার বলে অনেকেই মনে করে থাকে। সারা দেশে অনেক নিষ্ঠাবান, জনবান্ধব ও ভালো ইউএনও রয়েছে।

এমনিভাবে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে আস্ফালনের কথা ব্যক্ত করে কলেজের একজন অবসর প্রাপ্ত সিনিয়র সহকারি অধ্যাপক সম্প্রতি চোখের পানি মুছতে মুছতে তার ব্যথা প্রকাশ করেছেন। সিরাজগঞ্জের দৈনিক যুগান্তরের জেলা সাংবাদিক কামারখন্দের ইউএনও’র নাম গণমাধ্যমে উল্লেখ করলেও, পাকুন্দিয়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক সাহেব আস্ফালনকৃত প্রশাসনের সেই ক্ষমতাধর কর্মকর্তার নাম, ঠিকানা, পদবী ও সংশ্লিষ্ট অফিসের কথা উল্লেখ করেননি বলে সেই কর্মকর্তা কামারখন্দের ইউএনও জাহাঙ্গীর আলমের মতো সমাজে এতটুকু ক্যারিশমেটিকভাবে চিহ্নিত, ভুলন্ঠিত ও এক্সপ্লোসিভও হননি। সহকারি অধ্যাপক সাহেব তাহার নাম পদবী বললে তিনি প্রশাসনের যেখানেই থাকুন না কেন তিনিও কম সমালোচিত হতেন না বলে অনেকেই মনে করে থাকে। দেশের বিচার বিভাগ ও মাননীয় বিচারকগণ এ সমস্ত আস্ফালনকারীদের আইনের কাছে জবাবদিহীতা করছে। অনেকেই মনে করে এমন একটা সময় আসবে যখন প্রশাসনের এসব আস্ফালনকারীরা আইন, বিচার ও জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহীতা না করে হয়তো এমনিতেই চলে যেতে পারবেনা।

তথ্য ও সূত্রে জানা যায়, ৯ জুলাই মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম ও বিচারপতি খিজির আহমদের বেঞ্চে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার সংশ্লিষ্ট আসামী কারাগরে বন্দী ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন শুনানীকালে বিচারক বলেছেন, কিছু কিছু ডিসি ও ওসি আছেন যারা নিজেদেরকে জমিদার মনে করেন। সর্বেসর্বা মনে করেন। সবাই কিন্তু না। এ সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ১০ জুলাই ২০১৯ ইং প্রকাশিত হয়ে থাকে। একজন পন্ডিত ব্যক্তি বলেছেন, পাপ যেমন বাপকে ছাড়ে না তেমনি সীমা লংঘনকারীকে আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনও পছন্দ করেন না। পাপী কখনও দুনিয়া থেকে শাস্তি ছাড়া বিদায় হয় না (ঝরহহবৎ পধহ হবাবৎ মড় ঁহঢ়ঁহরংযবফ)।

দীর্ঘদিন ধরে চাকরি নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁস, অনিয়ম, বদলী, প্রাইজপোস্টিং, তদবীর, সুপারিশ, প্রভাবশালীদের ডিও লেটার নিয়ে রয়েছে হরেক কথা। ২০১৮ সালের পুলিশের বার্ষিক কনফারেন্সে এ নিয়ে অনেক পুলিশ সুপার ও পুলিশের অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকালে তাদের কিছু মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে এডিশনাল ডিআইজি পদ মর্যাদায় আসীন পুলিশের একজন এসবির কর্মকর্তার সুস্পষ্ট বক্তব্যসহ আরও অনেকের জনস্বার্থ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যও প্রকাশিত হয়ে থাকে। যার প্রতিফলন এবারের পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে গণমাথ্যমে লক্ষ্য করা হয়ে থাকে। ৩০ জুন ২০১৯ ইং পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও চার জেলায় এসপির বডিগার্ড সহ আটক ১১ এই মর্মে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে থাকে। তাতে দেখা যায়, পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কঠোর হুশিয়ারীর পরও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নিয়োগ বাণিজ্য চলে। ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে চার জেলা থেকে এসপির বডিগার্ডসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইলে কনস্টেবলের চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের এস.আই (ঝঁন ওহংঢ়বপঃড়ৎ) মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মাদারীপুরে নিয়োগের কথা বলে কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মাদারীপুরে এসপির বডিগার্ড সহ চারজনকে ৭২ লাখ টাকাসহ আটক করেছে পুলিশ সদর দফতরের তদারকি টিম। তবে এদের পেছনে কি রয়েছে তা বুঝা খুবই মুশকিল।

এছাড়া নড়াইলে ভাতিজার নিয়োগের জন্য পুলিশ সুপারকে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার চেষ্টাকালে নূরুল ইসলাম নামে একজনসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এমন ঘটনা দেশের আরও অনেক জায়গায় সংগঠিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারদের কঠোর তদারকির কারণে অনেককেই আটক করার বিভিন্ন তথ্য, সূত্র ও গণমাধ্যম থেকে জানা যায়। কিশোরগঞ্জে কনস্টেবল নিয়োগে পুলিশ সুপারের স্বচ্ছতার কথা জানা যায়। এদিকে আরও জানা যায় এবার কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ, তদবির ও দুর্নীতি ঠেকাতে ৬৪ জেলায় শক্তিশালী তদারিক কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর। এ নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ঘুষ বাণিজ্য, নেপথ্যের কুশীলবদের ফিরিস্থি ও দায়ীদের আটকের ঘটনা। যাতে গণমাধ্যমে অনেক পুলিশ সুপারের আগাম সতর্কতা, বলিষ্টতা ও দৃঢ়চেতা মনোভাবের সুস্পষ্টতা প্রকাশ্য রূপ লাভ করে থাকে। যাতে দেখা যায়, পুলিশ সুপারদের মধ্যে যেমন ভালো লোক রয়েছে তেমনি ক্লিন ইমেজের পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছে। এবারের কনস্টেবল নিয়োগে আগেকার নিয়োগের চেয়ে যথেষ্ট সুস্পষ্টতা ফিরে আসার

কারণে কনস্টেবল নিয়োগ এ সময়ের জন্য যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক বলে অনেকেই মন্তব্য করেছে। এ নিয়ে বাছাইয়ের পর পুলিশ বিভাগে নিয়োজিত অনেক ডাক্তাররাও নাকি এ নিয়ে বাণিজ্য করে বলে ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়। সামান্য একটি তিল, কাটা দাগ ও জন্মগত দাগ চিহ্নের বিষয়েও তিলকে তাল, ছাগলকে হাতী ও বিড়ালকে সুন্দরবনের বাঘ (জড়ুধষ ইবহমধষ ঞরমবৎ) বানিয়ে নাকি অনেক কিছু করা হয়ে থাকে। এ বিষয়েও অনেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ সুদৃষ্টি কামনা করে থাকে বলে বিভিন্ন তথ্য ও সুত্রে জানা যায়।

সম্প্রতি তদবির বন্ধে খাদ্য অধিদপ্তর এক আদেশ জারি করে থাকে যা ৪ জুলাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জানা যায়, বদলী ও প্রাইজ পোস্টিংয়ের ব্যাপারে আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া হয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও এমপিদের (গবসনবৎ ড়ভ চধৎষরধসবহঃ) ডিও লেটার বা আধা সরকারি পত্র। এতে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে দায়িত্ব প্রাপ্তদের ওপর। তারা ন্যুনতম যাচাই বাছাই করা ছাড়াই তদবিরের ভিত্তিতে প্রাইজ পোস্টিং, বদলি ও নিয়োগ দিতে নাকি বাধ্য হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অযোগ্যরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে নিচ্ছে তেমনি রয়েছে চমক দৃশ্যপট। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ খাদ্য বিভাগই এমন একটি সার্কোলার জারি করতে বাধ্য হয়েছে। রাজনৈতিক তদবির বন্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ১৯৭৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ পূর্বক সম্প্রতি সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের এ সার্কোলারে। ভবিষ্যতে এ ধরণের তদবির করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেয়া হয় ওই অফিসে আদেশে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে জারি করা খাদ্য অধিদফতরের অফিস আদেশে বলা হয়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, খাদ্য অধিদপ্তরাধীন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আবেদন পত্রের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, এমপি ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সুপারিশ পত্র দাখিল করা হয়ে থাকে। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ এর বিধি ২০ এ উল্লেখ রয়েছে যে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী তার পক্ষে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো অনুরোধ বা কোনো প্রস্তাব নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে (উরৎবপঃ ড়ৎ ওহফরৎবপঃ) কোনো সংসদ সদস্য বা কোনো বেসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হতে পারবেনা। বিধি ৩০- এ বলা আছে সরকারি কর্মচারী তার চাকরি সংক্রান্ত কোনো দাবীর সমর্থনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার বা সরকারি কর্মচারীর ওপর কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বহিঃ প্রভাব খাটাতে পারবেনা। ৩০ এর সিতে বলা হয়েছে, সরকার বা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ পরিবর্তন, বদলানো, সংশোধন বা বাতিলের অনুচিত প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। এসব প্রবিধান লংঘন করা হলে সরকারি কর্মচারী শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা ২০১৮ এর আওতায় অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। সূত্রে আরও জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড), খাদ্য পরিদর্শক, গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে পদায়ন বদলিতেই বেশী অনিয়ম, দুর্নীতি হয়। এমনকি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলী করা হয়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি বদলীতে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন নাকি হয়ে থাকে। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পেতেই নাকি সবচেয়ে বেশী টাকার লেনদেন হয়। এই অবস্থার মধ্যে তদবির বন্ধে উল্লেখিত সতর্কতামূলক সার্কোলার জারি করল খাদ্য অধিদপ্তর।

নিবন্ধের প্রেক্ষাপট টেনে বলত হয়, আগুন নিয়ে খেলা কারও জন্যে শুভ হয়না। আগুনের লেলিহান শিখা জাত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে কাহাকেও ক্ষমা করে না। আগুনের বিধ্বংসী ধর্ম কারও না জানার কথা নয়। ঘুষ, দুর্নীতি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মৃদু ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। রেক্টার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও পরাহত বলে অনেকেই মনে করে থাকে। সাইক্লোন, ঘুর্ণি, টর্নেডো, গোর্কি, সুনামি, সামুদ্রিক জলোচ্ছাস ও আগুনের লেলিহান শিখা কাহাকেও ক্ষমা করে না। ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের দ্বিতীয় বিপ্লব, ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্ট ও ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের নামে যে কান্ড হয়ে গেছে তা এত সহজে ভুলে যাওয়ার কথা নয়। উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারকগণ ইতিমধ্যে বিভিন্ন মামলার শুনানীতে উপমা টেনে বলতে শুরু করছেন, দুর্নীতি মামলায় সম্পৃক্ত আসামী ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতার করছেন না কেন। ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও বড়। বলতে শুরু করেছেন, কিছু কিছু ডিসি-ওসি নিজেদেরকে জমিদার মনে করেন। অনেকের আমলনামায় আরও কত কিছু যে অপেক্ষা করছে, হয়তো এসব কিছু আমরা জানি না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন বারবার বলেছেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জান না। সাধু সাবধান।

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.